ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দুদুকের ক্রোককৃত রাজবাড়ীর নিহাজ জুটমিল

৮ একর জমি বেদখল ও রাতের আঁধারে মেশিনারি লুটপাট

আতিয়ার রহমান, রাজবাড়ী
  • আপডেট সময় : ৪১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিমপুরে অবস্থিত নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেড।গত ২০০৪ সালে শহীদুজ্জামান চয়ন ফরিদপুর সোনালী ব্যাংক থেকে তার মিলের সোয়া আট একর স্থাবর অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি বন্ধক রেখে ১৪ কোটি ৭৯ লক্ষ ৬৩ হাজার ৮৬১ টাকা ঋন নিয়ে মিলটি স্থাপন করেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত মালিক পক্ষ সোনালী ব্যাংকের ঋনের বিপরীতে লভ্যাংশ সহ ৩১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৯ টাকা ব্যাংকের কাছে দেনা হন।এ বিশাল অর্থ সোনালী ব্যাংককে পরিশোধ করতে না পারায় ২০১৬ সালে ফরিদপুর আদালতে মামলা করে সোনালী ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বিজ্ঞ আদালত সোনালী ব্যাংকের অর্থ আদায়ে ব্যাংকের পক্ষে রায় দেয়। এদিকে জুট মিলের মালিক’কে ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ মোজাহার আলী সরদার স্বাক্ষরিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ২১ ধারায় এ মিলের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকাদেশ ও ক্রোককৃত সম্পত্তির নিয়ন্ত্রন, ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থাপক ও তত্বাবধায়ক নিয়োগাদেশ প্রদান করেন।ইতমধ্যে অভিযুক্ত শহিদুজ্জমান চয়নের বিরুদ্ধে, তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ওয়ারেন্ট হওয়ায় তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। গত ২০১২ সালে শহিদুজ্জামান চয়ন তার সোনালী ব্যাংকের ঋনের তথ্য গোপন রেখে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.এর কাছে ৭৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেয়।ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. শহিদুজ্জামান চয়নের সোনালী ব্যাংকের নিকট ঋন, বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগ্রহিত অর্থ ও সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তর ও আত্মসাতের প্রমান পাওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুদকের অভিযোগে শহিদুজ্জামান চয়ন ও আরো কয়েক জনকে আসামী করে কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের ও অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়।
রাজবাড়ীতে নিহাজ জুট মিলের মালিক শহিদুজ্জমানের অংশিদার প্যারাডাইস কোম্পানির মালিক মো. মোবারক তিনি রাজবাড়ী আদালতে জালিয়াতি মামলা করলে সে মামলায় গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করে আদালত।বর্তমানে সদর থানায় জালিয়াতি মামলার ওয়ারেন্টের আসামী সহ তার বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে । ইতমধ্যে আদালত ডেসটিনি নিহাজ জুট মিলের সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারকে দেখভালের দ্বায়িত্ব প্রদান করেন।জেলা পুলিশ রাজবাড়ী সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেলকে এ মিলের ক্রোককৃত সম্পত্তি সরেজমিন পরিদর্শন ও আইনানুগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মিলের বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় নিরাপত্তা রক্ষার্থে ওই মিলের ডিজিএম খালেদ মঞ্জুর খানকে তদারকি জিম্মাদার প্রদান করা হয়।খালিদ মঞ্জুর ২০১৪ সালে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলে,রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মিলটি বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেন।পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে মোঃ হান্নান মিয়া ও চীপ সুপারভাইজার হিসেবে মোঃ আরিফ সরদারকে দ্বায়িত্ব প্রদান করা হয়। মিলটির সিকিউরিটি, শ্রমিকদের মজুরী, ও যাবতীয় খরচ মিটানোর জন্য স্বল্প পরিসরে মিল সচল রাখা হয়।
