ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমেই সড়ক মেরামত, গিলাতলী গ্রামের দুর্ভোগে উদাসীন প্রশাসন

এস.এম.হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ৬০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন-এর ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত গিলাতলী গ্রাম যেন এক ব্যতিক্রমী বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এখানে সড়ক মেরামতের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের নয়—বরং নিজেরাই বছরে দুই থেকে তিনবার স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

স্বেচ্ছাশ্রমেই টিকে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গিলাতলী গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই কাদায় ভরে যায় পুরো রাস্তা, চলাচল হয়ে পড়ে অত্যন্ত দুর্বিষহ। শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ অবস্থায় কোনো উপায় না দেখে গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্যোগ নেন। বছরে দুই থেকে তিনবার তারা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামত করেন। কেউ মাটি কাটেন, কেউ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন—এভাবেই নিজেদের শ্রমেই সচল রাখেন গ্রামের একমাত্র ভরসার সড়কটি। তবে এই মেরামত টেকসই না হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়কটি।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বিষয়টি অবগত থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর আলম ও ফয়েজ উল্লাহ  বলেন,

“আমরা নিজেরাই শ্রম দিয়ে রাস্তা ঠিক করি। কিন্তু কয়েক মাস পর আবার আগের মতো হয়ে যায়। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার গেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়—উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তেমন কোনো নজরদারি নেই। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক বছরের পর বছর অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়:- এ ধরনের সড়ক উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর প্রকল্প গ্রহণ করে থাকেন।

সরে জমিন পরিদর্শন কালে জানা যায়:-শিক্ষা  ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব

সড়কের দুরবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়া কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যায় পড়েন কৃষকরা, ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।

গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত একটি স্থায়ী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমেই সড়ক মেরামত, গিলাতলী গ্রামের দুর্ভোগে উদাসীন প্রশাসন

আপডেট সময় :

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন-এর ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত গিলাতলী গ্রাম যেন এক ব্যতিক্রমী বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এখানে সড়ক মেরামতের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের নয়—বরং নিজেরাই বছরে দুই থেকে তিনবার স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

স্বেচ্ছাশ্রমেই টিকে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গিলাতলী গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই কাদায় ভরে যায় পুরো রাস্তা, চলাচল হয়ে পড়ে অত্যন্ত দুর্বিষহ। শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ অবস্থায় কোনো উপায় না দেখে গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্যোগ নেন। বছরে দুই থেকে তিনবার তারা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামত করেন। কেউ মাটি কাটেন, কেউ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন—এভাবেই নিজেদের শ্রমেই সচল রাখেন গ্রামের একমাত্র ভরসার সড়কটি। তবে এই মেরামত টেকসই না হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়কটি।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বিষয়টি অবগত থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর আলম ও ফয়েজ উল্লাহ  বলেন,

“আমরা নিজেরাই শ্রম দিয়ে রাস্তা ঠিক করি। কিন্তু কয়েক মাস পর আবার আগের মতো হয়ে যায়। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার গেছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়—উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তেমন কোনো নজরদারি নেই। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক বছরের পর বছর অবহেলিত থেকে যাচ্ছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়:- এ ধরনের সড়ক উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর প্রকল্প গ্রহণ করে থাকেন।

সরে জমিন পরিদর্শন কালে জানা যায়:-শিক্ষা  ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব

সড়কের দুরবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বর্ষাকালে স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়া কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যায় পড়েন কৃষকরা, ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।

গিলাতলী গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত একটি স্থায়ী সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।