রামুতে বনের জমি জবরদখল করে বাড়ি নির্মানসহ বিস্তর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ দুর্নীতির মহোৎসবে পরিনত হয়েছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগীয় কর্মকর্তার রহস্যজনক নিরবতার কারণে সরকারি বনজ সম্পদ জ্যামিতিক হারে জবরদখল সহ হরিলুটের রামরাজত্ব চললে ও রামুর রাজার কুল রেঞ্জে লাগাম টানার কেউ নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডস্থ রাজারকুল বিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে সহায়তার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের । এসব অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্হানীয় পত্রিকা সমুহে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে ও দায়িত্বে নিয়োজিত রাজার কুল রেঞ্জের দায়েত্বে নিয়োজিত এসিএফ অভিউজ্জামান ও সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা পল্লব শাহ এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম অব্যাহত রেখেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ , সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা পল্লব শাহ এবং রেঞ্জ ট্রেইনিং কর্মকর্তা অভিউজ্জমানের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বনভূমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের গোপন অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারকুল ইউনিয়নের চৌকিদারপাড়া এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বনভূমিতে দালানকোঠা নির্মাণের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে ছুরত আলি প্রায় ২৫ হাজার টাকা, আব্দুস সালাম ১৫ হাজার টাকা এবং জহির নামের এক ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ২ মে ২০২৬ তারিখে বন বিভাগ একটি অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই অভিযানটি ছিল মূলত লোক দেখানো। অভিযানের সময় একটি নির্মাণাধীন স্থাপনায় বাধা দেওয়ার নাটকীয়তা দেখা গেলেও, পরবর্তীতে আবারো পূর্ণোদ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। উক্ত অভিযানের সময় বিট কর্মকর্তা পল্লব শাহ’র মুখের মুচকি হাসিই উক্ত অভিযানের পিছনের রহস্য বর্ণনা করে।
এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বনাঞ্চলের গাছ নির্বিচারে কাটার অনুমতি দেওয়া, পাহাড় কাটায় গোপন সহযোগিতা প্রদানসহ বিভিন্ন পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েও তারা বন ধ্বংসের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে অচিরেই বনাঞ্চলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বনভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।














