ভূরুঙ্গামারীতে এসআই জাহেদুল ইসলামের প্রত্যাহার দাবি
- আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে নির্দোষ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগে ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই জাহেদুল ইসলামের অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগি ও এলাকাবাসী।
গতকাল শনিবার দুপুরে বাবুরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকায় কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে এসে পুলিশের ঘুষ গ্রহণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে পুলিশ “হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনতাই” সংক্রান্ত একটি মিথ্যা জিআর-০৩/২৫ মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোঃ আনোয়ার হোসেন আরিফকে গভীর রাতে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে আসামি করা হয় এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
বক্তাদের দাবি, ওই মামলায় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি চার্জশিটে এমন ব্যক্তিদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না দেশের বাইরে ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন সৌদি আরব প্রবাসী এবং হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন আরিফকে ওই মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার পর তার পরিবারের কাছ থেকে এসআই জাহেদুল ইসলামের মাধ্যমে তৎকালীন ওসি মুনিরুল ইসলাম ৫ লাখ টাকা চাঁদা নেন। পরদিন তার পিতা আব্দুস ছালাম ছেলেকে দেখতে থানায় গেলে একই মামলায় তাকে ওসির কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে আনোয়ার হোসেন আরিফকে আবারও থানায় নিয়ে গিয়ে “মুক্তিপণ দাবি” সংক্রান্ত আরেকটি কথিত মামলায় আসামি করা হয় এবং জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ সময় তার পিতা আব্দুস ছালাম ছেলেকে দেখতে থানায় গেলে তৎকালীন ওসি আল হেলাল মাহমুদ এসআই জাহেদুল ইসলামের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদা নেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া রিমান্ড আবেদন ও রিমান্ডে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে আরিফের বোন সাফিয়ার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এবং আনোয়ার হোসেন আরিফ জেল হাজতে থাকা অবস্থায় ভূরুঙ্গামারী থানায় দায়েরকৃত জি আর ১৭/২৫ ও জি আর ৮০/২৫ মামলায় বেআইনী ভাবে পিডব্লিউ আবেদনের মাধ্যমে আরো ২ টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফ দাবি করেন, ওই মামলার তথাকথিত ভুক্তভোগী ইসমাইল হোসেন, আলা উদ্দীন এবং মামলার বাদী আব্দুল মান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি দেওয়ার সময় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আরিফের বিরুদ্ধে তারা কোনো অভিযোগ বা মামলা করেননি বলে ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, মামলায় আরিফের নাম এসআই জাহেদুল ইসলাম নিজেই অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উল্লেখ করেছেন।
মোঃ আলম হোসেন অভিযোগ তুলে বলেন, একই মামলার চার্জশিটে প্রবাসে অবস্থানরত তার ছোট ভাই মোঃ শাহ আলমকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী মোঃ শাহ আলম এর বড় ভাই মসজিদের ইমাম মোঃ আলম হোসেনকেও অজ্ঞাত আসামি হিসেবে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, ভাওয়ালকুড়ি এলাকার রাজমিস্ত্রি মোঃ রোকনুজ্জামান রোকনকে ঘটনার নয় মাস পর গ্রেপ্তার করা হয়, যদিও ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। একইভাবে আরাজী পাইকডাঙ্গা এলাকার ফজলুল হক ঘটনার দিন বগুড়ায় শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করলেও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় রিমান্ডে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, আরাজী পাইকডাঙ্গা এলাকার মসজিদের মুয়াজ্জিন মোঃ তফের আলী নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় তাকে আটক করে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। একইভাবে আলা উদ্দীন নামের এক মিস্ত্রিকেও অজ্ঞাত আসামি হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বক্তাদের অভিযোগ, বাবুর হাট এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম হাবুর ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম রতনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিলাই ইউনিয়নের শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ মামুনুর রশিদ (মামুন)-এর একটি পা ভাঙা থাকা সত্ত্বেও তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একই মামলায় জড়িয়ে ছয় মাস কারাভোগ করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের একটি জুট মিলে কর্মরত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকায় অবস্থানকারী মোঃ রাসেল মিয়া, মোঃ নুর নবী বুলু, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ শাহ আলম, মোঃ সুমন, মোঃ আয়নাল হক, মোঃ ছানোয়ার হোসেন, ঢাকায় বসবাসরত মাইক্রোচালক মোঃ মামুন, মাছ ব্যবসায়ী মোঃ জাহিদুল ইসলাম, জাকির হোসেন এবং সোনাতলী এলাকার মোঃ শহিদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বক্তাদের ভাষ্যমতে, মোঃ শহিদুল ইসলামকে আদালতের কোনো পরোয়ানা ছাড়াই বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে গিয়ে কথিত “আসামি ছিনতাই” মামলাসহ তিনটি মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
এছাড়া পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলামকে সাইকেল চুরির অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে বাবুর হাটের “আসামি ছিনতাই” মামলায় অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে আদালতে চালান করা হয় বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম, স্বপন মিয়া, আয়নাল হক, মামুন মিয়া সহ আরো অনেকেই অভিযোগ তুলে বলেন এসআই জাহেদুল ইসলাম বিভিন্ন সোর্স দিয়ে তাদের কাছে ঘুষ দাবি করে। তারা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় তাদের নাম কথিত মামলার চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেছে এসআই জাহেদুল ইসলাম।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে এসআই জাহেদুল ইসলামের প্রত্যাহার, অভিযোগ গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কথিত মিথ্যা মামলাগুলো পুনঃতদন্তেরও আহ্বান জানান।
এ ব্যাপারে এসআই জাহেদুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি কোন ঘুষ গ্রহণ কিংবা চাঁদা দাবী এবং কোন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে আসামী করি নাই।
















