ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী Logo সিরাজদিখানে গাঁজাগাছসহ আটক, পুলিশের হাতে মাদক ব্যবসায়ী Logo লাখাইয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo প্রতিটি ক্লাসে পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা দিন: আমিনুল হক Logo গণভোট থেকে সরকার সরে যাওয়ায় জনগণ আহত হয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ Logo ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় ৫ নিহত, বিক্ষোভে ৪ বাস ও পিকআপে আগুন Logo খাল পুনঃখনন শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দিল সালথা প্রশাসন Logo কাশিয়ানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীর সামনে প্রাণ গেল স্ত্রীর Logo বসতভিটা থেকে উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন Logo টানা বর্ষণে কেশবপুরে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
  • আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে

ছাইফুল ইসলাম সোনার

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনারের বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম, এমপিওভুক্তির নামে অর্থ আদায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি নিজের হেফাজতে রাখা এবং দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজের (কলেজ কোড: ২০০৬১) অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনার দীর্ঘদিন ধরে একই সঙ্গে কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজেও প্রভাষক (ইনডেক্স নং: এন-৩০৯৭৯২৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সরকারি আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই তিনি দুই প্রতিষ্ঠানে একযোগে কর্মরত রয়েছেন।

এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের সময় কলেজ উন্নয়নের কথা বলে অর্থ আদায় এবং ২০১৯ সালে কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ এমপিওভুক্ত হননি। এতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এমপিও কার্যক্রমের কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, শিক্ষাগত সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজের কাছে রেখে পরে তা ফেরত দিতেও অর্থ দাবি করা হয়েছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদের সভা হয়নি। আয়-ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষিত হিসাবও শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে রেজুলেশন খাতা, জমির দলিল, প্রশাসনিক পাসওয়ার্ড, উপবৃত্তির তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি অধ্যক্ষের হেফাজতে থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, ২০০২ সালে মো. ছাইফুল ইসলাম সোনার প্রভাষক (কম্পিউটার) হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং ২০১৩ সালে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ হন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁর স্ত্রী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং নিকটাত্মীয়কে গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয়েছিল, যা নিয়ে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং অভিযোগ করায় অনেকেই চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনার বলেন, “একই সময়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করা কোনো অপরাধ নয়। দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে বেতন চালু হলে আমি কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক পদ থেকে অব্যাহতি নেব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরুখ খান বলেন, “অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। একাধিকবার সভার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি। তাই কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. এমদাদুল হককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকেরা অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজে অচলাবস্থা

আপডেট সময় :

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনারের বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম, এমপিওভুক্তির নামে অর্থ আদায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি নিজের হেফাজতে রাখা এবং দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজের (কলেজ কোড: ২০০৬১) অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনার দীর্ঘদিন ধরে একই সঙ্গে কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজেও প্রভাষক (ইনডেক্স নং: এন-৩০৯৭৯২৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সরকারি আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই তিনি দুই প্রতিষ্ঠানে একযোগে কর্মরত রয়েছেন।

এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের সময় কলেজ উন্নয়নের কথা বলে অর্থ আদায় এবং ২০১৯ সালে কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ এমপিওভুক্ত হননি। এতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এমপিও কার্যক্রমের কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, শিক্ষাগত সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজের কাছে রেখে পরে তা ফেরত দিতেও অর্থ দাবি করা হয়েছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদের সভা হয়নি। আয়-ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষিত হিসাবও শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে রেজুলেশন খাতা, জমির দলিল, প্রশাসনিক পাসওয়ার্ড, উপবৃত্তির তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি অধ্যক্ষের হেফাজতে থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, ২০০২ সালে মো. ছাইফুল ইসলাম সোনার প্রভাষক (কম্পিউটার) হিসেবে যোগ দেন। ২০০৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং ২০১৩ সালে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ হন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁর স্ত্রী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং নিকটাত্মীয়কে গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয়েছিল, যা নিয়ে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং অভিযোগ করায় অনেকেই চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনার বলেন, “একই সময়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করা কোনো অপরাধ নয়। দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে বেতন চালু হলে আমি কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক পদ থেকে অব্যাহতি নেব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরুখ খান বলেন, “অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। একাধিকবার সভার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি। তাই কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. এমদাদুল হককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবকেরা অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।