ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

ডানার ঝাপটায় জেগে ওঠে জলাভূমি ‎

ডাকিয়া পটল বিলে অতিথি পাখির রাজ্য

‎‎ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি‎
  • আপডেট সময় : ২৭৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‎টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের ডাকিয়া পটল এলাকার মলাদহ বিলে এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।জলের বুক ছুঁয়ে একের পর এক ডানা মেলে উড়ছে পাখিরা। কোথাও পানিতে নামার মুহূর্তে ছিটকে উঠছে জলের ফোঁটা, কোথাও আবার দলবেঁধে আকাশে উড়াল।‎
‎শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই বিলগুলোতে ভিড় জমিয়েছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। কচুরিপানায় ঘেরা জলরাশিতে তারা নেমে আসে খাবারের সন্ধানে, আবার মুহূর্তেই দল বেঁধে উড়ে যায় নিরাপদ আশ্রয়ে। ছবির মতো এমন দৃশ্য দেখে মনে হয়—এ যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব।‎
‎ঘাটাইল উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত আনেহলা ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৮টি বিল রয়েছে। এর মধ্যে মলাদহ সবচেয়ে বড়। শীত মৌসুমজুড়ে মলাদহসহ পুঁইটা, ঝাইতলা, বরকম, ধোপারকম ও খৈইলাকুড়ি বিলে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির মিলনমেলা বসে।‎
‎এ এলাকায় বালিহাঁস, পাতিহাঁস, সারস, পানকৌড়ি, নারিলা ও ডাহুকসহ নানা প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। সকালে খাবারের খোঁজে পানিতে নেমে পড়া আর বিকেলে দলবেঁধে উড়াল—এই ছন্দেই কেটে যায় তাদের দিন। জলাভূমির ওপর ডানা ঝাপটানোর শব্দে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে।
‎‎বিলবেষ্টিত ডাকিয়া পটল গ্রাম শীতকালে যেন পাখিদের আপন ঠিকানা। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের অনেকে। ব্যস্ত পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করেন পাখির এই উড়াল।
‎‎তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের তুলনায় অতিথি পাখির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। অবৈধ শিকার ও পরিবেশগত ঝুঁকি এই জলাভূমির পাখিদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা।‎
‎ডাকিয়া পটল গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক বাবর হোসেন বলেন, ‎“শীত এলেই পাখিদের ডানার শব্দে বিল জেগে ওঠে। ওরা চলে গেলে জায়গাটা কেমন ফাঁকা লাগে। তাই পাখিদের রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব।”‎
‎পাখিপ্রেমীরা বলছেন, এই জলাভূমিগুলো রক্ষা করা গেলে শুধু পাখিই নয়—প্রকৃতি ও পরিবেশও টিকে থাকবে।
‎‎ডানার ঝাপটায় জল ছিটকে ওঠা এই দৃশ্য আজ শুধু একটি ছবি নয়—এটি ডাকিয়া পটলের শীতকালীন জীবনের প্রতিচ্ছবি। সঠিক সংরক্ষণ আর সচেতনতা থাকলে অতিথি পাখির এই রাজ্য আগামী দিনেও টিকে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডানার ঝাপটায় জেগে ওঠে জলাভূমি ‎

ডাকিয়া পটল বিলে অতিথি পাখির রাজ্য

আপডেট সময় :

‎টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের ডাকিয়া পটল এলাকার মলাদহ বিলে এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।জলের বুক ছুঁয়ে একের পর এক ডানা মেলে উড়ছে পাখিরা। কোথাও পানিতে নামার মুহূর্তে ছিটকে উঠছে জলের ফোঁটা, কোথাও আবার দলবেঁধে আকাশে উড়াল।‎
‎শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই বিলগুলোতে ভিড় জমিয়েছে হাজার হাজার অতিথি পাখি। কচুরিপানায় ঘেরা জলরাশিতে তারা নেমে আসে খাবারের সন্ধানে, আবার মুহূর্তেই দল বেঁধে উড়ে যায় নিরাপদ আশ্রয়ে। ছবির মতো এমন দৃশ্য দেখে মনে হয়—এ যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব।‎
‎ঘাটাইল উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত আনেহলা ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৮টি বিল রয়েছে। এর মধ্যে মলাদহ সবচেয়ে বড়। শীত মৌসুমজুড়ে মলাদহসহ পুঁইটা, ঝাইতলা, বরকম, ধোপারকম ও খৈইলাকুড়ি বিলে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির মিলনমেলা বসে।‎
‎এ এলাকায় বালিহাঁস, পাতিহাঁস, সারস, পানকৌড়ি, নারিলা ও ডাহুকসহ নানা প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। সকালে খাবারের খোঁজে পানিতে নেমে পড়া আর বিকেলে দলবেঁধে উড়াল—এই ছন্দেই কেটে যায় তাদের দিন। জলাভূমির ওপর ডানা ঝাপটানোর শব্দে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে।
‎‎বিলবেষ্টিত ডাকিয়া পটল গ্রাম শীতকালে যেন পাখিদের আপন ঠিকানা। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের অনেকে। ব্যস্ত পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করেন পাখির এই উড়াল।
‎‎তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের তুলনায় অতিথি পাখির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। অবৈধ শিকার ও পরিবেশগত ঝুঁকি এই জলাভূমির পাখিদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন তারা।‎
‎ডাকিয়া পটল গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক বাবর হোসেন বলেন, ‎“শীত এলেই পাখিদের ডানার শব্দে বিল জেগে ওঠে। ওরা চলে গেলে জায়গাটা কেমন ফাঁকা লাগে। তাই পাখিদের রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব।”‎
‎পাখিপ্রেমীরা বলছেন, এই জলাভূমিগুলো রক্ষা করা গেলে শুধু পাখিই নয়—প্রকৃতি ও পরিবেশও টিকে থাকবে।
‎‎ডানার ঝাপটায় জল ছিটকে ওঠা এই দৃশ্য আজ শুধু একটি ছবি নয়—এটি ডাকিয়া পটলের শীতকালীন জীবনের প্রতিচ্ছবি। সঠিক সংরক্ষণ আর সচেতনতা থাকলে অতিথি পাখির এই রাজ্য আগামী দিনেও টিকে থাকবে।