ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

একক-পরমাণু অনুঘটক ধারণার প্রবর্তন করে রসায়ন শিল্পে পরিবর্তন আনলো চীন

গণমুক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ৩২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

আধুনিক রসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো অনুঘটক বা ক্যাটালিস্ট, যা জ্বালানি থেকে শুরু করে সার ও পলিমার তৈরিতে অপরিহার্য। এতদিন এই কাজে প্লাটিনাম বা প্যালাডিয়ামের মতো অত্যন্ত দামি ও দুর্লভ ধাতু ব্যবহৃত হতো, যার অধিকাংশ পরমাণুই নিষ্ক্রিয় থেকে অপচয় হতো। এই সমস্যার সমাধানে চীনের বিজ্ঞান একাডেমির গবেষক চাং থাও এবং তার দল ২০১১ সালে ‘সিঙ্গেল-অ্যাটম ক্যাটালিসিস’ বা ‘একক-পরমাণু অনুঘটক’ ধারণাটি প্রবর্তন করেন।

এই পদ্ধতিতে ধাতব পরমাণুগুলোকে কোনো পদার্থের পৃষ্ঠতলে এককভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, ফলে ধাতুর ব্যবহার দক্ষতা কয়েক শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১০০ শতাংশে উন্নীত হয়। শুধু তাই নয় এই উদ্ভাবন অনুঘটক গবেষণাকে ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ বা ভুল থেকে শেখার পদ্ধতি থেকে সরিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক নকশার পথে নিয়ে এসেছে।

এ ছাড়া বর্তমানে প্রায় ১০০টি দেশ ও অঞ্চলের হাজার হাজার গবেষক এই বিষয়ে ২০ হাজারেরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন এবং প্রযুক্তিটি ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

১৯৮০-এর দশকে পিএইচডি গবেষণার সময় চাং থাও এই ধারণাটি প্রথম প্রস্তাব করেন। তৎকালীন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ও তার দল দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রচেষ্টায় একে বাস্তবে রূপ দেন।

তার মতে, এই অর্জন কেবল একাডেমিক সাফল্য নয়, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাসায়নিক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার সিমুলেশনের সহায়তায় এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে বিশ্বজুড়ে সবুজ রসায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সূত্র: সিএমজি বাংলা

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

একক-পরমাণু অনুঘটক ধারণার প্রবর্তন করে রসায়ন শিল্পে পরিবর্তন আনলো চীন

আপডেট সময় :

 

 

আধুনিক রসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো অনুঘটক বা ক্যাটালিস্ট, যা জ্বালানি থেকে শুরু করে সার ও পলিমার তৈরিতে অপরিহার্য। এতদিন এই কাজে প্লাটিনাম বা প্যালাডিয়ামের মতো অত্যন্ত দামি ও দুর্লভ ধাতু ব্যবহৃত হতো, যার অধিকাংশ পরমাণুই নিষ্ক্রিয় থেকে অপচয় হতো। এই সমস্যার সমাধানে চীনের বিজ্ঞান একাডেমির গবেষক চাং থাও এবং তার দল ২০১১ সালে ‘সিঙ্গেল-অ্যাটম ক্যাটালিসিস’ বা ‘একক-পরমাণু অনুঘটক’ ধারণাটি প্রবর্তন করেন।

এই পদ্ধতিতে ধাতব পরমাণুগুলোকে কোনো পদার্থের পৃষ্ঠতলে এককভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, ফলে ধাতুর ব্যবহার দক্ষতা কয়েক শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১০০ শতাংশে উন্নীত হয়। শুধু তাই নয় এই উদ্ভাবন অনুঘটক গবেষণাকে ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ বা ভুল থেকে শেখার পদ্ধতি থেকে সরিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক নকশার পথে নিয়ে এসেছে।

এ ছাড়া বর্তমানে প্রায় ১০০টি দেশ ও অঞ্চলের হাজার হাজার গবেষক এই বিষয়ে ২০ হাজারেরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন এবং প্রযুক্তিটি ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

১৯৮০-এর দশকে পিএইচডি গবেষণার সময় চাং থাও এই ধারণাটি প্রথম প্রস্তাব করেন। তৎকালীন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ও তার দল দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রচেষ্টায় একে বাস্তবে রূপ দেন।

তার মতে, এই অর্জন কেবল একাডেমিক সাফল্য নয়, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাসায়নিক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার সিমুলেশনের সহায়তায় এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে বিশ্বজুড়ে সবুজ রসায়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সূত্র: সিএমজি বাংলা