ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

অধ্যক্ষের অবহেলায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত মহাদেবপুরের অসুস্থ মীম

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁর মহাদেবপুরে এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি মোসাঃ মীম মেহজেবীন নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। অসুস্থতার কারণে ১৫-২০ মিনিট দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছানোয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে পরীক্ষায় বসতে দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তার একটি বছর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মহাদেবপুর উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী মীম মেহজেবীন। গত ১৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র (১৭৫) পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার পর মীম হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। তাকে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে অভিভাবকরা তাকে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান।
কেন্দ্রের গেটে পরিচয় পর্ব শেষে মীম পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান। অসুস্থতার কারণে তার আনুমানিক ১৫-২০ মিনিট দেরি হয়। তিনি বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা করেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দেখান। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানবিক দিক বিবেচনা না করে তাকে প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর আইনি জটিলতা দেখিয়ে পরীক্ষা থেকে বিরত রাখেন।
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হলে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার নজির রয়েছে। এমনকি কোনো পরীক্ষার্থী সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকলেও তাদের পরবর্তীতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী মীম বলেন, “অনেক অনুরোধের পরও তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে বাসায় ফিরে যেতে বলা হয়।”
মীম বর্তমানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বরাবর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন। তার রোল নম্বর ১১৩৯৪৮ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১১২৬৯২৬৩৯।
পরীক্ষার্থীর বাবা-মা শিক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে মানবিক দিক বিবেচনা করে মীমকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেন, যদি মীম এই ধাক্কা সামলাতে না পেরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে ১৫-২০ মিনিট দেরিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার কোনো কঠোর নীতিমালা বোর্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক আইনে নেই। পরীক্ষা শুরুর পর ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালায় মানবিক বিবেচনায় থাকে।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অধ্যক্ষের অবহেলায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত মহাদেবপুরের অসুস্থ মীম

আপডেট সময় :

নওগাঁর মহাদেবপুরে এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি মোসাঃ মীম মেহজেবীন নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। অসুস্থতার কারণে ১৫-২০ মিনিট দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছানোয় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে পরীক্ষায় বসতে দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তার একটি বছর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মহাদেবপুর উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী মীম মেহজেবীন। গত ১৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখে পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র (১৭৫) পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার পর মীম হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। তাকে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে অভিভাবকরা তাকে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যান।
কেন্দ্রের গেটে পরিচয় পর্ব শেষে মীম পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান। অসুস্থতার কারণে তার আনুমানিক ১৫-২০ মিনিট দেরি হয়। তিনি বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা করেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দেখান। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানবিক দিক বিবেচনা না করে তাকে প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর আইনি জটিলতা দেখিয়ে পরীক্ষা থেকে বিরত রাখেন।
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হলে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার নজির রয়েছে। এমনকি কোনো পরীক্ষার্থী সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকলেও তাদের পরবর্তীতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী মীম বলেন, “অনেক অনুরোধের পরও তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে বাসায় ফিরে যেতে বলা হয়।”
মীম বর্তমানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বরাবর পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছেন। তার রোল নম্বর ১১৩৯৪৮ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১১২৬৯২৬৩৯।
পরীক্ষার্থীর বাবা-মা শিক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে মানবিক দিক বিবেচনা করে মীমকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেন, যদি মীম এই ধাক্কা সামলাতে না পেরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে ১৫-২০ মিনিট দেরিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার কোনো কঠোর নীতিমালা বোর্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক আইনে নেই। পরীক্ষা শুরুর পর ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালায় মানবিক বিবেচনায় থাকে।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।