গত ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর শহিদুজ্জামান ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা আদালতের আদেশ অমান্য করে নিহাজ জুট মিলটি জোর জবরদোস্তি করে তাদের দখলে নেয়। দখলে নিয়ে এ মিলটির বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের যন্ত্রাংশ, মিলের ভেতরে থাকা বড় বড় গাছ অবৈধভাবে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করে ও মিলের অব্যহৃত জমি ও মাছের ঘের জনসাধরনের কাছে লিজ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে শহিদুজ্জামান চয়নের আত্মীয় স্বজন ও সন্ত্রাসী বাহিনী।২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পর্যন্ত মিলটিতে তিন শিফটে সুতা উৎপাদনে ১ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে মিল বেদখলের পরে সেখান থেকে উৎপান কমতে কমতে চলতি বছর মিলটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় শহিদুজ্জামান চয়নের বাহিনী। মিলটি বন্ধ হওয়ায় এখানে কাজ করা শ্রমিকরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ মিলটিতে শহিদুজ্জামানের সব আত্মীয় স্বজনদের বিভিন্ন দ্বায়িত্বে রেখেছে।এর মধ্যে শহিদুজ্জামান চয়নের মেয়ের জামাতা তরিকুল ইসলাম শফি, মেয়ে গোলাম মোস্তফা জীবন,শামসুন্নাহার আদরী,শিল্পি আক্তার,বাবলু সরদার,শারমিন ইসলাম পপি,রায়হান সরদার চুন্নু,সরদার রেজাউল করিম রাজা ও সন্ত্রাসী বাহিনী মিলের সমস্ত সম্পত্তি লুটপাট করছে।দখলের পর কিছুদিন মিলটি চালমান থাকলেও বর্তমানে মিলের সমস্ত উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তারা।শহিদুজ্জামান প্রতারনা করে জমির দলিল করায় এলাকার নিরিহ বেশ কয়েকজন জেল খাটে।মিলটি ক্রোক করার পর যারা দ্বায়িত্বে ছিলেন তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় হেনস্তা ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকী দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে শহিদুজ্জামান চয়নের চাচাতো ভাই বাদল সরদার ৫ আগষ্টের পর তিনি নিহাজ জুটমিলটি নিজে উপস্থিত থেকে দখল করেছেন বলে স্বীকার করেন।
মিলের শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগন বলেন,এ মিলটি দীর্ঘ বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান থাকলেও ৫ আগস্টের পর সরকারের তত্বাবধানে থাকা মিলটি দখল করার পর কিছুদিন চালু রেখে বন্ধ করে দেয়। মিলের দামী দামী মেশিনারী চুরি সহ রাতের অন্ধাকারে সব বিক্রি করে ফেলা হচ্ছে।মিল বন্ধের কারনে যারা শ্রমিক কর্মচারী রয়েছেন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।সরকার মিলটি যেন আবার চালু করার দাবী জানান।
নিহাজ জুট স্পিনার্স লি. এর চীপ সুপারভাইজার মোঃ আরিফ সরদার বলেন, মিলের দ্বায়িত্বে থাকার কারনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকী সহ নানা ভাবে হয়রানী করা হচ্ছেে। এসব হয়রানি থেকে বাঁচতে ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান ।
নিহাজ জুট স্পিনার্স লি. এর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. হান্নান মিয়া বলেন দুদক এ মিলটি ক্রোক করার পর প্পরশাসনের পক্ষ থেকে পরিচালনার দ্বায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়।কিন্তু ৫ আগষ্টের পর সরকার পরিবর্তনের কারনে শহিদুজ্জামান চয়ন তার লোকজন নিয়ে মিলটি দখল করে।এর পর থেকে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।এ মিল থেকে আমাকে বের করে দিলে আমি পুলিশ সুপার,সদর সার্কেল ও সদর থানার ওসির কাছে মিলের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেই এবং মিলের বিভিন্ন মেশিনারি বিষয়ে লিখিত পেপার দেওয়া হয়েছে।
তরিকুল ইসলাম শফি,স্ব- ঘোষিত ব্যবস্থাপক- নিহাজ জুট স্পিনার্স লি, তার কাছে মিলের মালিক কে জানতে চাইলে তিনি একবার বলেন বলেন- এই মিলের মালিক সোনালী ব্যাংক, আবার বলেন সাবেক মালিক সহিদুজ্জামান চয়ন। আবার বলেন, এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন না। চয়ন সাহেব বলতে পারবেন,তার সাথে কথা বলতে পারেন।তিনি শুধু মালিক সহিদুজ্জামান চয়নের কথায় এ মিলটা দেখার জন্য দ্বায়িত্ব পেয়েছেন, এখন তাদের অর্ডারেই বন্ধ করে চলে গেছেন বলে জানান।
রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শাহিদুল ইসলাম বলেন, এ মিলটি দুদক জেলা পুলিশের তত্বাবধানে দিয়েছে।এর পর সদর সার্কেল মিলের সার্বিক দ্বায়িত্ব পালন করে আসছে। মিলটি পরিদর্শন করে, সরকার ক্রোককৃত এই মিলের ব্যবস্থাপনায় কেউ যদি অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে দোষিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুদুকের ক্রোককৃত রাজবাড়ীর নিহাজ জুটমিল

