বগুড়া চাঁদাবাজি দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকান্ড
- আপডেট সময় : ১৫ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শাজাহানপুরে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বের জেরে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই চক্রে কাজ করা ‘গুরু শিষ্য’ সম্পর্কে দুই সন্ত্রাসীর মধ্যে বিরোধের জেরে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে খুন হন হাবিবুর রহমান রকি (২৮)। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরই গুরু হারুনুর রশিদ হারুন ও তাঁর সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বগুড়া শহরের বনানী কাস্টমস অফিসের সামনে মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রকি বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্র আইনে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। একইভাবে অভিযুক্ত হারুনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারুন ও রকি দীর্ঘদিন ধরে ইট-বালুর ব্যবসার আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন। একসময় হারুনের অনুসারী হিসেবে কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। চাঁদার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। দ্বন্দ্বে একপর্যায়ে রকি নিজ গুরুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে হারুন কৌশলে রকির সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ভান করেন।
ঘটনার দিন চাঁদাবাজির কাজে ডাকার কথা বলে রকিকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। বনানীর একটি নির্জন এলাকায় আগে থেকেই ছিলেন হারুন ও তাঁর সহযোগীরা। রকি সেখানে পৌঁছালে প্রথমে পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চক্রটি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত এসব সন্ত্রাসীদের দমন করা দরকার।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং মূল আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দিতে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।













