ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার ঈশ্বরদীতে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি ও মারধরের অভিযোগও করেছেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই নুর আলম বাপ্পি বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বেদুনদিয়া এলাকার লতা খাতুনের সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে জয়নগর শিমুলতলা গ্রামের রেজাউল করিম খানের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লতা খাতুনকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে রেজাউল করিম খান আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লতা খাতুনকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া, কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই শিশুসন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

পরে স্বজনরা আহত লতা খাতুনকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

লতা খাতুন অভিযোগ করেন, এর আগেও তার স্বামীর চারটি বিয়ে হয়েছিল। নির্যাতনের কারণে আগের স্ত্রীরাও সংসার ছেড়ে চলে যান। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় তাকে মারধর, গলা চেপে ধরা, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী পরিচালিত একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে থেরাপি ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন নারীকে এনে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এসবের প্রতিবাদ করলেই তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রেজাউল করিম খান। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ থেকে ঘটনা ঘটেছে। তিনি স্ত্রীকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারার কথা স্বীকার করলেও ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় :

পাবনার ঈশ্বরদীতে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি ও মারধরের অভিযোগও করেছেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই নুর আলম বাপ্পি বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বেদুনদিয়া এলাকার লতা খাতুনের সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে জয়নগর শিমুলতলা গ্রামের রেজাউল করিম খানের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে লতা খাতুনকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে রেজাউল করিম খান আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লতা খাতুনকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া, কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই শিশুসন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

পরে স্বজনরা আহত লতা খাতুনকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

লতা খাতুন অভিযোগ করেন, এর আগেও তার স্বামীর চারটি বিয়ে হয়েছিল। নির্যাতনের কারণে আগের স্ত্রীরাও সংসার ছেড়ে চলে যান। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় তাকে মারধর, গলা চেপে ধরা, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী পরিচালিত একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে থেরাপি ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন নারীকে এনে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এসবের প্রতিবাদ করলেই তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হতো।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রেজাউল করিম খান। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ থেকে ঘটনা ঘটেছে। তিনি স্ত্রীকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারার কথা স্বীকার করলেও ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।