ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo এক মাসে পাঁচ খুন, বাহুবলের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা Logo তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান ছামাদ Logo কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক রুবেল হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন Logo কেশবপুরে তৃষার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পাশে রিইব Logo মুকসুদপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo মাদকের পক্ষে তদবিরকারীদেরও গ্রেপ্তারের হুশিয়ারি খায়রুল কবির খোকনের Logo বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের স্মারকলিপি Logo খালিয়াজুরীতে ধনু নদে আবারও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ Logo ইসলামপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের ছাতা ও গাছের চারা বিতরণ Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২২

এক মাসে পাঁচ খুন, বাহুবলের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা

আব্দুল নুর বাবুল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় এক মাসে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে চুরি, সড়ক ডাকাতি ও মাদক বাণিজ্য বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দাবি করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন উপজেলার কাশিরামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে ২১ জুন তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে গিয়ে তারা নানা জটিলতার মুখে পড়েছেন।

এ ছাড়া ১৫ জুন উপজেলার আদিত্যপুর এলাকায় সেলু মিয়া ও হেলাল মিয়া নিহত হন। সর্বশেষ খোজারগাঁও গ্রামে আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক নিহত হন। একই দিনে উপজেলার আরেকটি এলাকা থেকে রিম্পা নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও সড়ক ডাকাতির ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল-মিরপুর সড়কে রাতে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাদক বাণিজ্য বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের মতে, এসব অপরাধ দমনে আরও কার্যকর অভিযান প্রয়োজন।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আলম চৌধুরী তুষার বলেন, “ওসির নিষ্ক্রিয়তার কারণে উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। খুন, চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, “সামাজিক বিরোধের কারণেই অধিকাংশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। খুব শিগগিরই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, চুরি, ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগের কার্যকর তদন্ত এবং অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হলে জনমনে আস্থা ফিরবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক মাসে পাঁচ খুন, বাহুবলের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা

আপডেট সময় :

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় এক মাসে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে চুরি, সড়ক ডাকাতি ও মাদক বাণিজ্য বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দাবি করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন উপজেলার কাশিরামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে ২১ জুন তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে গিয়ে তারা নানা জটিলতার মুখে পড়েছেন।

এ ছাড়া ১৫ জুন উপজেলার আদিত্যপুর এলাকায় সেলু মিয়া ও হেলাল মিয়া নিহত হন। সর্বশেষ খোজারগাঁও গ্রামে আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক নিহত হন। একই দিনে উপজেলার আরেকটি এলাকা থেকে রিম্পা নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও সড়ক ডাকাতির ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল-মিরপুর সড়কে রাতে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাদক বাণিজ্য বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের মতে, এসব অপরাধ দমনে আরও কার্যকর অভিযান প্রয়োজন।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আলম চৌধুরী তুষার বলেন, “ওসির নিষ্ক্রিয়তার কারণে উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। খুন, চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, “সামাজিক বিরোধের কারণেই অধিকাংশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। খুব শিগগিরই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, চুরি, ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগের কার্যকর তদন্ত এবং অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হলে জনমনে আস্থা ফিরবে।