ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘যে বাজেটে মদ সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয় সে বাজেট বিরোধী দলের পছন্দ হয় না’ Logo বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে সভা Logo চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত Logo ভূরুঙ্গামারীতে এসআই জাহেদুল ইসলামের প্রত্যাহার দাবি Logo গোলাপগঞ্জে কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন Logo টুঙ্গিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo বান্দরবানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন Logo প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে ঈশ্বরদীতে যুবদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo ইসলামপুরে জেসমিন প্রকল্পের সচেতনতামূলক সভা

জাজিরার নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে ‘বাবু-অপু সিন্ডিকেট’-এর চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা

শান্ত মিয়া, জাজিরা (শরীয়তপুর)
  • আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পদ্মা সেতু হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদ্মা সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডটি বর্তমানে রূপ নিয়েছে চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে। স্থানীয় ‘বাবু-অপু সিন্ডিকেট’-এর নিয়ন্ত্রণে এখানে প্রতিনিয়ত চলছে ভয়াবহ চাঁদাবাজি, যার কারণে চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পরিবহন চালক, হেলপার ও সাধারণ সংশ্লিষ্টরা। গতকাল শনিবার সরেজমিনে নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে চাঁদাবাজির এমন চিত্র দেখা গেছে।
​পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, এই বাসস্ট্যান্ডে মূলত কয়েকটি ধাপে চাঁদা আদায় করা হয়। এর মধ্যে বাসের ট্রিপ নিয়ন্ত্রণ বা বিশেষ সুবিধার নামে বহুল প্রচলিত পদ্ধতিটিকে একটি সহনশীল নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিপি’ (গেটলক পাস)। এর আওতায় প্রতিবার স্ট্যান্ড অতিক্রম করার সময় বাস প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এই ধাপটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেন বাবু শেখ নামের এক ব্যক্তি।
​চাঁদাবাজির দ্বিতীয় ধাপে কাজ করে বাবু ও অপুর নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত একদল শ্রমিক। তারা বরিশাল ও খুলনা অঞ্চল থেকে আসা ঢাকাগামী বাসের যাত্রী সংখ্যা গুনে, প্রতি যাত্রী বাবদ ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত চালক ও হেলপারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয়।
​এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাস মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন​”আমরা যদি নাওডোবা ছাড়াও কাজিরহাট ও টিএনটি মোড়ে চাঁদা না দেই, তাহলে আমাদের বাস ওইসব পয়েন্টে এক ঘণ্টাও দাঁড়িয়ে থাকলেও স্থানীয় চাঁদাবাজরা বাসে যাত্রী তুলতে দেয় না। এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তাদের টাকা দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে। যদি এইসব স্ট্যান্ডগুলোতে আমাদের এভাবে বাড়তি টাকা দেওয়া না লাগতো, তবে আমরা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিতাম। তাও আমাদের লোকসান হতো না। অথচ এই চাঁদাবাজদের কারণে যাত্রীদেরও বাড়তি ভাড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে।”
​উল্লেখ্য, এই চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি (RTV)-তে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট ”যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ে ঘটেছে হাতাহাতির ঘটনা” শিরোনামে ওই সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরদারিতে কিছুদিন চাঁদাবাজি শিথিল ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও সেই একই কায়দায় কাজ শুরু করে এই সিন্ডিকেট।
​এই বিষয়ে নাওডোবা শ্রমিক দলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন: “বাবুর মূল বাড়ি নোয়াখালী অঞ্চলে। সে স্থানীয় অপু ব্যাপারীর বোনজামাই। অপুর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবকে পুঁজি করে বাবু বাসস্ট্যান্ডে নিজের একটি সামন্ততান্ত্রিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এই বাবু-অপু সিন্ডিকেট গত ৫ আগস্টের পূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল, যার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। অথচ ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের (বিএনপি) কিছু বিপথগামী লোকের সাথে আঁতাত করে নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে পুনরায় চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তারা প্রতিনিয়ত স্ট্যান্ড থেকে জিপি তুলে টাকা ভাগাভাগি করছে।”​
​তবে চাঁদাবাজি ও হামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবু শেখ। তিনি দাবি করেন, “চাঁদা তোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। আমি মূলত কয়েকটি বাস কাউন্টারের দায়িত্বে আছি এবং আমার লোকজন সেখানেই কাজ করে।”
​গত ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন হকিস্টিক হাতে নিজের ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ছবিটি মূলত একটি খেলাধুলায় যাওয়ার সময় তোলা হয়েছিল। এছাড়া নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের লোকজন জোর করে আমাদের হাতে তৎকালীন সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পোস্টার ধরিয়ে দিয়ে ছবি তুলেছিল। আমি মূলত আগে থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।”
​নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, “আমরা বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। এই চক্রের সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুতই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জাজিরার নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে ‘বাবু-অপু সিন্ডিকেট’-এর চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা

