তারা শিক্ষার্থীদের শেখাবে কী
- আপডেট সময় : ২৯৮ বার পড়া হয়েছে
জাতির ভবিষ্যৎ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব যাদের কাঁধে তারা পেশা জীবনে প্রবেশের আগেই নিজেদের অসৎ হিসেবে প্রমাণ করলো। কানের ভিতরে ডিভাইস নিয়ে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়ার সময় প্রায় শতাধিক চাকুরিপ্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান দুর্গতির যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়ছে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার এই চিত্রটি হতাশা জনক।
সূত্র জানায়, সারাদেশের ৪৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শুক্রবার। এদিন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দিনাজপুরে অর্ধশত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। তা ছাড়া একই কারনে দেশের বিভিন্ন জেলায় আরো অর্ধশতাধিক প্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় আটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের কানের ভিতরে ডিভাইস পাওয়া যায়। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটাওে নিয়ে তাদেও কান থেকে ডিভাইস অপসারন করা হয়েছে। তাদেরকে আইনের আওতায় নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আটক পরীক্ষার্থীদের পরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার হয়। সেখানে তাদের কানের ভেতর থেকে একে একে ডিজিটাল ডিভাইস বের করে আনেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ সময় হাসপাতালটি যেন অপারেশন থিয়েটারে পরিণত হয়, যেখানে একে একে অনেকের কানে অস্ত্রোপচার করে বের করা হয় ডিভাইস। এর আগে এদিন বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা এসব পরীক্ষার্থীকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ইয়ার ডিভাইসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশের ৬১ জেলার মতো গাইবান্ধাতেও ৪৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে জেলার ২৪টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। সবচেয়ে বেশি ১৩ জন পরীক্ষার্থী আটক হন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা আব্দুল কাইয়ূম হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের সময় জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় জেলার ২৪ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৪৮ জন এবং কেন্দ্রে প্রবেশের সময় চার পরীক্ষার্থীসহ মোট ৫২ পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে সংশ্লিষ্টরা। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে ২০০ গজ এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
























