ডিমলায় প্রসূতির মৃত্যু, চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় : ৪৭ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীর ডিমলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাগত অবহেলা, ত্রুটি ও অদক্ষতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা এমদাদুল হকের স্ত্রী মোছা. তুলি বেগম(২৯) (গৃহবধূ) প্রসববেদনা নিয়ে গত ২২ জুন ডিমলা সদরস্থ মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। ওই রাতেই তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
স্বজনরা বলেন, অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই তুলি বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সিজারের ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তার পেট ফুলে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা এটিকে সিজারের পর স্বাভাবিক জটিলতা বলে আশ্বস্ত করেন। পরিবারের দাবি, বারবার অনুরোধ করার পরও রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়নি; বরং অপেক্ষা করতে বলা হয়।
পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ উপেক্ষা করে গত ২৫ জুন তুলি বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৯ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বামী এমদাদুল হক বলেন, “সিজারের পর থেকেই আমার স্ত্রীর নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। সময়মতো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো আমার স্ত্রীকে হারাতে হতো না।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মেডিনোভা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক বেসরকারি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিবন্ধিত চিকিৎসক ও দক্ষ জনবল ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হচ্ছে, যা রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

















