ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন হুঁশিয়ারি ‘ককরোচদের’ Logo ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় হেফাজতের বিশেষ দোয়া Logo ভাণ্ডারিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে মতবিনিময় সভায় সংঘর্ষ Logo চাঁদপুরে সাংবাদিকদের এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রশিক্ষণ Logo নগরকান্দায় মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত Logo ইকনকে এক লাখ টাকা ও বেতনসহ এক মাসের ছুটি দিল কৃষি ব্যাংক Logo খাগড়াছড়িতে বৃক্ষমেলা, বিনা মূল্যে বিতরণ হবে ৬৮ হাজার চারা Logo দাখিল পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় ছাত্রীর আত্মহত্যা Logo জামালপুরে সড়কের ইট চুরির মামলায় ৪ আসামির জামিন নামঞ্জুর

ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন হুঁশিয়ারি ‘ককরোচদের’

আসিফ মাহমুদ খান
  • আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতেও গড়াতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনের ২৯তম দিনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শুক্রবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি এটি শেষ অনুরোধ—তিনি যেন অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। তা না হলে আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও আন্দোলনের অংশ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের চেয়ে সরকার একজন ‘ব্যর্থ’ মন্ত্রীকে রক্ষা করতেই বেশি আগ্রহী।

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি নিজের কার্যালয় বা বাসভবনে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী বৈঠক হয় যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে, নয়তো নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দিল্লির মধ্যাঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সময়সীমাও মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একই সময়ে সমাজকর্মী আন্না হাজারে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি লিখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং সংকটকে আরও জটিল করে তোলে।

যেভাবে শুরু আন্দোলন

গত ৬ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে প্রধান দাবিতে পরিণত করে সংগঠনটি। গত কয়েক সপ্তাহে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত, আটক এবং একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার আন্দোলনকে দিল্লির বাইরে সারা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিজেপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন হুঁশিয়ারি ‘ককরোচদের’

আপডেট সময় :

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতেও গড়াতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলনের ২৯তম দিনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শুক্রবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি এটি শেষ অনুরোধ—তিনি যেন অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। তা না হলে আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও আন্দোলনের অংশ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের চেয়ে সরকার একজন ‘ব্যর্থ’ মন্ত্রীকে রক্ষা করতেই বেশি আগ্রহী।

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি নিজের কার্যালয় বা বাসভবনে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী বৈঠক হয় যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে, নয়তো নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দিল্লির মধ্যাঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সময়সীমাও মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একই সময়ে সমাজকর্মী আন্না হাজারে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি লিখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং সংকটকে আরও জটিল করে তোলে।

যেভাবে শুরু আন্দোলন

গত ৬ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে প্রধান দাবিতে পরিণত করে সংগঠনটি। গত কয়েক সপ্তাহে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত, আটক এবং একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার আন্দোলনকে দিল্লির বাইরে সারা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিজেপি।