জলাবদ্ধতার শঙ্কায় রাজধানী
- আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
পানি নিষ্কাশনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিলেও ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণে ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। অন্যদিকে রাজধানীতে এখনই জলাবদ্ধতার হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুম নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। প্রায় প্রতি বছরই হাঁটু সমান পানিতে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। চলতি মৌসুমেও মে এবং জুন মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টিতেই রাজধানীর রাজারবাগ, নিউমার্কেটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। বর্ষার আগেই এমন জলাবদ্ধতা জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশী। স্বাভাবিক অবস্থায় একটু ভারী বৃষ্টি হলেই রাজধানীর সিংহভাগ রাস্তা ঘাট ডুবে যায় পানিকে। কোনো স্থানে সড়কে পানি থৈ থৈ করে। এ সমস্যা থেকে নিস্কৃতি পেতে জরুরী ভিত্তিতে রাজধানীর প্রাণ কেন্দ্রগুলোতে ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন, খাল জলাশয় পুনঃউদ্ধার করা প্রয়োজন।
জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা এলেই তড়িঘড়ি করে নানা উদ্যোগ নেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক-ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকায়। তবে এক মাস ধরে চলা খোঁড়াখুঁড়িতে কোথাও ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, কোথাও সরু বাঁশের ওপর দিয়ে খোলা ড্রেন পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করলে এসব সমস্যা এড়ানো যেত। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, পুরোনো পাইপ ঠিক থাকলেও নতুন পাইপ বসানো হচ্ছে, যার পার্থক্য মাত্র ছয় ইঞ্চি। এতে ময়লা সহজে বের হবে না। অথচ এই কাজের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১২ থেকে ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যা অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু একই ধরনের পাইপ বসালে কোনো লাভ হবে না। পানির প্রবাহ ঠিক না থাকলে সারা বছর পরিষ্কার করেও উপকার পাওয়া যাবে না।
২০২৪ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও খাল রক্ষণাবেক্ষণে দুই সিটি করপোরেশন মিলে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন বলছে, আগের অনিয়ম কাটিয়ে নতুনভাবে কাজ করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার হয়নি, সে অচলাবস্থা কাটিয়ে এখন ধীরে ধীরে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে আমাদের কাজই সহজ হবে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না, কার্যকর পরিকল্পনা ও সমন্বয় দরকার। তিনি বলেন, রাজধানীর ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার করা না গেলে চিরচেনা জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। বর্তমানে নগরীর মশা ও জলাবদ্ধতার প্রকট সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, এমন একটা সময় আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যখন মশার সমস্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।
তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা কেবল সিটি করপোরেশনের একার কাজ নয়, বরং এর পেছনে জনগণ ও সংস্থা উভয় পক্ষেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আবদুস সালাম আরো বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারব না। শহরের অধিকাংশ খাল ও পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে তিনি দাবি করেন যে, বর্তমান অবকাঠামোতেও আগের তুলনায় এখন অনেক দ্রুত পানি নেমে যায়।
এছাড়া শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে ভরাটকৃত খালগুলো উদ্ধার এবং নদী বাঁচানোর বিকল্প নেই মন্তব্য করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকরা যদি সচেতন হয়, তবে সিটি করপোরেশনের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা অনেক সহজ হবে। দ্রুততম সময়ে জনদুর্ভোগ নিরসনে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শত শত কোটি টাকা খরচ হলেও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে গড়ে তোলা ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে না। ফলে কাঙ্খিত ফল মিলছে না। নতুন প্রকল্প নেয়ার চেয়ে আগের অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।
///////
















