ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, টেকনাফে ভিজিএফ চাল বিতরণ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদীর মোহনায় মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিতরণ কার্যক্রমে নিবন্ধিত ১ হাজার ২০৭ জন জেলের মাঝে জনপ্রতি ৭৭ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। চাল নিতে সকাল থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে জেলেরা ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করেন।
চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জমিলা আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, “সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষায় সরকার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এ সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্য সংকটে না পড়েন, সেজন্য সরকার তাদের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল নিবন্ধিত জেলের মাঝে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়লেও ভবিষ্যতে বেশি মাছ আহরণের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।”
স্থানীয় জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। সরকারের দেওয়া এই চাল সহায়তা তাদের জন্য অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা নিয়মিত ও সঠিকভাবে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, টেকনাফে ভিজিএফ চাল বিতরণ

আপডেট সময় :

সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদীর মোহনায় মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিতরণ কার্যক্রমে নিবন্ধিত ১ হাজার ২০৭ জন জেলের মাঝে জনপ্রতি ৭৭ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। চাল নিতে সকাল থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে জেলেরা ইউনিয়ন পরিষদে ভিড় করেন।
চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদশা মিয়া, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জমিলা আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, “সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষায় সরকার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এ সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্য সংকটে না পড়েন, সেজন্য সরকার তাদের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল নিবন্ধিত জেলের মাঝে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সাময়িকভাবে কর্মহীন হয়ে পড়লেও ভবিষ্যতে বেশি মাছ আহরণের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।”
স্থানীয় জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে মাছ ধরতে না পারায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। সরকারের দেওয়া এই চাল সহায়তা তাদের জন্য অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা নিয়মিত ও সঠিকভাবে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।