ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

পাটুরিয়া ঘাটে লুটপাটের দুর্নীতির প্রমানে বিআইডব্লিউটিসি’র নীরবতা

ছাবিনা দিলরুবা, মানিকগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বিআইডব্লিউটিসি’র টিকিট কাউন্টার ঘিরে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট এখন অপ্রতিরোধ্য। এনিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বন্ধ হয়নি এই ‘ওপেন সিক্রেট’ লুটপাট। উল্টো দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ তথ্য ও ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাটুরিয়া ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে রশিদ ছাড়াই অতিরিক্ত ১০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চাঁদাবাজির চেইন অব কমান্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন কাউন্টার টিম লিডার রায়হান উদ্দিন, শাহ আলম ও নিজাম উদ্দিন। এই তিনজনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট পর্যায়ক্রমে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ চালায়।
ভূক্তভোগি চালক জসিম ও তাজমিতের ভাষ্যমতে, ১৫৫০ টাকার ভাড়া ১৭০০ টাকা দিয়েও কোনো রশিদ পাওয়া যায় না। প্রতিবাদ করলে জোটে লাঞ্ছনা এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে আটকে রাখার হুমকি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আবারও সাংবাদিকদের ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়েছে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের দৃশ্য। এ সময় ভিডিও ধারণে বাধা প্রদান এবং সাংবাদিকদের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এই ঘটনায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন তীব্র নিন্দা জানালেও বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ দৃশ্যত নির্বিকার। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় মামলার পরিবর্তে কেবল ‘সতর্ক’ করে দায় সেরেছে আরিচা কার্যালয়।
এরআগে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি টিম লিডার রায়হান উদ্দিন ক্যামেরার সামনে অপরাধ স্বীকার করলেও এখন নিজেকে রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করছেন। তিনি নিজেকে পাবনার এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ লোক দাবি করে সংবাদকর্মীদের হুমকি ও প্রলোভন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি ও নামধারী সাংবাদিকদের দিয়েও তিনি ‘নেগোসিয়েশনের’ চাপ প্রয়োগ করছেন।
দুর্নীতির সরাসরি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দস সালামের রহস্যজনক নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে। এনিয়ে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, জিরো টলারেন্স গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ টিম লিডারদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থাই নেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাটের এই ‘রসিদহীন’ বাড়তি খরচ সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে চাল-ডালের দাম। ঘাটের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পকেট ভারী করতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের চড়া মাসুল দিতে হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, ঘাটের এই চাঁদাবাজি কেবল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ, দুর্নীতির এই টাকার ভাগ ওপরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছায় বলেই অপরাধীরা বারবার ছাড় পাচ্ছে। দেশের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুটে ‘ম্যানেজ সংস্কৃতি’র অবসান ঘটাতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি।
তাছাড়া প্রশাসনের এই অপেশাদারিত্বের সুযোগে পাটুরিয়া ঘাটে সিন্ডিকেটের রাজত্ব আরও ভয়ংকর রূপ নেবে বলে জানা যায় ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাটুরিয়া ঘাটে লুটপাটের দুর্নীতির প্রমানে বিআইডব্লিউটিসি’র নীরবতা

আপডেট সময় :

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বিআইডব্লিউটিসি’র টিকিট কাউন্টার ঘিরে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট এখন অপ্রতিরোধ্য। এনিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বন্ধ হয়নি এই ‘ওপেন সিক্রেট’ লুটপাট। উল্টো দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ তথ্য ও ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাটুরিয়া ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে রশিদ ছাড়াই অতিরিক্ত ১০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চাঁদাবাজির চেইন অব কমান্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন কাউন্টার টিম লিডার রায়হান উদ্দিন, শাহ আলম ও নিজাম উদ্দিন। এই তিনজনের শক্তিশালী সিন্ডিকেট পর্যায়ক্রমে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ চালায়।
ভূক্তভোগি চালক জসিম ও তাজমিতের ভাষ্যমতে, ১৫৫০ টাকার ভাড়া ১৭০০ টাকা দিয়েও কোনো রশিদ পাওয়া যায় না। প্রতিবাদ করলে জোটে লাঞ্ছনা এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে আটকে রাখার হুমকি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আবারও সাংবাদিকদের ক্যামেরায় হাতেনাতে ধরা পড়েছে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের দৃশ্য। এ সময় ভিডিও ধারণে বাধা প্রদান এবং সাংবাদিকদের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এই ঘটনায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন তীব্র নিন্দা জানালেও বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ দৃশ্যত নির্বিকার। অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় মামলার পরিবর্তে কেবল ‘সতর্ক’ করে দায় সেরেছে আরিচা কার্যালয়।
এরআগে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি টিম লিডার রায়হান উদ্দিন ক্যামেরার সামনে অপরাধ স্বীকার করলেও এখন নিজেকে রক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করছেন। তিনি নিজেকে পাবনার এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ লোক দাবি করে সংবাদকর্মীদের হুমকি ও প্রলোভন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি ও নামধারী সাংবাদিকদের দিয়েও তিনি ‘নেগোসিয়েশনের’ চাপ প্রয়োগ করছেন।
দুর্নীতির সরাসরি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দস সালামের রহস্যজনক নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে। এনিয়ে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, জিরো টলারেন্স গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতিবাজ টিম লিডারদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থাই নেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাটের এই ‘রসিদহীন’ বাড়তি খরচ সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে চাল-ডালের দাম। ঘাটের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পকেট ভারী করতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের চড়া মাসুল দিতে হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, ঘাটের এই চাঁদাবাজি কেবল স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ, দুর্নীতির এই টাকার ভাগ ওপরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছায় বলেই অপরাধীরা বারবার ছাড় পাচ্ছে। দেশের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুটে ‘ম্যানেজ সংস্কৃতি’র অবসান ঘটাতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি।
তাছাড়া প্রশাসনের এই অপেশাদারিত্বের সুযোগে পাটুরিয়া ঘাটে সিন্ডিকেটের রাজত্ব আরও ভয়ংকর রূপ নেবে বলে জানা যায় ।