ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

এয়ারফ্লো মেশিনেও পচছে পেঁয়াজ, ক্ষতির শঙ্কায় রাজবাড়ীর কৃষক

আতিয়ার রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত এয়ারফ্লো মেশিনেও হাইব্রিড জাতের অধিকাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তবে দেশি ও লালতীর জাতের পেঁয়াজে তুলনামূলকভাবে পচন কম দেখা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রণোদনার আওতায় জেলায় ১ হাজার ৬৫০ জন কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা এসব মেশিনে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলেও দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সুখসাগর, ডন সুপার, বিপ্লব সুপার, যুবরাজ সুপার, রঙ্গিলা-৭, সুফলা ডন, রঞ্জু সুপার, চায়না থ্রি, সুপ্রিম-৯৯৯, পলিক্রস ও আরকেসহ ১৩টি হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজে পচন ধরেছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছরে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে পেঁয়াজে আর্দ্রতা ও রসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষণক্ষমতা কমে গেছে। এছাড়া অপরিপক্ব পেঁয়াজ সংরক্ষণ এবং মেশিনের ধারণক্ষমতার বেশি পেঁয়াজ রাখাও পচনের অন্যতম কারণ। হাইব্রিড জাতের এসব পেঁয়াজ মূলত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণের উপযোগী হলেও দীর্ঘদিন মেশিনে রাখায় ক্ষতি বেড়েছে।

চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৭ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ জাতের পেঁয়াজের প্রায় ৪১ শতাংশ পর্যন্ত পচনের ঝুঁকি রয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার কৃষক প্রাণেশ বিশ্বাস বলেন, অনেক খরচ করে পেঁয়াজ উৎপাদন করেছি। সংরক্ষণের জন্য সরকার মেশিন দিলেও পেঁয়াজ রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে আমরা হতাশ।

কৃষক মোস্তফা শেখ বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম কম, তার ওপর সংরক্ষিত পেঁয়াজও পচে যাচ্ছে। এভাবে লোকসান হলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষক কালিদাস বৈরাগী ও ভবেশ সরকার বলেন, হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ এয়ারফ্লো মেশিনে রাখলেও তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে দেশি ও লালতীর জাতের পেঁয়াজ ভালো রয়েছে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. হোসেন শহীদ সরোওয়ার্দী বলেন, আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর হাইব্রিড পেঁয়াজের সংরক্ষণক্ষমতা কমেছে। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণের উপযোগী জাতগুলো দীর্ঘ সময় মেশিনে রাখার কারণেও পচন বেড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এয়ারফ্লো মেশিনেও পচছে পেঁয়াজ, ক্ষতির শঙ্কায় রাজবাড়ীর কৃষক

আপডেট সময় :

রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত এয়ারফ্লো মেশিনেও হাইব্রিড জাতের অধিকাংশ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তবে দেশি ও লালতীর জাতের পেঁয়াজে তুলনামূলকভাবে পচন কম দেখা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রণোদনার আওতায় জেলায় ১ হাজার ৬৫০ জন কৃষকের মধ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা এসব মেশিনে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলেও দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সুখসাগর, ডন সুপার, বিপ্লব সুপার, যুবরাজ সুপার, রঙ্গিলা-৭, সুফলা ডন, রঞ্জু সুপার, চায়না থ্রি, সুপ্রিম-৯৯৯, পলিক্রস ও আরকেসহ ১৩টি হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজে পচন ধরেছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছরে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে পেঁয়াজে আর্দ্রতা ও রসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষণক্ষমতা কমে গেছে। এছাড়া অপরিপক্ব পেঁয়াজ সংরক্ষণ এবং মেশিনের ধারণক্ষমতার বেশি পেঁয়াজ রাখাও পচনের অন্যতম কারণ। হাইব্রিড জাতের এসব পেঁয়াজ মূলত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণের উপযোগী হলেও দীর্ঘদিন মেশিনে রাখায় ক্ষতি বেড়েছে।

চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৭ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এ জাতের পেঁয়াজের প্রায় ৪১ শতাংশ পর্যন্ত পচনের ঝুঁকি রয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার কৃষক প্রাণেশ বিশ্বাস বলেন, অনেক খরচ করে পেঁয়াজ উৎপাদন করেছি। সংরক্ষণের জন্য সরকার মেশিন দিলেও পেঁয়াজ রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে আমরা হতাশ।

কৃষক মোস্তফা শেখ বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম কম, তার ওপর সংরক্ষিত পেঁয়াজও পচে যাচ্ছে। এভাবে লোকসান হলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষক কালিদাস বৈরাগী ও ভবেশ সরকার বলেন, হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ এয়ারফ্লো মেশিনে রাখলেও তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে দেশি ও লালতীর জাতের পেঁয়াজ ভালো রয়েছে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. হোসেন শহীদ সরোওয়ার্দী বলেন, আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর হাইব্রিড পেঁয়াজের সংরক্ষণক্ষমতা কমেছে। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণের উপযোগী জাতগুলো দীর্ঘ সময় মেশিনে রাখার কারণেও পচন বেড়েছে।