খাল খননে সাশ্রয়, অব্যয়িত সরকারি অর্থ ফেরত কোষাগারে
- আপডেট সময় : ১৩ বার পড়া হয়েছে
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাশ্রয়ী ব্যয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। সরকারের খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে অব্যয়িত সরকারি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সালথা উপজেলার আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি খালের মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় পরিশোধ করে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা জানান, ইউএনও দবির উদ্দিন শুরু থেকেই প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকি করেছেন। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় না হওয়ায় সরকারি অর্থও সাশ্রয় হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের এমন স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনের সততা ও জবাবদিহিতার ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তাদের মতে, দেশের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পেও এমন উদ্যোগ অনুসরণ করা হলে সরকারি অর্থের অপচয় অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাশ্রয় নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।”
সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, উন্নয়ন কাজের মান নিশ্চিতকরণ এবং অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগকে সালথা উপজেলা প্রশাসনের একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, এমন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক চর্চা দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্পেই নিশ্চিত হবে।

















