ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে ছুটে এলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাত নাগরিক

সৈকত চন্দ্র দত্ত, শরীয়তপুর
  • আপডেট সময় : ২৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০ বছরের তরুণীর প্রেমের টানে শরীয়তপুরে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পঞ্চাশোর্ধ এক নাগরিক। পরে পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামে।
রোববার (১৪ জুন) রাতে জমকালো গায়ে হলুদের আয়োজনের পর গতকাল সোমবার (১৫ জুন) সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা দুই বছর আগে কাজের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যান। সেখানে একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় পঞ্চাশোর্ধ সলেমান নামের এক প্রবাসীর সঙ্গে। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।
পরবর্তীতে সুবর্ণা দেশে ফিরে আসেন। আর সেই সম্পর্কের টানেই তিন দিন আগে বাংলাদেশে আসেন সলেমান। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করে মেয়ের পরিবার।
বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় হাজার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়, যার ব্যয় বহন করেন পাত্র সলেমান নিজেই।
নিজ ইচ্ছায় বিয়ের পিরিতে বসে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পাত্রী সুবর্না। তিনি বলেন, আমি দুবাই থাকাকালীন তার সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। সেখান থেকে সে আমাকে ভালবেসেছে। সেই ভালবাসা থেকে আমাকে বিয়ে করতে দুবাই থেকে ছুটে এসেছে। আমি নিজের ইচ্ছেতে তাকে বিয়ে করেছি, আমি খুব খুশি।
তবে পাত্র সলেমান এবং সুবর্নার পরিবারের কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
সুবর্ণার নানী ফুলজান বিবি বলেন, আমার নাতিন দুবাই গিয়েছিলো। সেখানে বসে তার সাথে পরিচয় হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসে আমার নাতিনকে বিয়ে করেছে। আমরা অনেক খুশি।
রুবিনা বেগম নামের এক নিকটাত্মীয় বলেন, দুই বছর আগে এই মেয়ে বিদেশ গেছে, সেখান থেকেই এই পোলার সাথে পরিচয়। এখন মাইয়া পোলা পছন্দ করে বিয়ে করেছে। পোলায় নিজে খরচাপাতি করে মেয়ে নিতাছে। আমরা চাই তারা ভালো থাকুক।
ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসার এমন পরিণতি এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানালেও একটি অংশ বলছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন দ্রুত বিয়েতে ঝুঁকি থাকতে পারে।
বরকত মোল্লা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দুবাই থেকে প্রেমের টানে জাজিরার এক স্থানীয় মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছে সেখানকার নাগরিক। মাঝেমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় দেখি বিদেশি ছেলে বাংলাদেশে প্রেমের টানে চলে আসে এবং বিয়েও করে। এবং সেই বিয়ে কতোদূর পর্যন্ত টিকে সেটি আসলে আমরা জানিনা। কেননা হুটহাট করে এভাবে বিয়ে না দিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিয়ে দেয়া জরুরি। হতে পারে এগুলো প্রতারণার ফাঁদ।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, এমন এধরণের কোনো খবর পাইনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারবো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রেমের টানে শরীয়তপুরে ছুটে এলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আমিরাত নাগরিক

আপডেট সময় :

২০ বছরের তরুণীর প্রেমের টানে শরীয়তপুরে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পঞ্চাশোর্ধ এক নাগরিক। পরে পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামে।
রোববার (১৪ জুন) রাতে জমকালো গায়ে হলুদের আয়োজনের পর গতকাল সোমবার (১৫ জুন) সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক খানের মেয়ে সুবর্ণা দুই বছর আগে কাজের সুবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যান। সেখানে একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় পঞ্চাশোর্ধ সলেমান নামের এক প্রবাসীর সঙ্গে। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।
পরবর্তীতে সুবর্ণা দেশে ফিরে আসেন। আর সেই সম্পর্কের টানেই তিন দিন আগে বাংলাদেশে আসেন সলেমান। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করে মেয়ের পরিবার।
বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় হাজার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়, যার ব্যয় বহন করেন পাত্র সলেমান নিজেই।
নিজ ইচ্ছায় বিয়ের পিরিতে বসে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পাত্রী সুবর্না। তিনি বলেন, আমি দুবাই থাকাকালীন তার সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। সেখান থেকে সে আমাকে ভালবেসেছে। সেই ভালবাসা থেকে আমাকে বিয়ে করতে দুবাই থেকে ছুটে এসেছে। আমি নিজের ইচ্ছেতে তাকে বিয়ে করেছি, আমি খুব খুশি।
তবে পাত্র সলেমান এবং সুবর্নার পরিবারের কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
সুবর্ণার নানী ফুলজান বিবি বলেন, আমার নাতিন দুবাই গিয়েছিলো। সেখানে বসে তার সাথে পরিচয় হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসে আমার নাতিনকে বিয়ে করেছে। আমরা অনেক খুশি।
রুবিনা বেগম নামের এক নিকটাত্মীয় বলেন, দুই বছর আগে এই মেয়ে বিদেশ গেছে, সেখান থেকেই এই পোলার সাথে পরিচয়। এখন মাইয়া পোলা পছন্দ করে বিয়ে করেছে। পোলায় নিজে খরচাপাতি করে মেয়ে নিতাছে। আমরা চাই তারা ভালো থাকুক।
ভিন্ন দেশের দুই মানুষের ভালোবাসার এমন পরিণতি এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানালেও একটি অংশ বলছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন দ্রুত বিয়েতে ঝুঁকি থাকতে পারে।
বরকত মোল্লা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দুবাই থেকে প্রেমের টানে জাজিরার এক স্থানীয় মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছে সেখানকার নাগরিক। মাঝেমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় দেখি বিদেশি ছেলে বাংলাদেশে প্রেমের টানে চলে আসে এবং বিয়েও করে। এবং সেই বিয়ে কতোদূর পর্যন্ত টিকে সেটি আসলে আমরা জানিনা। কেননা হুটহাট করে এভাবে বিয়ে না দিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিয়ে দেয়া জরুরি। হতে পারে এগুলো প্রতারণার ফাঁদ।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, এমন এধরণের কোনো খবর পাইনি। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারবো।