ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

স্বামীকে হত্যার পর হাড় মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন স্ত্রী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড স্ত্রী, মরদেহের শরীর টুকরো টুকরো করে কেটে মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন অন্তত তিন দিন। এরপর দেহাংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে এসে মাংস ফ্রিজে রাখতে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ ধরা পড়েন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালেশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের সাথে মুঠোফোনে পরিচয়ে আট বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তার। তাদের দুজনের ছিলো এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আসমা আক্তারকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন স্বামী জিয়া সরদার। সবশেষ গত বছর জিয়া সরদার দেশে ফিরলে দুজনে চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় বসবাস করা শুরু করে। সম্প্রতি স্ত্রী আসমা আক্তারের সাথে জিয়া সরদারের পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। সে জের ধরে মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন স্ত্রী আসমা। এরপর মরদেহটি লুকিয়ে রাখতে ছুরির সাহায্যে দেহটি কয়েক টুকরো করে হাড় মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন তিন দিন। সবশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়। পরবর্তীতে দেহের মাংসগুলো শহরের পালং এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার বাড়িতে ফ্রিজে রাখতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এক পর্যায়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ওই নারীকে আটক শেষে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিভিন্নস্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এছাড়াও একই দিন বিকালে নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর হতে নিহতের খণ্ডিত চার হাত-পা উদ্ধার করে নড়িয়া থানা পুলিশ। এদিকে অকপটে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন স্ত্রী আসমা বেগম।
নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকতো। কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি ভাইকে নাকি ওই নারী হত্যা করে ড্রামে ভরে লাশ ফেলে রেখেছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি সত্যিই এমনটা হয়েছে। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই।
অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, আমরা স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করত। মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে মরদেহ টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। আমি একটা পিপড়াও মারিনি। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো বুঝতে পারিনি।
বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, সে তার স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার পর মরদেহের হাতপা টুকরো করে মাংস আলাদা করে ফেলে। পরে ড্রামে ভরে আজ সন্ধ্যায় অটোটে করে মরদেহের বিভিন্ন অংশ কয়েকটি জায়গায় ফেলে রাখেন। পরে মাংসগুলো তার সাবেক ভাড়াবাসায় ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নাম্বারে কল দেয়। আমরা ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলে সব কথা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্বামীকে হত্যার পর হাড় মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন স্ত্রী

আপডেট সময় :

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড স্ত্রী, মরদেহের শরীর টুকরো টুকরো করে কেটে মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন অন্তত তিন দিন। এরপর দেহাংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে এসে মাংস ফ্রিজে রাখতে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ ধরা পড়েন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালেশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের সাথে মুঠোফোনে পরিচয়ে আট বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তার। তাদের দুজনের ছিলো এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আসমা আক্তারকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখেন স্বামী জিয়া সরদার। সবশেষ গত বছর জিয়া সরদার দেশে ফিরলে দুজনে চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়াবাসায় বসবাস করা শুরু করে। সম্প্রতি স্ত্রী আসমা আক্তারের সাথে জিয়া সরদারের পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। সে জের ধরে মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন স্ত্রী আসমা। এরপর মরদেহটি লুকিয়ে রাখতে ছুরির সাহায্যে দেহটি কয়েক টুকরো করে হাড় মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন তিন দিন। সবশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়। পরবর্তীতে দেহের মাংসগুলো শহরের পালং এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার বাড়িতে ফ্রিজে রাখতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এক পর্যায়ে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ওই নারীকে আটক শেষে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিভিন্নস্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এছাড়াও একই দিন বিকালে নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর হতে নিহতের খণ্ডিত চার হাত-পা উদ্ধার করে নড়িয়া থানা পুলিশ। এদিকে অকপটে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন স্ত্রী আসমা বেগম।
নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসাভাড়া নিয়ে থাকতো। কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি ভাইকে নাকি ওই নারী হত্যা করে ড্রামে ভরে লাশ ফেলে রেখেছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি সত্যিই এমনটা হয়েছে। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই।
অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, আমরা স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করত। মঙ্গলবার রাতে কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে মরদেহ টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। আমি একটা পিপড়াও মারিনি। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেলো বুঝতে পারিনি।
বিষয়টি নিয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, সে তার স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার পর মরদেহের হাতপা টুকরো করে মাংস আলাদা করে ফেলে। পরে ড্রামে ভরে আজ সন্ধ্যায় অটোটে করে মরদেহের বিভিন্ন অংশ কয়েকটি জায়গায় ফেলে রাখেন। পরে মাংসগুলো তার সাবেক ভাড়াবাসায় ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নাম্বারে কল দেয়। আমরা ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞেস করলে সব কথা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। তার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।