ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

জয়ের মাপকাঠি কী আওয়ামী ভোট

মহিউদ্দিন তুষার, সিনিয়র রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় এবারের নির্বাচন ঘিরে ভোটের অঙ্ক, জোটের কৌশল, ভোটার আচরণ এবং অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক হিসাব-নিকাশ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। জামায়াত ও ইসলামি দলগুলোসহ ১১টি দল জোটবদ্ধ হয়ে একটি রাজনৈতিক বলয় গঠন করেছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ১২টি মিত্রদল সরাসরি আসন-সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জোট’ ঘোষণা না থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই বলয়ে বিএনপিসহ মোট ২৯টি রাজনৈতিক দল সক্রিয় রয়েছে। অবশিষ্ট দলগুলো সরাসরি আসন সমঝোতায় না গেলেও একই রাজনৈতিক বলয়ে থেকে নির্বাচনী মাঠে সমর্থন জোগাচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় রাজনৈতিক মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বলয় ও জামায়াত-ইসলামি জোটের মধ্যে। ফলে নির্বাচনটি অনেকটাই দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই প্রতিযোগিতার মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংকের ভবিষ্যৎ গতিপথ। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হতে পারে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে প্রবাহিত হয়। ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী, সংগঠিত ও বিস্তৃত ভোটব্যাংক রয়েছে, যা বহু নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের ভোটাররা রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ফ্যাক্টর। এই ভোট যদি কোনো একটি জোটের দিকে একীভূত হয়, তাহলে সেই পক্ষই বড় সুবিধা পাবে। আর যদি ভোট বিভক্ত হয়, তাহলে অনেক আসনে অপ্রত্যাশিত ফল দেখা দিতে পারে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের রাজনীতিতে বাড়ছে প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট গ্রাম ও শহরজুড়ে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, ঘরে ঘরে গণসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করেছে। অন্যদিকে জামায়াত ও ইসলামি দলগুলোও তাদের সাংগঠনিক শক্তি, মসজিদভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক বিকল্প শক্তির সন্ধানে রয়েছে। আমরা সেই আস্থা অর্জনের জন্য মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। অন্যদিকে জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে নৈতিক রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটাররা নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কম ভোটার উপস্থিতি হলে নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, আমরা স্থিতিশীলতা চাই। আওয়ামী লীগ না থাকায় অনেকেই দ্বিধায় আছেন ভোট দিতে যাবেন কি না। তবে শেষ পর্যন্ত মানুষ বিশ্বাসযোগ্য শক্তিকেই ভোট দেবে। গাজীপুরের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, গ্রামে আলোচনা চলছে কার পক্ষে ভোট যাবে। আওয়ামী লীগের লোকজন কোন দিকে যাবে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রাম ও শহরের ভোটার আচরণে ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে নগর এলাকায় ভোটাররা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা ও সেবা খাতের উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেন। ড. মাহবুব আলম বলেন, নগর ভোটাররা বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেন, আর গ্রামীণ ভোটে আবেগ ও দলীয় পরিচয়ের প্রভাব বেশি থাকে। আওয়ামী লীগের ভোট কোন অঞ্চলে কিভাবে স্থানান্তরিত হয়, তার ওপর নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠনিক শক্তি অটুট রয়েছে। অনেকের মতে, ভোটাররা উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা বলেন, আমরা কোনো জোটের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছি না। কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ বিবেচনায় ভোট দেবেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এক সময়ের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতা বিএনপি ও জামায়াতে যোগ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের স্থানীয় প্রভাব ও নেটওয়ার্ক নতুন জোটকে শক্তিশালী করলেও এতে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট বিভাজন অনেক আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুই বলয় ভোটব্যাংক ধরে রাখতে মরিয়া। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, ভোটার উপস্থিতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটের গতিপথই নির্ধারণ করবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয় এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জয়ের মাপকাঠি কী আওয়ামী ভোট

আপডেট সময় :

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় এবারের নির্বাচন ঘিরে ভোটের অঙ্ক, জোটের কৌশল, ভোটার আচরণ এবং অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক হিসাব-নিকাশ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। জামায়াত ও ইসলামি দলগুলোসহ ১১টি দল জোটবদ্ধ হয়ে একটি রাজনৈতিক বলয় গঠন করেছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ১২টি মিত্রদল সরাসরি আসন-সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জোট’ ঘোষণা না থাকলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই বলয়ে বিএনপিসহ মোট ২৯টি রাজনৈতিক দল সক্রিয় রয়েছে। অবশিষ্ট দলগুলো সরাসরি আসন সমঝোতায় না গেলেও একই রাজনৈতিক বলয়ে থেকে নির্বাচনী মাঠে সমর্থন জোগাচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় রাজনৈতিক মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বলয় ও জামায়াত-ইসলামি জোটের মধ্যে। ফলে নির্বাচনটি অনেকটাই দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই প্রতিযোগিতার মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংকের ভবিষ্যৎ গতিপথ। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হতে পারে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে প্রবাহিত হয়। ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী, সংগঠিত ও বিস্তৃত ভোটব্যাংক রয়েছে, যা বহু নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের ভোটাররা রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ফ্যাক্টর। এই ভোট যদি কোনো একটি জোটের দিকে একীভূত হয়, তাহলে সেই পক্ষই বড় সুবিধা পাবে। আর যদি ভোট বিভক্ত হয়, তাহলে অনেক আসনে অপ্রত্যাশিত ফল দেখা দিতে পারে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের রাজনীতিতে বাড়ছে প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট গ্রাম ও শহরজুড়ে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, ঘরে ঘরে গণসংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করেছে। অন্যদিকে জামায়াত ও ইসলামি দলগুলোও তাদের সাংগঠনিক শক্তি, মসজিদভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক বিকল্প শক্তির সন্ধানে রয়েছে। আমরা সেই আস্থা অর্জনের জন্য মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। অন্যদিকে জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে নৈতিক রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটাররা নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কম ভোটার উপস্থিতি হলে নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, আমরা স্থিতিশীলতা চাই। আওয়ামী লীগ না থাকায় অনেকেই দ্বিধায় আছেন ভোট দিতে যাবেন কি না। তবে শেষ পর্যন্ত মানুষ বিশ্বাসযোগ্য শক্তিকেই ভোট দেবে। গাজীপুরের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, গ্রামে আলোচনা চলছে কার পক্ষে ভোট যাবে। আওয়ামী লীগের লোকজন কোন দিকে যাবে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রাম ও শহরের ভোটার আচরণে ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে নগর এলাকায় ভোটাররা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা ও সেবা খাতের উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেন। ড. মাহবুব আলম বলেন, নগর ভোটাররা বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেন, আর গ্রামীণ ভোটে আবেগ ও দলীয় পরিচয়ের প্রভাব বেশি থাকে। আওয়ামী লীগের ভোট কোন অঞ্চলে কিভাবে স্থানান্তরিত হয়, তার ওপর নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠনিক শক্তি অটুট রয়েছে। অনেকের মতে, ভোটাররা উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা বলেন, আমরা কোনো জোটের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছি না। কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ বিবেচনায় ভোট দেবেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এক সময়ের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতা বিএনপি ও জামায়াতে যোগ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের স্থানীয় প্রভাব ও নেটওয়ার্ক নতুন জোটকে শক্তিশালী করলেও এতে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট বিভাজন অনেক আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুই বলয় ভোটব্যাংক ধরে রাখতে মরিয়া। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, ভোটার উপস্থিতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোটের গতিপথই নির্ধারণ করবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয় এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে।