তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের রায়
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিরুদ্ধে করা তিনটি আপিল খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনা এবং সংবিধানের ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিলসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা সব আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, গণভোটের বিধান এবং সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ বাতিলসংক্রান্ত হাইকোর্টের সিদ্ধান্তও বহাল থাকল।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত সোমবার শুনানি শুরু হয়ে টানা তিন দিন চলে। বুধবার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করেন।
রায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বহাল রয়েছে। এর মধ্যে সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। গণভোটের বিধানও পুনর্বহাল হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতকে রিট করার এখতিয়ার দেওয়ার বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণার সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে। ফলে হাইকোর্ট বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো আদালতে রিট আবেদন করার সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। হাইকোর্ট সেই বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। আপিল বিভাগের রায়ে সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। তবে সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও অন্যান্য নীতিগত বিষয় জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তসহ সংবিধানের ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জাতীয় চার মূলনীতি পুনঃস্থাপন এবং অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ ও গণভোটের বিধান বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করলে পৃথক তিনটি আপিল দায়ের হয়। বৃহস্পতিবার সেই আপিলগুলো খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
আইনজীবীদের মতে, এ রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পথে আইনি বাধা দূর হলো। তবে এসব বিধান কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনগত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদকেই নিতে হবে।



















