ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এক মাসে পাঁচ খুন, বাহুবলের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা Logo তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান ছামাদ Logo কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক রুবেল হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন Logo কেশবপুরে তৃষার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পাশে রিইব Logo মুকসুদপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo মাদকের পক্ষে তদবিরকারীদেরও গ্রেপ্তারের হুশিয়ারি খায়রুল কবির খোকনের Logo বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের স্মারকলিপি Logo খালিয়াজুরীতে ধনু নদে আবারও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ Logo ইসলামপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের ছাতা ও গাছের চারা বিতরণ Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২২

খালিয়াজুরীতে ধনু নদে আবারও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধনু নদ থেকে আবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি একটি চক্র দিন-রাত নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু তুলছে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি নদীভাঙন ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচহাট ও আন্দাইর গ্রামের বিপরীত পাশে ধনু নদীর তীরবর্তী বাগানীর চর এলাকা থেকে কয়েকদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নুরালীপুর ও পাতরা গ্রামসংলগ্ন এলাকাতেও রাতের আঁধারে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, উত্তোলিত বালু নৌপথে ও ট্রলারের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা ও চামটা এলাকায় এসব বালু বিক্রি করা হচ্ছে বলে তারা জানান। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচহাট গ্রামের বাসিন্দা আপনুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর একটি সিন্ডিকেট আবারও ধনু নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা এ কাজে জড়িত। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পারভেজ বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা বালু উত্তোলন করছেন। উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ বিষয়টি জানে। তবে কী ধরনের অনুমতি রয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল ছোটন দাবি করেন, তাঁদের দলের কয়েকজন বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তারা আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েছেন বলে শুনেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নথি দেখাতে পারেননি।

উল্লেখ্য, গত বছর একই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক এবং জরিমানা করেছিল। এরপর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লেপসিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জগতজ্যোতি চৌধুরী বলেন, পাঁচহাটের আন্দাইর ও বাগানী এলাকায় বালু উত্তোলনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ধনু নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অলিদুজ্জামান বলেন, পাঁচহাট এলাকায় ধনু নদ থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা লিখিত অনুমতির দাবি করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের দেখানো একটি অনুমতিপত্রের কপি পাওয়া গেছে, সেটি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুসফিকুর রহমান বলেন, পাঁচহাটের আন্দাইর ও বাগানী এলাকায় ধনু নদ থেকে বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খালিয়াজুরীতে ধনু নদে আবারও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট সময় :

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধনু নদ থেকে আবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি একটি চক্র দিন-রাত নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু তুলছে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি নদীভাঙন ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচহাট ও আন্দাইর গ্রামের বিপরীত পাশে ধনু নদীর তীরবর্তী বাগানীর চর এলাকা থেকে কয়েকদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নুরালীপুর ও পাতরা গ্রামসংলগ্ন এলাকাতেও রাতের আঁধারে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, উত্তোলিত বালু নৌপথে ও ট্রলারের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা ও চামটা এলাকায় এসব বালু বিক্রি করা হচ্ছে বলে তারা জানান। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাঁচহাট গ্রামের বাসিন্দা আপনুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর একটি সিন্ডিকেট আবারও ধনু নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা এ কাজে জড়িত। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পারভেজ বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা বালু উত্তোলন করছেন। উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ বিষয়টি জানে। তবে কী ধরনের অনুমতি রয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল ছোটন দাবি করেন, তাঁদের দলের কয়েকজন বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তারা আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েছেন বলে শুনেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নথি দেখাতে পারেননি।

উল্লেখ্য, গত বছর একই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক এবং জরিমানা করেছিল। এরপর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লেপসিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জগতজ্যোতি চৌধুরী বলেন, পাঁচহাটের আন্দাইর ও বাগানী এলাকায় বালু উত্তোলনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ধনু নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অলিদুজ্জামান বলেন, পাঁচহাট এলাকায় ধনু নদ থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বলা হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা লিখিত অনুমতির দাবি করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের দেখানো একটি অনুমতিপত্রের কপি পাওয়া গেছে, সেটি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুসফিকুর রহমান বলেন, পাঁচহাটের আন্দাইর ও বাগানী এলাকায় ধনু নদ থেকে বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে।