সবজিতে সেঞ্চুরী স্থিতিশীল মাছ-মাংসে
ঈদ উত্তাপে গরম মসলার বাজার
- আপডেট সময় : ১৩১ বার পড়া হয়েছে
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরম মসলার বাজার। বিশেষ করে আদা ও রসুনের দাম চড়া। চট্টগ্রামে বেড়েছে ডিমের দামও। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দাম সেঞ্চুরী করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এই সময়ে আরো বেশি দেখা গেছে। গবাদি পশুর খাদ্যের দাম, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে ময়মনসিংহে বাড়তি গরুর মাংসের দর। অন্যদিকে বরিশালে চড়া মাছের বাজার।
আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন মসলার দাম। চট্টগ্রামের বাজারে বেড়েছে ডিম ও আদা-রসুনের দাম। নগরের কর্ণফুলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, আদার দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে মানভেদে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। রসুনের দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকায় ঠেকেছে।এ দাম বৃদ্ধি সব দোকানে সমান নয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। আর ব্যবসায়ীরা জানান, একেক বিক্রেতা একেক পাইকারি দোকান থেকে ভিন্ন সময়ে পণ্য কেনায় খুচরা বাজারে এই দরের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দাম সেঞ্চুরী করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এই সময়ে আরো বেশি দেখা গেছে। গত এক মাসের ব্যবধানে কাঁচাবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে। ঢাকার শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন, বরবটি, কাঁচামরিচ ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। কোথাও কোথাও তারও বেশি দামে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারগুলোতে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং করলাও ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাজারে টমেটো, শসা ও পটোলের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। লাউ প্রতিটি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি ৬০ টাকা। আর শিম ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি পিসপ্রতি ৭০-৮০ টাকা এবং মুলা ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তানি মুরগি ৩৫০ টাকা, ছোট কক ৩৬০ টাকা ও বড় কক ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা। প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১৪০ টাকা ও সাদা ডিম ১২৫/১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
শান্তিনগরের সবজি ব্যবসায়ী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। এ ছাড়া কালবৈশাখী ঝড় মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সবজি উৎপাদন কমে গেছে। আর যেসব সবজি পাওয়া যায় সেগুলোর পাইকারি বাজারেও দাম চড়া। এসব কারণে সবজির বাজারে দাম বেড়ে গেছে। তবে বৃষ্টি কমলে কয়েক দিন পর দাম স্বাভাবিক হবে কি না সেটাই দেখার বিষয়।
মালিবাগের আরেক সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কৃষকের উৎপাদিত সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আমি সব সময় সরাসরি মাঠ থেকে সবজি কিনে বিক্রি করি। এবারের বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে, আর যেগুলো সংরক্ষণ করেছিলে সেগুলো পরিবহনের জটিলতায় পচে গেছে। তাই এসব কারণেই বাজারে সবজির দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে ক্রেতারা জানান, তিন-চার দিনের মধ্যে কেজি প্রতি ২০ টাকা ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। তবে পেঁয়াজের দাম আগের মতোই আছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ জনগণ আর কিছু কিনতে পারবে না। মসলা কোনোটাই কম নেই।
এদিকে সরগরম ময়মনসিংহের মেছুয়া বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে বয়লার মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। অপরিবর্তিত রয়েছে কক-সোনালী মুরগীর দামও। এছাড়া কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। ক্রেতারা জানান, দ্রব্যমূল্যের এত ঊর্ধ্বগতি দেয়ালে পিঠ ঠেকার মতো। মানুষের থেকে গরুর খাবারের দাম বেশি।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের সবজির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিক্রেতারা জানান, ইলিশ মাছ আগে বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা করে সে মাছ আজকে ১৪৫০-১৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নদীতে মাছ নেই। একদিকে অভিযান। মাছ না থাকলে তো দাম চড়া হবেই
বরিশালে চড়া মাছ বাজার। সমূদ্রে নিষেধাজ্ঞার কারণে সরবরাহ কম থাকায় ইলিশসহ বেশিরভাগ মাছের দাম বাড়তি। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০০-২৫০ টাকা বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম। এছাড়া ১০-৩০ টাকা বেড়ে পোয়া, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়াসহ সব ধরনের মাছের দর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসব এলেই বাজারে তদারকির অভাবে দাম বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাইকারি ও খুচরা, উভয় পর্যায়ে প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
//////

















