ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে ১৬ পরিবার, নিঃস্ব শতাধিক মানুষ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়া পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬টি পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৮০-৯০ জন মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা নিশি দাশ (৪০), পিতা মৃত ননী গোপাল দাশের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট, কেউ গ্যাস সিলিন্ডার, আবার কেউ মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন।
ঘটনার সময় নিশি দাশের পরিবার ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠে তারা ঘরে আগুন দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশের মুসলিম পাড়ার বাসিন্দারাও দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন এবং ঘরের মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে জানানো হলেও প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নিশি দাশ (৪০), রনজিত দাশ (৩৫), রাজবালা (৪০) ও রাজকুমার (৩৩) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেক পরিবার তাদের ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রক্ষা করতে পারেনি।
রাজবালার একমাত্র জীবিকার উৎস ছোট একটি মুদি দোকানও আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর গবাদিপশু—ছাগল, হাঁস-মুরগিও আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
স্থানীয় জেলেরা দীর্ঘদিন পর নাফ নদীতে মাছ ধরার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন এনজিও ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে নতুন জাল প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু সেই জালগুলোও আগুনে পুড়ে গেছে, ফলে তারা চরম হতাশায় পড়েছেন।
এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। রনজিত রাম ও তার স্ত্রীর বাম হাত পুড়ে গেছে। শতরুপার ডান হাত এবং রাম দাশের ডান পা দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া শিশুসহ আরও বেশ কয়েকজন আগুনে আহত হয়েছেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় সরদার কাশী মহন দাশ (৫৫) আবেগাপ্লুত হয়ে দৈনিক জাতীয় গণমুক্তির সাংবাদিককে জানিয়েছেন, “আমরা কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। শুধু প্রাণ নিয়ে বেঁচে আছি।” তিনি আগুন নেভাতে এগিয়ে আসা মুসলিম প্রতিবেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে ১৬ পরিবার, নিঃস্ব শতাধিক মানুষ

আপডেট সময় :

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়া পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬টি পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৮০-৯০ জন মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা নিশি দাশ (৪০), পিতা মৃত ননী গোপাল দাশের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেউ বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট, কেউ গ্যাস সিলিন্ডার, আবার কেউ মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন।
ঘটনার সময় নিশি দাশের পরিবার ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠে তারা ঘরে আগুন দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশের মুসলিম পাড়ার বাসিন্দারাও দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন এবং ঘরের মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে জানানো হলেও প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নিশি দাশ (৪০), রনজিত দাশ (৩৫), রাজবালা (৪০) ও রাজকুমার (৩৩) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেক পরিবার তাদের ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রক্ষা করতে পারেনি।
রাজবালার একমাত্র জীবিকার উৎস ছোট একটি মুদি দোকানও আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর গবাদিপশু—ছাগল, হাঁস-মুরগিও আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
স্থানীয় জেলেরা দীর্ঘদিন পর নাফ নদীতে মাছ ধরার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন এনজিও ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে নতুন জাল প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু সেই জালগুলোও আগুনে পুড়ে গেছে, ফলে তারা চরম হতাশায় পড়েছেন।
এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। রনজিত রাম ও তার স্ত্রীর বাম হাত পুড়ে গেছে। শতরুপার ডান হাত এবং রাম দাশের ডান পা দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া শিশুসহ আরও বেশ কয়েকজন আগুনে আহত হয়েছেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় সরদার কাশী মহন দাশ (৫৫) আবেগাপ্লুত হয়ে দৈনিক জাতীয় গণমুক্তির সাংবাদিককে জানিয়েছেন, “আমরা কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। শুধু প্রাণ নিয়ে বেঁচে আছি।” তিনি আগুন নেভাতে এগিয়ে আসা মুসলিম প্রতিবেশীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।