হামে শিশুর মৃত্যু, ৪১ দিনেও কান্না থামেনি মায়ের
- আপডেট সময় : ৩২ বার পড়া হয়েছে
নড়িয়া (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
মায়ের চোখে চোখ রেখে আর হাসবে না। আর খেলবে না। ক্ষুদা পেয়ে আর কাদবে না। ৯ মাস ২০ দিন বয়সের শিশু সাউদা মুসকান ২৭ দিন বাচার সংগ্রাম করে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে চলে গেছে চীর তরে। আর ফিরে আসবে না। শুধু রয়ে গেল পরিবারে তার ছোট স্মৃতিসহ মা বাবার ভালবাসা আদরে রাখা নাম সাউদা মোসকান।
ফুটফুটে কন্যা শিশু সাউদা মোসকান হামে আক্রান্ত হয় গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে । টানা ২৪ দিন চিকিৎসা নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে। সুস্থ্য না হলেও ঈদের আগে দিন ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঈদের পরের দিন শ্বাসকষ্ট দেখাদিলে পুনরায় ঢাকা মেডিকেলে নিলে শিশুটিকে মহাখালী বক্কব্যধি হাসপাতালে রেফার্ড করে কর্তব্যরত ডাক্তার।
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ও পরে মহাখালী বক্কব্যধি হাসপাতালে মোট ২৭ দিন মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করে অবশেষে ২৬ মার্চ মায়ের কোলছেড়ে বিদায় নেয় মুসকান। আদরের সন্তানকে নিজবাড়ী শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার গঙ্গানগরে এনে ২৭ মার্চ কবর দেন পিতা সিরাজ সরদার।
দরিদ্র হওয়ায় সন্তান হারানোর চাপা কষ্ট বুকে নিয়েই পরিবারের অন্যদের বাচাতে দুমোঠো আহার যোগাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার কারখানায় কাজে যোগদেন । কিন্তু সন্তান হারিয়ে পাগল প্রায় মা তাবাসসুম লুবনা রয়েছে সন্তানের কবরের পাশে।
আজ মৃত্যুর ৪২ দিন পার হলেও থামেনি সন্তান হারা বাবা মায়ের আহাজারি। কবরের পাশে বসে অবুঝ শিশুটির মায়ামাখামুখ ও স্মৃতি মনে করেই ব্যাদনার বাধভাঙা অশ্রুতে ভিজে যাচ্ছে সর্বদা মায়ের বুক।
সন্তানের কবরের পাশে কেঁদে কেঁদে কাটে মায়ের সময়। তার কান্না আহাজারিতে শোকে ভারী হয়ে আছে পরিবেশ।
নাতনিকে হারিয়ে শোকাহত দাদা দাদি। মহান আল্লাহর দরবারে প্রতিদিন দোয়া করছেন প্রিয় নাতনির জন্য।
প্রতিবেশীরাও এসে দিয়ে যাচ্ছেন শান্তনা। কিন্তু কোন শান্তনাই বুকের মানিক সন্তান হারানোর যন্ত্রনার ঝড় থামাতে পারেনি। যেন এই ঝড়ে বুক ফেটে যাচ্ছে।
পরিবার আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশির শান্তনায়ও থামেনি মায়ের কান্না। বসত ঘরে বিছায় পড়ে আছে মুসকানের মাথার বালিশ। আর এই বালিশটি বুকে জড়িয়ে যেন মুসকানের গায়ের গন্ধ নিয়ে একটু শান্তনা খুজেন মা। মুসকানের বালিশ, মোবাইলে ছবি আর কবর স্পর্শ করেই কাটে সময়।
মৃত্যুর আগমুহূর্তে বক্কব্যাধি হাসপাতালে নার্স ও ডাক্তারদের অবহেলা আর ঐ দিন দায়িত্বরত নার্সের অমানবিক আচরণ তার কষ্ট আরো বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছেন।
তার সন্তানের মৃত্যুর দায় দিয়েছেন অন্তবর্তিন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের উপর। তার বিশ্বাস হামের টিকা পেলে তার আদরের কন্যা মুসকান হামে আক্রান্ত হতো না। মাত্র ৯মাস ২০ দিন বয়সে তার জীবনের অবসান হতো না। টিকা না পাওয়ায় মারা গেছে মুসকান। সন্তান হারানোর যন্ত্রনা বুকে চেপে বিচার চেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা সহ স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
এদিকে মায়ের কান্না থামাতে চোখের জল মুছে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করে ছোট শিশু তারই বড় কন্যা তোহা। মায়ের গলা জড়িয়ে মায়ের কান্না থামানোর চেষ্টা করে সে বড়দের মত । আবার ক্ষনে ক্ষনে ছোট আদবের বোনটির কথা মনে করেই মায়ের সাথে কান্নায় জড়িয়ে ধরে ফেলেন কান্না করে চোখের জল। টিকার অভাবে মুসকানের মৃত্যু হয়েছে জেনেছে ৬ বছরের শিশু তোহা । টিকা না দিয়েই ছোটবোনকে মেরে ফেলেছে এমন অভিযোগ এনে বিচার চেয়েছেন টিকা না দেওয়ার সাথে জড়িতদের।
মুসকানের দাদা, দাদি ও প্রতিবেশীরা মুসকানের মৃত্যুতে দায়ি করছেন বিগত সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের। টিকা দেনের ব্যার্থতা ও স্বাস্থ্য সেবার অব্যবস্থাপনার বিচার চেয়েছেন তারা
দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসা নিয়েও বাচতে পারেনি ফুটফুটে ৯ মাস ২০ দিনের শিশু সাউদা মুসকান। তার মত প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অসংখ্য শিশু। যারা দেশের মানুষের দায়িত্ব নিয়েছিল তার কি করে এই শিশু মৃত্যুর দায় এড়াবে। মুসকানের মায়ের আহাজাড়ির কান্নামত রয়েছে দেশ জুড়ে হাজারো মায়ের কান্না আহাজারি। রয়েছিল সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনায় হামের টিকা দানের অবহেলা। যার কারনেই ঝড়ে গেল মুসকানের মত হাজারো শিশুর প্রান। এ মৃত্যু যেন শিশু হত্যাকান্ড। এর বিচারের সন্তান হারানো পরিবারের। এসহায় সন্তান হারানো পরিবারের পাশে কি দাড়াবে বর্তমান সরকার?
স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে শিশুদের নিরাপদ জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করে বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ।
কিন্তু হঠাৎ করেই টিকা আমদানি বন্ধ করে শিশুদের টিকা দিতে ব্যর্থ হয় বিগত অন্তবর্তিন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ । টিকার অভাবে তাই হঠাৎ করেই শিশু মৃত্যুে হার বেড়ে যায়। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছে জাতির ভবিষ্যৎ শিশুরা। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার টিকা আমদানি করে সরবরাহের কাজ শুরু করলেও বিগত সরকারের উদাসীনতার খেসারত আর কতটা দিতে হবে তা জানা নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। এদিকে শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের । বর্তমানে হামরুবেলার সচেতনতায় প্রচার প্রচারনা করে সচেতনতা বাড়ানো ও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।



















