ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo হাবিপ্রবিতে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল এনালাইসিস, সায়েন্টিফিক পেপার এন্ড থিসিস রাইটিং শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত Logo গর্জনিয়ায় বৃহৎ ইয়াবা চালান উদ্ধার, অধরা মাদক সম্রাট সোহেল Logo মাদক কারবারের প্রতিবাদ, ইউপি উদ্যােক্তার উপর হামলা Logo পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo টুংগীপাড়ায় অসহায় নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিলেন এমপি Logo নবীনগর-রাধিকা সড়কে ট্রাক দুর্ঘটনার স্বীকার Logo হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার Logo ফুলপুরে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসে বিজয়ীদের সংবর্ধনা Logo ‘গডফাদার’ আমিনের ইশারায় চলে পুরো সিন্ডিকেট Logo তালা কেটে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, ভিক্ষুক সেজে দুই চোর গ্রেফতার

সম্পত্তি ভাগবন্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব

নওগাঁয় দুই শিশুসহ স্বামী-স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, গ্রেফতার ৩

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের দুই শিশুসহ স্বামী-স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। সম্পদের লোভে বসিভুত হয়ে এ হত্যা কান্ডে চাচাতো ভাই, ভাগ্নে ও ভগ্নীপতি সহ ছয়জন অংশ নেয়। গতকাল বুধবার দুপুর ২টা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান- নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা এবং আরেক বোন শিরিনা আক্তারের স্বামী শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে শাহিন মন্ডল।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন- গত কয়েক বছর আগে নমির উদ্দিনের স্ত্রী মারা যান। তার এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর বাড়িভিটাসহ ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি এবং প্রত্যেক মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন তিনি। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। বেশ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিস বৈঠকও হয়।
জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে পরিকল্পিত ভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ডে ছয়জন অংশ নেয়। এরমধ্যে নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগিনা সবুজ রানা এবং ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে শাহিন মন্ডল অংশ নেয়।
তিনি বলেন- গত সোমবার হাবিবুর তার ভাগ্নে সবুজকে নিয়ে উপজেলার ছাতড়া হাটে ১ লাখ ৪০ টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। কিন্তু গরু না কিনে বাড়ি ফিরে আসেন। হত্যার দুই দিন আগে গ্রামের মাঠে সবুজ রানা, শহীদুল ইসলাম ও শাহিন মন্ডল সহ কয়েকজন হাবিবুরের পরিবারকে নিমুল করতে হবে এমন কিলিং মিশনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো সোমবার সবুজ রানা রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে কাঁঠালের তরকারি দিয়ে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়া যান। পরিকল্পনা মোতাবেক সবার অগোচরে হাবিবুরের বাড়িতে শাহিন প্রবেশ করে একটি ছোট ঘরে লুকিয়ে
পড়ে। আর হাবিবুরের পরিবারের সবাই যে যারমতো ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে।
রাত ১১ টার দিকে শাহিন বাড়ির দরজা খুলে দেয়। এরপর শহিদুল ও তার সবুজ সহ ৫ জন বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে বাড়ির মালিক নমির উদ্দিনের ঘরের ছিটকি আটকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হাবিবুরে ঘরে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। আর পাশের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলে পপি। এসময় তিনি বিষয়টি না বুঝে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে যাচ্ছিলেন। এসময় পেছন থেকে হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাদের পুরো পরিবারকে নির্বংশ করার জন্য ঘরে থাকা দুই শিশু পারভেজ ইসলাম এবং সাদিয়া রহমান গলা কেটে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। রাত ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত এ হত্যা কান্ড ঘটানো হয়।
এসপি আরো জানান- এ ঘটনার পর নিহতের বাবা নমির হোসেন, দুইবোন ডালিমা ও শিরিনা এবং ভাগিনা সবুজ রানা, ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। তবে সবুজকে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যে রাতেই হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাসুয়া শাহিনের বাড়ির সামনের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে শাহিন মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া দুপুরে বাড়ির পাশে একটি পুকুরে পানি সেচে সেখান থেকে ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার সাথে আরো যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। সম্পত্তির ভাটবন্টন নিয়ে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সম্পত্তি ভাগবন্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব

নওগাঁয় দুই শিশুসহ স্বামী-স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা, গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় :

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের দুই শিশুসহ স্বামী-স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। সম্পদের লোভে বসিভুত হয়ে এ হত্যা কান্ডে চাচাতো ভাই, ভাগ্নে ও ভগ্নীপতি সহ ছয়জন অংশ নেয়। গতকাল বুধবার দুপুর ২টা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান- নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা এবং আরেক বোন শিরিনা আক্তারের স্বামী শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে শাহিন মন্ডল।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন- গত কয়েক বছর আগে নমির উদ্দিনের স্ত্রী মারা যান। তার এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর বাড়িভিটাসহ ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি এবং প্রত্যেক মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন তিনি। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। বেশ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিস বৈঠকও হয়।
জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে পরিকল্পিত ভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ডে ছয়জন অংশ নেয়। এরমধ্যে নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগিনা সবুজ রানা এবং ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে শাহিন মন্ডল অংশ নেয়।
তিনি বলেন- গত সোমবার হাবিবুর তার ভাগ্নে সবুজকে নিয়ে উপজেলার ছাতড়া হাটে ১ লাখ ৪০ টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। কিন্তু গরু না কিনে বাড়ি ফিরে আসেন। হত্যার দুই দিন আগে গ্রামের মাঠে সবুজ রানা, শহীদুল ইসলাম ও শাহিন মন্ডল সহ কয়েকজন হাবিবুরের পরিবারকে নিমুল করতে হবে এমন কিলিং মিশনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো সোমবার সবুজ রানা রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে কাঁঠালের তরকারি দিয়ে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়া যান। পরিকল্পনা মোতাবেক সবার অগোচরে হাবিবুরের বাড়িতে শাহিন প্রবেশ করে একটি ছোট ঘরে লুকিয়ে
পড়ে। আর হাবিবুরের পরিবারের সবাই যে যারমতো ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে।
রাত ১১ টার দিকে শাহিন বাড়ির দরজা খুলে দেয়। এরপর শহিদুল ও তার সবুজ সহ ৫ জন বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে বাড়ির মালিক নমির উদ্দিনের ঘরের ছিটকি আটকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হাবিবুরে ঘরে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। আর পাশের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলে পপি। এসময় তিনি বিষয়টি না বুঝে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে যাচ্ছিলেন। এসময় পেছন থেকে হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাদের পুরো পরিবারকে নির্বংশ করার জন্য ঘরে থাকা দুই শিশু পারভেজ ইসলাম এবং সাদিয়া রহমান গলা কেটে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। রাত ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত এ হত্যা কান্ড ঘটানো হয়।
এসপি আরো জানান- এ ঘটনার পর নিহতের বাবা নমির হোসেন, দুইবোন ডালিমা ও শিরিনা এবং ভাগিনা সবুজ রানা, ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। তবে সবুজকে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যে রাতেই হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাসুয়া শাহিনের বাড়ির সামনের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে শাহিন মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া দুপুরে বাড়ির পাশে একটি পুকুরে পানি সেচে সেখান থেকে ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার সাথে আরো যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। সম্পত্তির ভাটবন্টন নিয়ে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।