এনইসির সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যমকে নিখুঁত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন – গণমাধ্যমকে কোটারিমুক্ত ও জাতীয় চরিত্র দিতে চাই : মাহমুদুর রহমান
- আপডেট সময় : ৭৭ বার পড়া হয়েছে
গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। তাই এটিকে নিখুঁত ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)’ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসব কথা বলেন। ১৬ জুন বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগগুলো ছিল আংশিক ও অসম্পূর্ণ। ফলে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এ দায় অতীতের সব সরকারেরই রয়েছে। তিনি বলেন, শুরুতেই যদি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করা না যায় এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে এক মঞ্চে আনা না যায়, তাহলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ভিন্নমতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চর্চা করার সংস্কৃতি বাংলাদেশে গড়ে ওঠেনি। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মহলের মতামতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে।

সেমিনারে গ্রীন ওয়াচ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ও বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ডিএফপি মহাপরিচালক খালেদা বেগম, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল আউয়াল ঠাকুর, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক সায়েম ফারুকী, খোলা কাগজের সম্পাদক মনির হোসেন, দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানি, আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক রানা, বাংলাদেশ পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সদরুল হাসান, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, দ্য ডেইলী ইকোনমিক এক্সপ্রেসের প্রকাশক ও সম্পাদক আমীর হোসেন জনি, দৈনিক গণমুক্তির সম্পাদক ও প্রকাশক শাহাদাত হোসেন শাহীন, বাণিজ্য প্রতিদিন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, দৈনিক ভোরের বাংলার সম্পাদক শেখ মো. আরিফ, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, মোহনা টিভির হেড অব নিউজ রাশিদুল হক, নারায়ণগঞ্জের দৈনিক যুগের চিন্তার সম্পাদক আবু আল মোরসালিন বাবলাসহ বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এছাড়া উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমকে কোটারিমুক্ত করে জাতীয় চরিত্র দিতে চান তারা। এ উদ্দেশ্যেই সংগঠনের নাম ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল’ রাখা হয়েছে, যেখানে প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরের সম্পাদকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তিনি বলেন, আমরা মিডিয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা চাই। আমি আমার মত প্রকাশ করব, কেউ দ্বিমত পোষণ করলে তিনি লিখে তার প্রতিবাদ করবেন; কিন্তু কোনোভাবেই কণ্ঠরোধ করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, সব গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতি এক হবে না, তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি চলে এসেছে এবং ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। ২০১৭ সালে একটি মন্তব্যের জেরে নিজের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংবাদপত্রের প্রতি অসহিষ্ণুতা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ছিল এবং ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা আত্মসমালোচনা করে ঐক্যের অংশ হতে চাইলে আপত্তি নেই। তবে যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বা গণহত্যাকে সমর্থন করেছেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। মাহমুদুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, অতীতে ক্ষতিগ্রস্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, বর্তমান সরকার তা অব্যাহত রাখবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, পিআইবি চেয়ারম্যান ফারুক ওয়াসিফ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।






















