অবৈধ স’মিল গিলে খাচ্ছে বনের গাছ, মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ৬০ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের রাজারকুল রেঞ্জে প্রকাশ্যে বন ধ্বংসের মহোৎসব চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আপাররেজু বনবিট ও দারিয়ারদীঘি বনবিট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে গাছ কেটে অবৈধ স’মিল (করাতকল) পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আড়ালে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন এবং বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আপাররেজু বনবিটের বাগান এলাকা থেকে নিয়মিত গাছ কাটা হচ্ছে, একই চিত্র দেখা যাচ্ছে দারিয়ারদীঘি বনবিটেও। দিনের পর দিন ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বনভূমির গাছ সরিয়ে নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো বাধা নেই। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, এসব অবৈধ কার্যক্রম থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি বড় অংশ রাজারকুল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমান-এর কাছে পৌঁছাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে তা তাঁর কাছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বন ধ্বংস বন্ধ হওয়ার বদলে বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে অবৈধ কর্মকাণ্ড।
তথ্য অনুযায়ী, দারিয়ারদীঘি এলাকায় আক্কাসের মালিকানাধীন একটি স’মিল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে, যেখানে ডাম্পারযোগে শত-শত ঘনফুট বনজ গাছ—জাম, সেগুন, গর্জনসহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির কাঠ—আনা হচ্ছে। এছাড়া চিতাখোলা এলাকার কালোর দোকানে নাসির উদ্দীনের মালিকানাধীন স’মিল এবং থোয়াইংগা কাটা এলাকায় শাহাবুদ্দিনের মালিকানাধীন স’মিলও একইভাবে অব্যাহতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব স’মিলেই বন থেকে কাটা গাছ প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আপাররেজু এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন ট্রাকভর্তি কাঠ বন থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। সবাই জানে এগুলো অবৈধভাবে কাটা, কিন্তু কেউ বাধা দেয় না। আমরা শুনছি মাসোহারা দিয়েই সব চলছে।”
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বনভূমির গাছ এভাবে কাটা চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো এলাকা উজাড় হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।”
দারিয়ারদীঘি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গফুর অভিযোগ করে বলেন, “ডাম্পারযোগে কাঠ আনা-নেওয়া প্রকাশ্যেই হচ্ছে। যদি অনুমতি না থাকে, তাহলে এতদিন কীভাবে এসব স’মিল চলছে? বন বিভাগের কিছু লোকের সহযোগিতা না থাকলে এটা সম্ভব না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা অভিউজ্জমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। কোথাও অবৈধ স’মিল বা গাছ কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা নিয়মিত নজরদারিতে রয়েছি।”
অন্যদিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “অবৈধ স’মিল বা গাছ কাটার বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন মহল বলছে, দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ স’মিল বন্ধ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে রাজারকুল রেঞ্জের বনভূমি মারাত্মকভাবে উজাড় হয়ে যেতে পারে। তারা অবিলম্বে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং বন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

















