ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ডিমলায় উদ্ধার হওয়া ভারতীয় গরু বিক্রির অভিযোগ

ডিমলা(নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা এলাকায় তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি শাহীওয়াল জাতের গরুর মধ্যে দুটি গরু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন উদ্ধারকারী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও উদ্ধারকারী মিন্টু ইসলামের পরিবারের দাবি, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে ভারত থেকে অবৈধভাবে পাচারের সময় তিনটি গরু দলছুট হয়ে ছোটখাতা এলাকায় চলে আসে। পরে মিন্টু ইসলাম গরু তিনটি উদ্ধার করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি গরুর মালিকানা দাবি করে দুটি গরু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান। এরপর গরু দুটি স্থানীয় দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
মিন্টু ইসলামের স্ত্রীর ভাষ্য, গরু উদ্ধারের পর আন্তর্জাতিক চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের স্থানীয় সহযোগীরা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে গরু দুটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, “১৯ তারিখ সকালে মিন্টু তিনটি গরু উদ্ধার করে। পরদিন বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি মালিক দাবি করে গরু নিয়ে যায়।”
নুর আলম বলেন, “রাত হওয়ায় এক রাতের জন্য আমার বাড়িতে গরু রাখা হয়েছিল। পরদিন সকালে গরু নিয়ে যাওয়া হয়। আমি গরু কিনিনি।”
গরু কেনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফর রহমান বলেন, “হক টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। আপনাদের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে কেন? আমাদের কাছে কোনো গরু নেই।” এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে জাফর খাঁন বলেন, “এসব গরু ব্যক্তিমালিকানার।” অপরদিকে অভিযোগে নাম আসা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।”
খালিশা চাপানি ইউনিয়ন বিট অফিসার ও এসআই এনামুল হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে শুনলেও স্পষ্ট ধারণা নেই।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান বলেন, “তথ্য পাওয়ার পর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি, ঘটনাস্থল আমাদের দায়িত্বাধীন সীমান্ত এলাকার মধ্যে পড়ে না।”
স্থানীয়দের দাবি, তিস্তা নদীপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে গরুর পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যও পাচার হয়। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ জোরদারের দাবি জানান তারা।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিমলায় উদ্ধার হওয়া ভারতীয় গরু বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা এলাকায় তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি শাহীওয়াল জাতের গরুর মধ্যে দুটি গরু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন উদ্ধারকারী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও উদ্ধারকারী মিন্টু ইসলামের পরিবারের দাবি, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে ভারত থেকে অবৈধভাবে পাচারের সময় তিনটি গরু দলছুট হয়ে ছোটখাতা এলাকায় চলে আসে। পরে মিন্টু ইসলাম গরু তিনটি উদ্ধার করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি গরুর মালিকানা দাবি করে দুটি গরু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান। এরপর গরু দুটি স্থানীয় দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
মিন্টু ইসলামের স্ত্রীর ভাষ্য, গরু উদ্ধারের পর আন্তর্জাতিক চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের স্থানীয় সহযোগীরা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে গরু দুটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, “১৯ তারিখ সকালে মিন্টু তিনটি গরু উদ্ধার করে। পরদিন বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি মালিক দাবি করে গরু নিয়ে যায়।”
নুর আলম বলেন, “রাত হওয়ায় এক রাতের জন্য আমার বাড়িতে গরু রাখা হয়েছিল। পরদিন সকালে গরু নিয়ে যাওয়া হয়। আমি গরু কিনিনি।”
গরু কেনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফর রহমান বলেন, “হক টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। আপনাদের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে কেন? আমাদের কাছে কোনো গরু নেই।” এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে জাফর খাঁন বলেন, “এসব গরু ব্যক্তিমালিকানার।” অপরদিকে অভিযোগে নাম আসা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।”
খালিশা চাপানি ইউনিয়ন বিট অফিসার ও এসআই এনামুল হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে শুনলেও স্পষ্ট ধারণা নেই।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজিউর রহমান বলেন, “তথ্য পাওয়ার পর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি, ঘটনাস্থল আমাদের দায়িত্বাধীন সীমান্ত এলাকার মধ্যে পড়ে না।”
স্থানীয়দের দাবি, তিস্তা নদীপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে গরুর পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যও পাচার হয়। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ জোরদারের দাবি জানান তারা।