রামগতিতে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
- আপডেট সময় : ৩৪ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নদীর নির্মাণাধীন তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রবল চাপ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। জোয়ারের পানির স্রোতে অভ্যন্তরীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে কয়েকশ’ হেক্টর আউশ ধান ও আমনের বীজতলা।এছাড়া মেঘনা নদীর তীরবর্তী পশ্চিম বালুরচর, জনতাবাজার, সোনালীগ্রাম, বাংলাবাজার, পৌরসভার সবুজগ্রাম, শিক্ষাগ্রাম, সেবাগ্রাম, চর আলগী, গাবতলী, চর রমিজ, বড়খেরী, চর গাজী, চর গজারিয়া, তুলিরচর ও চর সেবাসহ ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে।মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে উপজেলার বড়খেরীর বেড়িবাঁধ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নির্মাণাধীন এ বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্মাণাধীন বাঁধের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।
বড়খেরী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর তীর রক্ষা বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীর রক্ষা বাঁধে সিসি ব্লক না থাকায় মাটি সরে গিয়ে ৪০–৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে গেছে। সেখান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। বড়খেরী বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদীর প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ভেঙে গেছে। এর আগেও এ স্থানের বাঁধটি দেবে গিয়েছিল, কিন্তু এতদিনেও তা মেরামত করা হয়নি। এখন তা ভেঙে আরও বড় ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ধস ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আশা করি, পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে বড়খেরী অংশের দায়িত্বে থাকা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আমিন নঈম বলেন, “এলাকাগুলো আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। দ্রুত বাঁধের কাজ সম্পন্ন হলে আগামীতে লোকালয়ে আর পানি প্রবেশের সম্ভাবনা থাকবে না।”
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















