ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ঘুমধুমে ‘টিভি টাওয়ার’ গরু বাজারে প্রাণ ফিরেছে স্থানীয় অর্থনীতিতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের টিভি টাওয়ার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত গরু বাজারটি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ২০১৮ সালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ সৈয়দুল বশর উদ্যোগ নিয়ে বাজারটি চালু করার পর থেকে ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে গরু বা অন্যান্য গবাদিপশু বিক্রির জন্য ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কষ্ট করে উখিয়া বাজারে যেতে হতো। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ঝুঁকিও ছিল। টিভি টাওয়ার গরু বাজার চালু হওয়ার পর এসব ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের কৃষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আগে গরু বিক্রি করতে হলে ভোরে বের হয়ে উখিয়া যেতে হতো। গাড়ি ভাড়া, খাবার খরচ—সব মিলিয়ে লাভ কমে যেত। এখন কাছেই বাজার হওয়ায় আমরা সহজেই গরু বিক্রি করতে পারছি।”
স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, “এই বাজার হওয়ার পর ব্যবসা বেড়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন। সপ্তাহে একদিন হলেও এখানে ভালো বেচাকেনা হয়। অনেক পরিবার এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল।”
বাজারের পাশে ছোট দোকান চালানো হালিমা খাতুন বলেন, “গরু বাজার বসলে আমাদের দোকানে বিক্রি বাড়ে। চা, খাবার, পান-সিগারেট—সবকিছুর চাহিদা থাকে। বাজার না হলে আমাদের আয় কমে যায়।”
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক মো. জসিম উদ্দিনের মতে, “বাজারের দিন ভ্যান ও পিকআপে পশু আনা-নেওয়া হয়। এতে আমরা কাজ পাই। বাজার বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের আয় কমে যাবে।”
উদ্যোক্তা সৈয়দুল বশর বলেন, “এই গরু বাজারটি মানুষের সুবিধার জন্য করা হয়েছিল। আগে এখানে কোনো বেচাকেনাই হতো না। এখন হাজার হাজার মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হচ্ছেন। যদি মানুষের উপকার করতে না পারতাম, তাহলে বাজার টিকত না। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বাজারটি বন্ধের চেষ্টা করছে—যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু মানুষের রিজিকের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ যদি এই বাজারে আমার রিজিক রাখেন, তাহলে আমি মানুষের সুবিধার জন্য বাজার চালু রাখার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বাজারটি টিকিয়ে রাখতে হলে শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয় জরুরি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে টিভি টাওয়ার গরু বাজার ঘুমধুম ইউনিয়নের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঘুমধুমে ‘টিভি টাওয়ার’ গরু বাজারে প্রাণ ফিরেছে স্থানীয় অর্থনীতিতে

আপডেট সময় :

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের টিভি টাওয়ার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত গরু বাজারটি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি এনেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ২০১৮ সালে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ সৈয়দুল বশর উদ্যোগ নিয়ে বাজারটি চালু করার পর থেকে ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে গরু বা অন্যান্য গবাদিপশু বিক্রির জন্য ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কষ্ট করে উখিয়া বাজারে যেতে হতো। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ঝুঁকিও ছিল। টিভি টাওয়ার গরু বাজার চালু হওয়ার পর এসব ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
ঘুমধুম ইউনিয়নের কৃষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আগে গরু বিক্রি করতে হলে ভোরে বের হয়ে উখিয়া যেতে হতো। গাড়ি ভাড়া, খাবার খরচ—সব মিলিয়ে লাভ কমে যেত। এখন কাছেই বাজার হওয়ায় আমরা সহজেই গরু বিক্রি করতে পারছি।”
স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, “এই বাজার হওয়ার পর ব্যবসা বেড়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন। সপ্তাহে একদিন হলেও এখানে ভালো বেচাকেনা হয়। অনেক পরিবার এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল।”
বাজারের পাশে ছোট দোকান চালানো হালিমা খাতুন বলেন, “গরু বাজার বসলে আমাদের দোকানে বিক্রি বাড়ে। চা, খাবার, পান-সিগারেট—সবকিছুর চাহিদা থাকে। বাজার না হলে আমাদের আয় কমে যায়।”
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক মো. জসিম উদ্দিনের মতে, “বাজারের দিন ভ্যান ও পিকআপে পশু আনা-নেওয়া হয়। এতে আমরা কাজ পাই। বাজার বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের আয় কমে যাবে।”
উদ্যোক্তা সৈয়দুল বশর বলেন, “এই গরু বাজারটি মানুষের সুবিধার জন্য করা হয়েছিল। আগে এখানে কোনো বেচাকেনাই হতো না। এখন হাজার হাজার মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হচ্ছেন। যদি মানুষের উপকার করতে না পারতাম, তাহলে বাজার টিকত না। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বাজারটি বন্ধের চেষ্টা করছে—যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু মানুষের রিজিকের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ যদি এই বাজারে আমার রিজিক রাখেন, তাহলে আমি মানুষের সুবিধার জন্য বাজার চালু রাখার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বাজারটি টিকিয়ে রাখতে হলে শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয় জরুরি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে টিভি টাওয়ার গরু বাজার ঘুমধুম ইউনিয়নের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।