ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নকলা হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ রেখে পালিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন Logo ক্রীড়াঙ্গনে ইউএনও’র অবদান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬ এ চ্যাম্পিয়ন নগরকান্দা উপজেলা Logo কৃষকদের সাথে জেলা প্রশাসক, কালেক্টর,বিজ্ঞজেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মতবিনিময় Logo মোংলায় উপজেলা বহুপক্ষীয় মৎস্যজীবী নেটওয়ার্কের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo নবীনগরে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান Logo সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বদলে যান : কারা বন্দিদের ডিসি জাহিদ Logo মাগুরায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ Logo পাইকগাছা কপিলমুনিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আশ্বাস দিলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ Logo ‘নিজেদের সম্পদ থাকতে আমদানি নয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে’ Logo অস্ত্রের মুখে ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকা লুট

সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বদলে যান : কারা বন্দিদের ডিসি জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নারী বন্দিদের উদ্দেশে বলেছেন, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হবে।
গতকাল সোমবার ( ১১ মে) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “একজন বাবা বা মায়ের পরিচয়ই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।”
মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দিদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বন্দিদের উদ্দেশে আরও বলেন, “নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়েও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”
স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁর ভাষ্য, “কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ভেজাল খাবার।”
এর আগে কারাগারে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পরে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দিদের সেল পরিদর্শন করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা, সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এরপর জেলা প্রশাসক কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে নারী বন্দিদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই কার্যক্রম ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও বাঁশ-কাঠের নান্দনিক সামগ্রীও তিনি পরিদর্শন করেন। এসব প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে বলে মত দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক কারাগারের রান্নাঘর ও বন্দিদের জন্য প্রস্তুত খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরে তিনি পুরুষ বন্দিদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন করেন। সেখানে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
সবশেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় বন্দিদের কল্যাণ, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক পুনর্বাসনে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেল সুপার মোঃ ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বদলে যান : কারা বন্দিদের ডিসি জাহিদ

আপডেট সময় :

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নারী বন্দিদের উদ্দেশে বলেছেন, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নিজেদের সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হবে।
গতকাল সোমবার ( ১১ মে) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “একজন বাবা বা মায়ের পরিচয়ই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।”
মানবিক ও কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক বন্দিদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও সংশোধনমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা মামলা বা আইনি জটিলতায় আটক থাকেন, তবে তাঁকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বন্দিদের উদ্দেশে আরও বলেন, “নিজের সন্তান, পরিবার ও প্রিয়জনদের মুখের দিকে তাকিয়েও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”
স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত ধোয়ার অভ্যাস ও বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পানিবাহিত রোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁর ভাষ্য, “কিডনি রোগের অন্যতম কারণ ভেজাল খাবার।”
এর আগে কারাগারে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। পরে তিনি সন্তানসহ নারী বন্দিদের সেল পরিদর্শন করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা, সন্তানদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এরপর জেলা প্রশাসক কারা হাসপাতালের নারী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে নারী বন্দিদের পরিচালিত নকশিকাঁথা সেলাই কার্যক্রম ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও বাঁশ-কাঠের নান্দনিক সামগ্রীও তিনি পরিদর্শন করেন। এসব প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম বন্দিদের আত্মনির্ভরশীল ও সমাজে পুনর্বাসনে সহায়ক হবে বলে মত দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক কারাগারের রান্নাঘর ও বন্দিদের জন্য প্রস্তুত খাবারের মানও পরীক্ষা করেন। খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরে তিনি পুরুষ বন্দিদের কারাকক্ষ ও সংশোধনাগার পরিদর্শন করেন। সেখানে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
সবশেষে কারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় বন্দিদের কল্যাণ, মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সংশোধনমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাৎ সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক পুনর্বাসনে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, সিনিয়র জেল সুপার মোঃ ইকবাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।