এক সুতোয় চীন-ফ্রান্স-ইউরোপ: বেইজিংয়ে ব্যতিক্রমীি আলোকচিত্র প্রদর্শনী
- আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
চীন, ফ্রান্স ও ইউরোপের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার গল্প এক সুতোয় গেঁথে বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী আলোকচিত্র প্রদর্শনী। শনিবার বেইজিং ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধন হওয়া এই প্রদর্শনী শুধু শিল্পকর্ম প্রদর্শনের আয়োজন নয়, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংলাপ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার একটি সুন্দর উদ্যোগ। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীটি প্রাণবন্ত এক আন্তঃসাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
‘চীনা, ফরাসি ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির ওপর আলোকচিত্রের দৃষ্টি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি, চীনে নিযুক্ত ফরাসি দূতাবাসের প্রতিনিধি, অংশগ্রহণকারী আলোকচিত্রী এবং সাংস্কৃতিক ও শিল্প অঙ্গনের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেইজিং ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তুয়ান ফেং বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী কেবল ছবি দেখানোর আয়োজন নয়; এটি চীন, ফ্রান্স ও ইউরোপের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এ প্রদর্শনী এমন এক সময়ে আয়োজন করা হয়েছে, যখন ২০২৬ সালে ফ্রান্সে আলোকচিত্রের দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আলোকচিত্র শিল্পের ইতিহাস, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সংস্কৃতির সেতুবন্ধন হিসেবে এর ভূমিকা নতুনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
চীনে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ক মিনিস্টার কাউন্সেলর ফ্লোরেন্ট আইদালো তুলে ধরেন প্রদর্শনীর তাৎপর্য।
“এই প্রদর্শনীটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ ২০২৬ সালে ফ্রান্সে আলোকচিত্রের ২০০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে। দুই শতাব্দী ধরে আলোকচিত্র শুধু শিল্পের মাধ্যমই নয়, মানুষের জীবন, ইতিহাস ও স্মৃতিকে ধারণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি এমন একটি সার্বজনীন ভাষা, যা বিভিন্ন দেশের মানুষকে একে অপরের সমাজ, সংস্কৃতি ও জীবনধারা আরও ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে সাহায্য করে।”
প্রদর্শনীটি তিনটি বিভাগে সাজানো হয়েছে—চীন, ফ্রান্স এবং ইউরোপ। প্রতিটি বিভাগে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। চীনের তৃণভূমি, মরুভূমি ও লোকজ উৎসব, ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও নগরজীবন, এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রচলিত অনুষ্ঠান ও দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে। সব মিলিয়ে এটি আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া আলোকচিত্রী অ্যারন বারকোভিচ তার মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
“এখানে অসাধারণ প্রতিভাবান অনেক আলোকচিত্রী আছেন। শিল্পমাধ্যম হিসেবে আলোকচিত্র এমন একটি মাধ্যম, যার মাধ্যমে অন্যদের আপনার চোখে দেখা সম্ভব হয়। তাই চীনা বা ইউরোপীয়—বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়া সত্যিই একটি চমৎকার সুযোগ। এটি মানুষ কীভাবে বিশ্বকে দেখে এবং একে অপরের সংস্কৃতিকে বোঝে, তা আবিষ্কারে সহায়তা করে।”
দর্শক ফুয়েন্তেস ফ্র্যাঙ্কলিন প্রদর্শনী সম্পর্কে নিজের অনুভূতি জানান।
“আমার কাছে এই প্রদর্শনী কেবল কিছু ছবির সংগ্রহ নয়, বরং দুটি দেশ ও দুটি সংস্কৃতির মধ্যে একটি প্রকৃত সংযোগ। এটি যেমন আলোকচিত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে, তেমনি আমাদের প্রত্যেকের সাংস্কৃতিক পটভূমির প্রতিফলনও ঘটায়। এখানে দৃষ্টির সঙ্গে দৃষ্টির বিনিময় ঘটে—কখনও সামাজিক, কখনও স্থাপত্যভিত্তিক, আবার কখনও আলোর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে।”
চীনা ও ফরাসি জনগণের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী বিভিন্ন সংস্কৃতির পারস্পরিক আদান-প্রদান, সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি চীন, ফ্রান্স ও ইউরোপের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংযোগ আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা



















