ঈদগাঁওয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
## গৃহহীনদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালীদের দখলে সরকারি ঘর, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের
## ঈদগাঁওয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম,দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ইন্জিনিয়ার মেহেদীর বিরুদ্ধে
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার দরগাহ পাড়া এলাকায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বণ্টন নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত গৃহহীনদের পরিবর্তে প্রভাবশালী, বিত্তবান ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাঝে সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারগুলো সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে সদর উপজেলার তৎকালীন ইউএনও, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ঘর বরাদ্দ দেন। সে সময় প্রকৃত গৃহহীনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ঈদগাঁও উপজেলার তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদীর নেতৃত্বে ব্যক্তিগত প্রভাব ও নিজস্ব সিদ্ধান্তে প্রায় দেড় শতাধিক ঘর বণ্টন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় কোনো ধরনের স্বচ্ছতা বা জনসম্পৃক্ততা ছাড়াই ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে ঘর বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ এক থেকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সরকারি ঘর পেয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যাদের নিজস্ব বাড়িঘর ও জমিজমা রয়েছে, তাদেরও সরকারি ঘর দেওয়া হয়েছে। আবার একজনের নামে একাধিক ঘর বরাদ্দের ঘটনাও ঘটেছে। আবেদন ও নিবন্ধন ছাড়াই অনেককে ঘর দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ভিত্তিতেও ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা একাধিক সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অনেক গরিব মানুষের নামে ঘর বরাদ্দ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলো দখলে রেখেছেন বিত্তবান ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা। কিছু ঘর বেনামে বরাদ্দ দিয়ে পরে বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এমনকি নিবন্ধিত উপকারভোগীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে জোরপূর্বক ঘর বুঝিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কিছু রোহিঙ্গাকেও সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর তদন্ত হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল গৃহহীন ও অসহায় মানুষকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকল্পটির লক্ষ্য অনেকাংশে ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, প্রতিটি অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মংচিংনু বলেন, প্রকৃত গৃহহীনদের বঞ্চিত করে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘর দখলের সুযোগ নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম না হয়ে প্রকৃত গৃহহীন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে—সেটি প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

