৮ একর জমি বেদখল ও রাতের আঁধারে মেশিনারি লুটপাট

আপডেট সময় :

রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মজলিমপুরে অবস্থিত নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেড।গত ২০০৪ সালে শহীদুজ্জামান চয়ন ফরিদপুর সোনালী ব্যাংক থেকে তার মিলের সোয়া আট একর স্থাবর অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি বন্ধক রেখে ১৪ কোটি ৭৯ লক্ষ ৬৩ হাজার ৮৬১ টাকা ঋন নিয়ে মিলটি স্থাপন করেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত মালিক পক্ষ সোনালী ব্যাংকের ঋনের বিপরীতে লভ্যাংশ সহ ৩১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৯ টাকা ব্যাংকের কাছে দেনা হন।এ বিশাল অর্থ সোনালী ব্যাংককে পরিশোধ করতে না পারায় ২০১৬ সালে ফরিদপুর আদালতে মামলা করে সোনালী ব্যাংক। সোনালী ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বিজ্ঞ আদালত সোনালী ব্যাংকের অর্থ আদায়ে ব্যাংকের পক্ষে রায় দেয়। এদিকে জুট মিলের মালিক’কে ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ মোজাহার আলী সরদার স্বাক্ষরিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ২১ ধারায় এ মিলের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকাদেশ ও ক্রোককৃত সম্পত্তির নিয়ন্ত্রন, ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থাপক ও তত্বাবধায়ক নিয়োগাদেশ প্রদান করেন।ইতমধ্যে অভিযুক্ত শহিদুজ্জমান চয়নের বিরুদ্ধে, তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ওয়ারেন্ট হওয়ায় তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। গত ২০১২ সালে শহিদুজ্জামান চয়ন তার সোনালী ব্যাংকের ঋনের তথ্য গোপন রেখে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.এর কাছে ৭৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেয়।ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. শহিদুজ্জামান চয়নের সোনালী ব্যাংকের নিকট ঋন, বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগ্রহিত অর্থ ও সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তর ও আত্মসাতের প্রমান পাওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুদকের অভিযোগে শহিদুজ্জামান চয়ন ও আরো কয়েক জনকে আসামী করে কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের ও অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়।
রাজবাড়ীতে নিহাজ জুট মিলের মালিক শহিদুজ্জমানের অংশিদার প্যারাডাইস কোম্পানির মালিক মো. মোবারক তিনি রাজবাড়ী আদালতে জালিয়াতি মামলা করলে সে মামলায় গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করে আদালত।বর্তমানে সদর থানায় জালিয়াতি মামলার ওয়ারেন্টের আসামী সহ তার বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে । ইতমধ্যে আদালত ডেসটিনি নিহাজ জুট মিলের সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারকে দেখভালের দ্বায়িত্ব প্রদান করেন।জেলা পুলিশ রাজবাড়ী সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেলকে এ মিলের ক্রোককৃত সম্পত্তি সরেজমিন পরিদর্শন ও আইনানুগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মিলের বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় নিরাপত্তা রক্ষার্থে ওই মিলের ডিজিএম খালেদ মঞ্জুর খানকে তদারকি জিম্মাদার প্রদান করা হয়।খালিদ মঞ্জুর ২০১৪ সালে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলে,রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মিলটি বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেন।পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে মোঃ হান্নান মিয়া ও চীপ সুপারভাইজার হিসেবে মোঃ আরিফ সরদারকে দ্বায়িত্ব প্রদান করা হয়। মিলটির সিকিউরিটি, শ্রমিকদের মজুরী, ও যাবতীয় খরচ মিটানোর জন্য স্বল্প পরিসরে মিল সচল রাখা হয়।
