ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ঝিনাইদহে তামাক পাতা ও কালো ধোঁয়ায় অসুস্থ শিক্ষার্থীরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Hdr; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 125.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইদহে যে আঙিনায় শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হওয়ার কথা, সেই আঙিনাতে এখন তামাক শুকানো হয়। সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের তামাক বাইন সেন্টার। প্রতিদিনই জেলার কৃষকদের কাছ থেকে তামাক ক্রয় করা হয়ে থাকে এখানে। রাস্তার অপর পাশ ঘেষে রয়েছে মেসার্স নাহার ব্রিকসা। তামাক পাতার গন্ধ ও ইট ভাটার কালো ধোঁয়া শিশুদের নিস্তেজ করে দিচ্ছে। নিয়মিত অসুস্থ থাকছে সার্কিট হাউজ রোডে ১২৬ নং গিলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১৬ জন শিক্ষার্থী সহ ৬ জন শিক্ষক।
যে বয়সে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে বইয়ে ঘ্রাণ নিবে তার বদলে তারা বুক ভরে নিচ্ছে দূষিত বাতাস, যা তাদের ঠেলে দিচ্ছে এক দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষেই চলছে এই তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারের এ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার কনক চন্দ্র সরকার বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি,বিষয়টি নিয়ে আপনি প্রথম কথা বললেন। এ সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
চিকিৎসকদের মতে, তামাকের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে ধরা না পড়লেও শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে ক্ষত তৈরি করে। যা দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির কারন হতে পারে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মিথিলা ইসলাম বলেন, তামাকপাতার মধ্যে থাকা নিকোটিন ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ অবস্থাকে ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ বলা হয়। এতে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কম বয়সে এসব বাতাসের সংস্পর্শে এলে দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মুস্তাসির রহমান বলেন, আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। যার একটা অনুলিপি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে দিব। অবশ্যই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে,নিশ্চিত থাকেন।
আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক বাইন সেন্টার বাস্তবে বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে কীভাবে তৈরি হয়, এই প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশের ক্ষতি এসব কারও অজানা নয়। তবু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঝিনাইদহে তামাক পাতা ও কালো ধোঁয়ায় অসুস্থ শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় :

ঝিনাইদহে যে আঙিনায় শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হওয়ার কথা, সেই আঙিনাতে এখন তামাক শুকানো হয়। সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে রয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপের তামাক বাইন সেন্টার। প্রতিদিনই জেলার কৃষকদের কাছ থেকে তামাক ক্রয় করা হয়ে থাকে এখানে। রাস্তার অপর পাশ ঘেষে রয়েছে মেসার্স নাহার ব্রিকসা। তামাক পাতার গন্ধ ও ইট ভাটার কালো ধোঁয়া শিশুদের নিস্তেজ করে দিচ্ছে। নিয়মিত অসুস্থ থাকছে সার্কিট হাউজ রোডে ১২৬ নং গিলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১৬ জন শিক্ষার্থী সহ ৬ জন শিক্ষক।
যে বয়সে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে বইয়ে ঘ্রাণ নিবে তার বদলে তারা বুক ভরে নিচ্ছে দূষিত বাতাস, যা তাদের ঠেলে দিচ্ছে এক দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষেই চলছে এই তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারের এ্যাসিটেন্ট ম্যানেজার কনক চন্দ্র সরকার বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি,বিষয়টি নিয়ে আপনি প্রথম কথা বললেন। এ সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
চিকিৎসকদের মতে, তামাকের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে ধরা না পড়লেও শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে ক্ষত তৈরি করে। যা দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির কারন হতে পারে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মিথিলা ইসলাম বলেন, তামাকপাতার মধ্যে থাকা নিকোটিন ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ অবস্থাকে ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ বলা হয়। এতে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। কম বয়সে এসব বাতাসের সংস্পর্শে এলে দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মুস্তাসির রহমান বলেন, আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। যার একটা অনুলিপি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে দিব। অবশ্যই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে,নিশ্চিত থাকেন।
আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক বাইন সেন্টার বাস্তবে বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে কীভাবে তৈরি হয়, এই প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশের ক্ষতি এসব কারও অজানা নয়। তবু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।