বর্ষায় প্রবীণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ
- আপডেট সময় : ৪৫ বার পড়া হয়েছে
বর্ষাকাল প্রকৃতিতে স্বস্তি নিয়ে এলেও প্রবীণদের জন্য এটি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সময়। এ সময় আর্দ্রতা বৃদ্ধি, তাপমাত্রার ওঠানামা, দূষিত পানি, মশাবাহিত রোগ এবং ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে যায়। বয়সের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রবীণরা সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই বর্ষায় তাদের সুস্থ রাখতে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্ষায় প্রবীণদের যেসব রোগ বেশি হয়
ঠান্ডাজনিত রোগ: ঋতু পরিবর্তনের কারণে সর্দি, কাশি, ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। গরম পানি পান, ভেজা কাপড় দ্রুত বদলে ফেলা এবং শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া: বর্ষায় এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে। উচ্চ জ্বর, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। মশারি ব্যবহার এবং আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
টাইফয়েড, ডায়রিয়া ও আমাশয়: দূষিত খাবার ও পানির কারণে এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশুদ্ধ ও ফুটানো পানি পান, নিরাপদ খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে ওরস্যালাইন সেবন করতে হবে।
গাঁটের ব্যথা: আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেক প্রবীণের হাঁটু ও কোমরের ব্যথা বেড়ে যায়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, গরম সেঁক এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থাকলে উপকার পাওয়া যায়।
ত্বকের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ: শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা, প্রতিদিন পরিষ্কার কাপড় পরা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
মানসিক স্বাস্থ্য: দীর্ঘ সময় ঘরে থাকা, একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া ও সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা উপকারী।
পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি: বর্ষায় পিচ্ছিল পরিবেশে প্রবীণদের পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই হাঁটার সময় সতর্ক থাকা, প্রয়োজনে লাঠি বা ওয়াকার ব্যবহার এবং ঘরের মেঝে শুকনো রাখা প্রয়োজন।
বর্ষায় প্রবীণদের জন্য করণীয়
- বিশুদ্ধ ও ফুটানো পানি পান করুন।
- পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।
- ভেজা কাপড় দ্রুত বদলে ফেলুন।
- নিয়মিত হাত ধুয়ে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
- মশারি ব্যবহার করুন এবং আশপাশে পানি জমতে দেবেন না।
- নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করুন।
- প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখুন।
হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে সতর্কতা
হোমিওপ্যাথিতে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। তাই রোগের নাম শুনে বা অন্যের পরামর্শে কোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। এ ধরনের চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত ও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বর্ষাকালে প্রবীণদের সুস্থ রাখতে পরিবারের সদস্যদের সচেতন ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ওষুধ সেবন, মানসিক সুস্থতা এবং নিরাপদ চলাফেরার প্রতি বিশেষ নজর দিলে অনেক রোগ ও জটিলতা এড়ানো সম্ভব। সামান্য যত্ন ও সময়মতো চিকিৎসাই প্রবীণদের নিরাপদ ও সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে পারে।
লেখক: ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ
কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি




















