সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাক্তন স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ৩৯ বার পড়া হয়েছে
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং চার কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মঞ্জুরুল হকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী মোছা. জেসমিন আক্তার ডলি।
গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চার কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে জেসমিন আক্তার ডলি দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় চিকিৎসার সূত্রে মঞ্জুরুল হকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে কৌশলে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁকে বিয়ে করা হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এ সময় তাঁর দুটি গর্ভ জোরপূর্বক নষ্ট করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডলির অভিযোগ, তাঁকে অচেতন রাখার উদ্দেশ্যে ‘মাসকুরিন’ নামের একটি ভেষজ ওষুধ খাইয়ে নির্যাতন করা হতো। চতুর্থ সন্তান জন্মের সময় তাঁর সম্মতি ছাড়াই চিকিৎসকদের প্রভাবিত করে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ বা লাইগেশন করানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১৭ মে মঞ্জুরুল হকের পরিচালিত ‘আছিয়া ডেন্টাল ক্লিনিক’-এ প্রয়োজনীয় আইনগত ও চিকিৎসাগত এখতিয়ার ছাড়াই তাঁর শরীরে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি স্থায়ীভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।
জেসমিন আক্তার ডলি জানান, চার কন্যাসন্তান জন্মের পর মঞ্জুরুল হক তাদের ভরণপোষণ না দিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সন্তানদের পড়াশোনা ও ভরণপোষণের ব্যয় বহন করা নিয়ে থানায় আপসনামা হলেও তিনি তা অনুসরণ করেননি।
এ ছাড়া তাঁর নামে থাকা ৩৫ শতাংশ জমি দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ডলি। নিজের ও চার কন্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে জেসমিন আক্তার ডলির উত্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সাবেক সেনাসদস্য মো. মঞ্জুরুল হক।
তিনি বলেন, সন্তানদের খরচের কথা বলে ইতিমধ্যে আমার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। অন্য জায়গায় বিয়ে করার পর সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আমি আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নিজের কাছে ফেরত চেয়েছি।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে মঞ্জুরুল হক দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমি কেনার অর্থ তিনিই দিয়েছিলেন। তবে জেসমিন আক্তার কৌশলে জমিটি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এ ঘটনায় আদালতে তাঁর দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। #

















