রাজশাহীর গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ
কলেজের দ্বন্দ্ব চরমে, ইউএনওকে অভিযোগ দিয়েও সমাধান নেই
- আপডেট সময় : ৭৩ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন, সাময়িক বরখাস্ত, বেতন বন্ধ ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলেজটির পরিবেশ। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগকারী অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলাকে সামনে এনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তৎকালীন সভাপতি আবুল হায়াতের সিদ্ধান্তে সেই সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার করা হয়। এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা খাতুন। কিন্তু হাসিনা খাতুন অবসরে গেলেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কলেজ কমিটির সভাপতি তাকে দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছেন না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাকে অফিস কক্ষে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য বেতনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ সাময়িক বরখাস্ত হলেও অন্তত অর্ধেক বেতন পাওয়ার বিধান রয়েছে।
সেলিম রেজা আরও বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীরা আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে অন্য একটি পক্ষের রোষানলে পড়েছি। যদি মামলার কারণেই আমাকে বহিষ্কার করা হয়, তাহলে অন্যান্য মামলাভুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সেলিম রেজার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুলতানুল ইসলাম ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ: হালিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে এবং তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্বে ফেরানোর সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, মামলা-পাল্টা মামলা ও গ্রুপিং চলমান রয়েছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও বিভক্তি তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর এই কলেজে শত শত শিক্ষার্থী ভর্তি হতো, অথচ এবার শতকের ঘরে যেতে পারেনি। কলেজের এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ মিটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সকলের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু কলেজের ব্যাপার তাই তারাই এর সমাধান করবেন। এখানে আমাদের (উপজেলা প্রশাসন) কিছু করার নাই।
সচেতন মহলের দাবি, চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা আয়োজন করা জরুরি। তা না হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।