গত ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর শহিদুজ্জামান ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা আদালতের আদেশ অমান্য করে নিহাজ জুট মিলটি জোর জবরদোস্তি করে তাদের দখলে নেয়। দখলে নিয়ে এ মিলটির বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের যন্ত্রাংশ, মিলের ভেতরে থাকা বড় বড় গাছ অবৈধভাবে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করে ও মিলের অব্যহৃত জমি ও মাছের ঘের জনসাধরনের কাছে লিজ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে শহিদুজ্জামান চয়নের আত্মীয় স্বজন ও সন্ত্রাসী বাহিনী।২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পর্যন্ত মিলটিতে তিন শিফটে সুতা উৎপাদনে ১ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে মিল বেদখলের পরে সেখান থেকে উৎপান কমতে কমতে চলতি বছর মিলটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় শহিদুজ্জামান চয়নের বাহিনী। মিলটি বন্ধ হওয়ায় এখানে কাজ করা শ্রমিকরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ মিলটিতে শহিদুজ্জামানের সব আত্মীয় স্বজনদের বিভিন্ন দ্বায়িত্বে রেখেছে।এর মধ্যে শহিদুজ্জামান চয়নের মেয়ের জামাতা তরিকুল ইসলাম শফি, মেয়ে গোলাম মোস্তফা জীবন,শামসুন্নাহার আদরী,শিল্পি আক্তার,বাবলু সরদার,শারমিন ইসলাম পপি,রায়হান সরদার চুন্নু,সরদার রেজাউল করিম রাজা ও সন্ত্রাসী বাহিনী মিলের সমস্ত সম্পত্তি লুটপাট করছে।দখলের পর কিছুদিন মিলটি চালমান থাকলেও বর্তমানে মিলের সমস্ত উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তারা।শহিদুজ্জামান প্রতারনা করে জমির দলিল করায় এলাকার নিরিহ বেশ কয়েকজন জেল খাটে।মিলটি ক্রোক করার পর যারা দ্বায়িত্বে ছিলেন তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় হেনস্তা ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকী দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে শহিদুজ্জামান চয়নের চাচাতো ভাই বাদল সরদার ৫ আগষ্টের পর তিনি নিহাজ জুটমিলটি নিজে উপস্থিত থেকে দখল করেছেন বলে স্বীকার করেন।
মিলের শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগন বলেন,এ মিলটি দীর্ঘ বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান থাকলেও ৫ আগস্টের পর সরকারের তত্বাবধানে থাকা মিলটি দখল করার পর কিছুদিন চালু রেখে বন্ধ করে দেয়। মিলের দামী দামী মেশিনারী চুরি সহ রাতের অন্ধাকারে সব বিক্রি করে ফেলা হচ্ছে।মিল বন্ধের কারনে যারা শ্রমিক কর্মচারী রয়েছেন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।সরকার মিলটি যেন আবার চালু করার দাবী জানান।
নিহাজ জুট স্পিনার্স লি. এর চীপ সুপারভাইজার মোঃ আরিফ সরদার বলেন, মিলের দ্বায়িত্বে থাকার কারনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকী সহ নানা ভাবে হয়রানী করা হচ্ছেে। এসব হয়রানি থেকে বাঁচতে ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান ।
নিহাজ জুট স্পিনার্স লি. এর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. হান্নান মিয়া বলেন দুদক এ মিলটি ক্রোক করার পর প্পরশাসনের পক্ষ থেকে পরিচালনার দ্বায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়।কিন্তু ৫ আগষ্টের পর সরকার পরিবর্তনের কারনে শহিদুজ্জামান চয়ন তার লোকজন নিয়ে মিলটি দখল করে।এর পর থেকে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।এ মিল থেকে আমাকে বের করে দিলে আমি পুলিশ সুপার,সদর সার্কেল ও সদর থানার ওসির কাছে মিলের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেই এবং মিলের বিভিন্ন মেশিনারি বিষয়ে লিখিত পেপার দেওয়া হয়েছে।
তরিকুল ইসলাম শফি,স্ব- ঘোষিত ব্যবস্থাপক- নিহাজ জুট স্পিনার্স লি, তার কাছে মিলের মালিক কে জানতে চাইলে তিনি একবার বলেন বলেন- এই মিলের মালিক সোনালী ব্যাংক, আবার বলেন সাবেক মালিক সহিদুজ্জামান চয়ন। আবার বলেন, এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন না। চয়ন সাহেব বলতে পারবেন,তার সাথে কথা বলতে পারেন।তিনি শুধু মালিক সহিদুজ্জামান চয়নের কথায় এ মিলটা দেখার জন্য দ্বায়িত্ব পেয়েছেন, এখন তাদের অর্ডারেই বন্ধ করে চলে গেছেন বলে জানান।
রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শাহিদুল ইসলাম বলেন, এ মিলটি দুদক জেলা পুলিশের তত্বাবধানে দিয়েছে।এর পর সদর সার্কেল মিলের সার্বিক দ্বায়িত্ব পালন করে আসছে। মিলটি পরিদর্শন করে, সরকার ক্রোককৃত এই মিলের ব্যবস্থাপনায় কেউ যদি অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে দোষিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান।