অর্থের অভাবে বৃদ্ধা মায়ের ছেলের জন্মনিবন্ধন আটকে থাকার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৪৭ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ২ নং হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মুচুনী নয়াপাড়া গ্রামের ১১১ বছর বয়সী হাজেরা খাতুনের এক হৃদয়বিদারক অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী মৃত তাজর মুল্লুকের স্ত্রী হাজেরা খাতুন দাবি করেছেন, তার চতুর্থ ছেলে আলী হোসেনের জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে হয়রানি ও অর্থ দাবির শিকার হয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাজেরা খাতুন ৬ ছেলে ও ৫ মেয়ের জননী। তার ছেলে আলী হোসেন বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য আলী হোসেনের জন্মনিবন্ধন করতে চলতি বছরের গত ৯ এপ্রিল বৃদ্ধা হাজেরা খাতুন অনেক কষ্ট করে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে যান।
হাজেরা খাতুনের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ৩ নং ওয়ার্ডের চৌকিদার নুরুল আমিন তার কাছে জন্মনিবন্ধনের কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু তার কাছে তখন ছিল মাত্র ২ হাজার টাকা। বাকি ১ হাজার ৫০০ টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয় এবং বাকি টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।
পরবর্তীতে নির্ধারিত সময় শেষে আবার ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও বাকি ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে না পারায় তার ছেলে আলী হোসেনের জন্মনিবন্ধন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃদ্ধা হাজেরা খাতুন আরও জানান, বিষয়টি তিনি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীকে অবহিত করেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে দাবি তার। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হাজেরা খাতুনের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর দাদি-নাতির সম্পর্ক রয়েছে। এরপরও অসহায় এই বৃদ্ধার অভিযোগের প্রতিকার না হওয়ায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একজন ১১১ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধা যদি সামান্য একটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরে ঘুরে হয়রানির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার বাস্তব চিত্র সহজেই অনুমান করা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চৌকিদার নুরুল আমিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অসহায় হাজেরা খাতুনের প্রশ্ন— “টাকার অভাবে কি আমার ছেলের জন্মনিবন্ধন আর হবে না? আমার এই আর্তনাদ কি কেউ শুনবে না?”

