আপডেট সময় :

পদ্মা সেতু হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদ্মা সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডটি বর্তমানে রূপ নিয়েছে চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে। স্থানীয় ‘বাবু-অপু সিন্ডিকেট’-এর নিয়ন্ত্রণে এখানে প্রতিনিয়ত চলছে ভয়াবহ চাঁদাবাজি, যার কারণে চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পরিবহন চালক, হেলপার ও সাধারণ সংশ্লিষ্টরা। গতকাল শনিবার সরেজমিনে নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে চাঁদাবাজির এমন চিত্র দেখা গেছে।
​পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, এই বাসস্ট্যান্ডে মূলত কয়েকটি ধাপে চাঁদা আদায় করা হয়। এর মধ্যে বাসের ট্রিপ নিয়ন্ত্রণ বা বিশেষ সুবিধার নামে বহুল প্রচলিত পদ্ধতিটিকে একটি সহনশীল নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিপি’ (গেটলক পাস)। এর আওতায় প্রতিবার স্ট্যান্ড অতিক্রম করার সময় বাস প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এই ধাপটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেন বাবু শেখ নামের এক ব্যক্তি।
​চাঁদাবাজির দ্বিতীয় ধাপে কাজ করে বাবু ও অপুর নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত একদল শ্রমিক। তারা বরিশাল ও খুলনা অঞ্চল থেকে আসা ঢাকাগামী বাসের যাত্রী সংখ্যা গুনে, প্রতি যাত্রী বাবদ ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত চালক ও হেলপারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয়।
​এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাস মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন​”আমরা যদি নাওডোবা ছাড়াও কাজিরহাট ও টিএনটি মোড়ে চাঁদা না দেই, তাহলে আমাদের বাস ওইসব পয়েন্টে এক ঘণ্টাও দাঁড়িয়ে থাকলেও স্থানীয় চাঁদাবাজরা বাসে যাত্রী তুলতে দেয় না। এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তাদের টাকা দিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে। যদি এইসব স্ট্যান্ডগুলোতে আমাদের এভাবে বাড়তি টাকা দেওয়া না লাগতো, তবে আমরা সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিতাম। তাও আমাদের লোকসান হতো না। অথচ এই চাঁদাবাজদের কারণে যাত্রীদেরও বাড়তি ভাড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে।”
​উল্লেখ্য, এই চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভি (RTV)-তে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। গত ৩ আগস্ট ”যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ে ঘটেছে হাতাহাতির ঘটনা” শিরোনামে ওই সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরদারিতে কিছুদিন চাঁদাবাজি শিথিল ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবারও সেই একই কায়দায় কাজ শুরু করে এই সিন্ডিকেট।
​এই বিষয়ে নাওডোবা শ্রমিক দলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন: “বাবুর মূল বাড়ি নোয়াখালী অঞ্চলে। সে স্থানীয় অপু ব্যাপারীর বোনজামাই। অপুর রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবকে পুঁজি করে বাবু বাসস্ট্যান্ডে নিজের একটি সামন্ততান্ত্রিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এই বাবু-অপু সিন্ডিকেট গত ৫ আগস্টের পূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল, যার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। অথচ ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের (বিএনপি) কিছু বিপথগামী লোকের সাথে আঁতাত করে নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে পুনরায় চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তারা প্রতিনিয়ত স্ট্যান্ড থেকে জিপি তুলে টাকা ভাগাভাগি করছে।”​
​তবে চাঁদাবাজি ও হামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবু শেখ। তিনি দাবি করেন, “চাঁদা তোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। আমি মূলত কয়েকটি বাস কাউন্টারের দায়িত্বে আছি এবং আমার লোকজন সেখানেই কাজ করে।”
​গত ৫ আগস্টের পূর্বে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন হকিস্টিক হাতে নিজের ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ছবিটি মূলত একটি খেলাধুলায় যাওয়ার সময় তোলা হয়েছিল। এছাড়া নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের লোকজন জোর করে আমাদের হাতে তৎকালীন সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পোস্টার ধরিয়ে দিয়ে ছবি তুলেছিল। আমি মূলত আগে থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।”
​নাওডোবা বাসস্ট্যান্ডে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, “আমরা বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। এই চক্রের সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুতই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”