ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

নবীনগরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত

আবদুল হাদী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা, অনিয়মিত উপস্থিতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

অভিযোগে বলা হয়, ১৬ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের সময় প্রধান শিক্ষক মিন্টু মিয়া উজ্জ্বল সরকারকে উপস্থিতির সময় উল্লেখ করতে বললে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল সরকার প্রধান শিক্ষককে আঘাত করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকরা বাধা দিলে তিনি লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে নিরাপদে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ে আগুন দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক মিন্টু মিয়া বলেন, উজ্জ্বল সরকার বিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মানেন না এবং অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ঘটনার পর তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করেছেন।

সহকারী শিক্ষিকা মুক্তা আক্তার বলেন, উজ্জ্বল সরকারের আচরণে শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, উজ্জ্বল সরকারের আচরণ অস্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার ডোপ টেস্ট করার দাবি জানান তারা।

নবীনগর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক ভূঁইয়া বলেন, উজ্জ্বল সরকারের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে লিখিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডোপ টেস্টের দাবির বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নবীনগরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত

আপডেট সময় :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা, অনিয়মিত উপস্থিতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

অভিযোগে বলা হয়, ১৬ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের সময় প্রধান শিক্ষক মিন্টু মিয়া উজ্জ্বল সরকারকে উপস্থিতির সময় উল্লেখ করতে বললে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উজ্জ্বল সরকার প্রধান শিক্ষককে আঘাত করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকরা বাধা দিলে তিনি লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে নিরাপদে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ে আগুন দেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক মিন্টু মিয়া বলেন, উজ্জ্বল সরকার বিদ্যালয়ের নিয়মনীতি মানেন না এবং অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসেন। এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ঘটনার পর তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করেছেন।

সহকারী শিক্ষিকা মুক্তা আক্তার বলেন, উজ্জ্বল সরকারের আচরণে শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, উজ্জ্বল সরকারের আচরণ অস্বাভাবিক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তার ডোপ টেস্ট করার দাবি জানান তারা।

নবীনগর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক ভূঁইয়া বলেন, উজ্জ্বল সরকারের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে লিখিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডোপ টেস্টের দাবির বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।