প্রবাসী নারীকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে টাকা আত্মসাৎ
- আপডেট সময় : ৩১ বার পড়া হয়েছে
জীবিকার তাগিদে ২০২২ সালের ৩ এপ্রিল ওমানে পাড়ি জমান টেকনাফের সানজিদা (২৮)। প্রবাস জীবনে কাজ করার সময় ২০২৪ সালের ১৭ মে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নগরপাড় গ্রামের, আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন কৌশলে তাকে ভুল বুঝিয়ে দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন সোহাগ মিয়া। সানজিদা জানান, প্রবাস জীবনে আড়াই বছরের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ তিনি স্বামীর ওপর বিশ্বাস রেখে দিয়েছেন।
তার দাবি, বিয়ের প্রায় দুই বছর পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে স্বামীর আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে ওমানে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটিয়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এছাড়াও সোহাগ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সানজিদার ভাষ্য, তার শাশুড়ি, দেবর ও ননদ মিলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় এবং যৌতুকের দাবিতে চাপ প্রয়োগ করে। দাবি পূরণ করতে না পারায় একপর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে দুই মাস বয়সী নবজাতক সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সানজিদা। তিনি সন্তানসহ বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানান। তার দাবি, সন্তানের পিতৃপরিচয় ও আইনগত অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি স্বামীর স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। অন্যথায়, আত্মসাৎ করা প্রায় ১৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।















