ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘যে বাজেটে মদ সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয় সে বাজেট বিরোধী দলের পছন্দ হয় না’ Logo বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে সভা Logo চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত Logo ভূরুঙ্গামারীতে এসআই জাহেদুল ইসলামের প্রত্যাহার দাবি Logo গোলাপগঞ্জে কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন Logo টুঙ্গিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo বান্দরবানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন Logo প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে ঈশ্বরদীতে যুবদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo ইসলামপুরে জেসমিন প্রকল্পের সচেতনতামূলক সভা

ভুল চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছেন গৃহবধূ

নীলফামারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর জলঢাকায় ভুল চিকিৎসার কারনে রিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর বাম হাত পঁচে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রোগী রিনা বেগম বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে পল্লী চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেশীবাই বসুনিয়া পাড়া সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রিনা বেগমের শরীরে প্রচন্ড জ্বর হলে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক টেংগনমারী বাজারের ভাই ভাই ফার্মেসীর সত্বাধিকারী ও পশ্চিম খুটামারা গ্রামের মৃত মোজাহার কবিরাজের ছেলে তফছির আলী ভুক্তভোগী পরিবারে উপস্থিত হয়ে পরামর্শের একপর্যায়ে রোগী রিনা বেগমের বাম হাতের বাহুতে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করে পল্লী চিকিৎসক তফসির আলী চলে যাওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা এবং ক্ষতস্থানটি শক্ত হলে রোগীর স্বামী সেকেন্দার আলী দ্রুত তথাকথিত পল্লী চিকিৎসককে বিষয়টি অবগত করেন।
ওই চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে গরম বালুর স্যাক দেন। গরম বালুর স্যাক দেয়ার পরপরেই রিনা বেগমের বাম হাত পুরোটাই ফুলে যায়। দুইদিন পর আবারও পল্লী চিকিৎসক ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং হাতটি দেখে জোরপূর্বক ব্লেট দিয়ে হাতের বাহুর পেশি কেটে সাদা কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করেন। এরপর রোগীর অবস্থা বেগতিক হলে ভুক্তভোগী পরিবার নীলফামারী বসুনিয়া হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবে এমবিবিএস ডাঃ মোঃ লুৎফর কবীর কে দেখালে তিনি রোগীর হাতের অবস্থা দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিতে পরামর্শ দেন এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সার্জারী বিভাগে ভর্তি করালে কর্মরত চিকিৎসক বাম হাতটির বিষয়ে লিখেন যে, c/c e-duration: pain & swelling of left upper limb following l/m injection given. অর্থাৎ, ইনজেকশন ভুল পুশ করার কারনে এমনটি হয়েছে। হাতটি দ্রুত অপারেশন করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছেন, বর্তামানে রোগী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুবই আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে এবং যেকোন মুহুর্তে প্রয়োজনে হাতটি কেটে ফেলা লাগতে পারে ডাক্তার জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী রিনার স্বামী সেকেন্দার আলী বলেন, জ্বরের চিকিৎসার জন্য পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী ডাকলে তিনি আমার স্ত্রী কে একটা ইনজেকশন দিয়েছেন। এই ইনজেকশন দেওয়ার কারনে আজ আমার স্ত্রী একটি হাত হারাতে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী রোগীর ভাই সিরাজুল ইসলাম জানায়, ভুল চিকিৎসা বিষয়ে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী কে বলতে গেলে ওই চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং বলেন যে, ভুল চিকিৎসা দিয়েছি তা কি হয়েছে? রোগীতো আর মারা যায়নি।
ঘটনা বিষয়ে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলীর বক্তব্যের জন্য টেংগনমারী বাজারে অবস্থিত ভাই ভাই ফার্মেসী দোকানে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সে ফার্মেসীর দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস সহ আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত সাপেক্ষে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভুল চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছেন গৃহবধূ

আপডেট সময় :

নীলফামারীর জলঢাকায় ভুল চিকিৎসার কারনে রিনা বেগম নামে এক গৃহবধূর বাম হাত পঁচে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রোগী রিনা বেগম বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে পল্লী চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দক্ষিণ দেশীবাই বসুনিয়া পাড়া সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রিনা বেগমের শরীরে প্রচন্ড জ্বর হলে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক টেংগনমারী বাজারের ভাই ভাই ফার্মেসীর সত্বাধিকারী ও পশ্চিম খুটামারা গ্রামের মৃত মোজাহার কবিরাজের ছেলে তফছির আলী ভুক্তভোগী পরিবারে উপস্থিত হয়ে পরামর্শের একপর্যায়ে রোগী রিনা বেগমের বাম হাতের বাহুতে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করে পল্লী চিকিৎসক তফসির আলী চলে যাওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে প্রচন্ড ব্যাথা এবং ক্ষতস্থানটি শক্ত হলে রোগীর স্বামী সেকেন্দার আলী দ্রুত তথাকথিত পল্লী চিকিৎসককে বিষয়টি অবগত করেন।
ওই চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে গরম বালুর স্যাক দেন। গরম বালুর স্যাক দেয়ার পরপরেই রিনা বেগমের বাম হাত পুরোটাই ফুলে যায়। দুইদিন পর আবারও পল্লী চিকিৎসক ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং হাতটি দেখে জোরপূর্বক ব্লেট দিয়ে হাতের বাহুর পেশি কেটে সাদা কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করেন। এরপর রোগীর অবস্থা বেগতিক হলে ভুক্তভোগী পরিবার নীলফামারী বসুনিয়া হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবে এমবিবিএস ডাঃ মোঃ লুৎফর কবীর কে দেখালে তিনি রোগীর হাতের অবস্থা দেখে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিতে পরামর্শ দেন এবং পরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সার্জারী বিভাগে ভর্তি করালে কর্মরত চিকিৎসক বাম হাতটির বিষয়ে লিখেন যে, c/c e-duration: pain & swelling of left upper limb following l/m injection given. অর্থাৎ, ইনজেকশন ভুল পুশ করার কারনে এমনটি হয়েছে। হাতটি দ্রুত অপারেশন করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছেন, বর্তামানে রোগী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুবই আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে এবং যেকোন মুহুর্তে প্রয়োজনে হাতটি কেটে ফেলা লাগতে পারে ডাক্তার জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী রিনার স্বামী সেকেন্দার আলী বলেন, জ্বরের চিকিৎসার জন্য পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী ডাকলে তিনি আমার স্ত্রী কে একটা ইনজেকশন দিয়েছেন। এই ইনজেকশন দেওয়ার কারনে আজ আমার স্ত্রী একটি হাত হারাতে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী রোগীর ভাই সিরাজুল ইসলাম জানায়, ভুল চিকিৎসা বিষয়ে তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলী কে বলতে গেলে ওই চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং বলেন যে, ভুল চিকিৎসা দিয়েছি তা কি হয়েছে? রোগীতো আর মারা যায়নি।
ঘটনা বিষয়ে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক তফছির আলীর বক্তব্যের জন্য টেংগনমারী বাজারে অবস্থিত ভাই ভাই ফার্মেসী দোকানে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সে ফার্মেসীর দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস সহ আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত সাপেক্ষে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।