ডিমলায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর মালিশ করানোর অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীর ডিমলায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ও মাথায় মালিশ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ–সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের চারঘরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে শ্রেণিকক্ষেই শরীরে মালিশ করান বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিয়ার রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ২৫ জুন উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মীয় শিক্ষিকা তিলোত্তমা রানী রায়ের বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর ও মাথায় মালিশ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মারুফা বেগম লিজা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলার অনেক সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজেদের সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেও সরকারি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার ঘাটতি দেখা যায়। তাঁদের মতে, এ প্রবণতা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটও প্রকাশ করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, চারঘরি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে ৬ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবিরকে আহ্বায়ক এবং একাডেমিক সুপারভাইজার আমির হামজা বোরহান উদ্দিন ও ব্যানবেইস কর্মকর্তা শাহানুর আলমকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকের ব্যক্তিগত সেবা বা মালিশ করানো নৈতিকতা, পেশাগত আচরণবিধি এবং শিশুর মর্যাদার পরিপন্থী। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

















