ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘অন্যদের সমালোচনা বা বিচার করার নৈতিক অবস্থানে নেই জাপান’ Logo এক সুতোয় চীন-ফ্রান্স-ইউরোপ: বেইজিংয়ে ব্যতিক্রমীি আলোকচিত্র প্রদর্শনী Logo উষ্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবেলায় চীনের শীতল-শহর উদ্যোগ Logo একক-পরমাণু অনুঘটক ধারণার প্রবর্তন করে রসায়ন শিল্পে পরিবর্তন আনলো চীন Logo চীনের তিন-স্তরের জাতীয় প্রবীণ পরিচর্যা নেটওয়ার্ক গঠনের পরিকল্পনা Logo সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সিএনজি অটোরিক্সা-অটোটেম্পু শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভা Logo কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা Logo মহেশপুরে ড্রেন নির্মাণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু Logo মহেশপুরে দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ Logo ঝিনাইদহে যুবদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ

উষ্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবেলায় চীনের শীতল-শহর উদ্যোগ

গণমুক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ২৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়তে থাকায় চীনের বিভিন্ন শহরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের বদলে, চীন শহরভিত্তিক সমন্বিত শীতলীকরণ অবকাঠামো গড়ে তুলছে, যেখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, কেন্দ্রীভূত শীতলীকরণ ব্যবস্থা এবং স্মার্ট শক্তি ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করা হচ্ছে।

চীনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো উষ্ণতর গ্রীষ্মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন এবং আরও সবুজ ও টেকসই নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো জেলা-ভিত্তিক কেন্দ্রীভূত শীতলীকরণ ব্যবস্থা। এতে প্রতিটি অফিস ভবন, শপিং মল বা আবাসিক কমপ্লেক্সে আলাদা শীতলীকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি কেন্দ্র থেকে শীতল পানি উৎপাদন করে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে একাধিক ভবনে সরবরাহ করা হয়। ভবনের ভেতরের তাপ শোষণ করার পর সেই পানি আবার কেন্দ্রে ফিরে এসে পুনরায় শীতল হয়। ফলে একটি ধারাবাহিক চক্র ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

একটি পুরো এলাকার জন্য একই অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন কমে, শক্তির দক্ষতা বাড়ে এবং ভবনের মূল্যবান স্থানও সাশ্রয় হয়।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের শেনচেন শহরের ছিয়ানহাই সহযোগিতা অঞ্চল এ ধরনের প্রকল্পের অন্যতম সফল উদাহরণ। শেনচেন ছিয়ানহাই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৫ নম্বর শীতলীকরণ কেন্দ্র, যা চালুর সময় এশিয়ার বৃহত্তম কেন্দ্রীভূত শীতলীকরণ কেন্দ্র ছিল, প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার ভবনে শীতলীকরণ সেবা দিতে সক্ষম। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০টি শীতলীকরণ কেন্দ্র সম্পূর্ণ হলে প্রতিবছর ১৩ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ১ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই মডেল এখন অন্যান্য শহরেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তবে শুধু শীতল পানি উৎপাদন করাই নয়, এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ের চাপ কমানো। এ জন্য চীনের বিভিন্ন শহরে বরফভিত্তিক তাপীয় সঞ্চয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাতে, যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে, তখন বরফ তৈরি করে শীতল শক্তি সংরক্ষণ করা হয়। পরে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সেই সঞ্চিত শীতলীকরণ ব্যবহার করা হয়। এতে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমে এবং সামগ্রিক শক্তি দক্ষতা বাড়ে।

শহরগুলো স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদও কাজে লাগাচ্ছে। বেইজিংয়ের পৌর প্রশাসনিক কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে ভূ-উৎস তাপ পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি গ্রীষ্মে শীতলীকরণ এবং শীতে উষ্ণায়নের জন্য ভূগর্ভস্থ স্থিতিশীল তাপমাত্রাকে কাজে লাগায়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পে পরিশোধিত পানি ব্যবহার এবং শীতলীকরণ, উষ্ণায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকে একীভূত করার মাধ্যমে স্থানীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

 

সূত্র: সিএমজি বাংলা

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

উষ্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবেলায় চীনের শীতল-শহর উদ্যোগ

আপডেট সময় :

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়তে থাকায় চীনের বিভিন্ন শহরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের বদলে, চীন শহরভিত্তিক সমন্বিত শীতলীকরণ অবকাঠামো গড়ে তুলছে, যেখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, কেন্দ্রীভূত শীতলীকরণ ব্যবস্থা এবং স্মার্ট শক্তি ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করা হচ্ছে।

চীনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো উষ্ণতর গ্রীষ্মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন এবং আরও সবুজ ও টেকসই নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো জেলা-ভিত্তিক কেন্দ্রীভূত শীতলীকরণ ব্যবস্থা। এতে প্রতিটি অফিস ভবন, শপিং মল বা আবাসিক কমপ্লেক্সে আলাদা শীতলীকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি কেন্দ্র থেকে শীতল পানি উৎপাদন করে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে একাধিক ভবনে সরবরাহ করা হয়। ভবনের ভেতরের তাপ শোষণ করার পর সেই পানি আবার কেন্দ্রে ফিরে এসে পুনরায় শীতল হয়। ফলে একটি ধারাবাহিক চক্র ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

একটি পুরো এলাকার জন্য একই অবকাঠামো ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন কমে, শক্তির দক্ষতা বাড়ে এবং ভবনের মূল্যবান স্থানও সাশ্রয় হয়।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলের শেনচেন শহরের ছিয়ানহাই সহযোগিতা অঞ্চল এ ধরনের প্রকল্পের অন্যতম সফল উদাহরণ। শেনচেন ছিয়ানহাই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৫ নম্বর শীতলীকরণ কেন্দ্র, যা চালুর সময় এশিয়ার বৃহত্তম কেন্দ্রীভূত শীতলীকরণ কেন্দ্র ছিল, প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার ভবনে শীতলীকরণ সেবা দিতে সক্ষম। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০টি শীতলীকরণ কেন্দ্র সম্পূর্ণ হলে প্রতিবছর ১৩ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ১ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই মডেল এখন অন্যান্য শহরেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তবে শুধু শীতল পানি উৎপাদন করাই নয়, এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ের চাপ কমানো। এ জন্য চীনের বিভিন্ন শহরে বরফভিত্তিক তাপীয় সঞ্চয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাতে, যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে, তখন বরফ তৈরি করে শীতল শক্তি সংরক্ষণ করা হয়। পরে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সেই সঞ্চিত শীতলীকরণ ব্যবহার করা হয়। এতে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমে এবং সামগ্রিক শক্তি দক্ষতা বাড়ে।

শহরগুলো স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদও কাজে লাগাচ্ছে। বেইজিংয়ের পৌর প্রশাসনিক কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে ভূ-উৎস তাপ পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি গ্রীষ্মে শীতলীকরণ এবং শীতে উষ্ণায়নের জন্য ভূগর্ভস্থ স্থিতিশীল তাপমাত্রাকে কাজে লাগায়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পে পরিশোধিত পানি ব্যবহার এবং শীতলীকরণ, উষ্ণায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকে একীভূত করার মাধ্যমে স্থানীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

 

সূত্র: সিএমজি বাংলা