স্বাধীন ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ
নতুন প্ল্যাটফর্মে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকেরা
- আপডেট সময় : ৮৭ বার পড়া হয়েছে
দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকগণ একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে যাচ্ছেন। গত ২০ মে ২০২৬ বুধবার দেশের ৩৪টি সংবাদপত্রের সম্পাদকগণ এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পর রাষ্ট্র যখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যায়, তখন সমাজের প্রতিটি স্তরে পুনর্গঠন জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় মুক্ত সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতে যে প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক বলয় তৈরি করা হয়, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা সহজ কাজ নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল গণমাধ্যমের ওপর এক ধরনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি বিধিনিষেধের পাশাপাশি ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্বপ্রণোদিত হয়ে সত্য প্রকাশে বিরত থাকার যে সংস্কৃতি গত দিনগুলোয় তৈরি হয়েছিল, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এককভাবে কোনো সম্পাদকের পক্ষে এই ভয়ের দেয়াল ভাঙা সম্ভব নয়। তবে সম্পাদকরা যদি সমষ্টিগতভাবে দৃঢ় অবস্থান নেন, তাহলে তা প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে সাহস জোগাবে। জনগণের জানার অধিকারের প্রতি দায়বদ্ধ সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানই সংবাদকক্ষগুলোকে নির্ভীক সাংবাদিকতায় ফিরিয়ে আনতে পারে।
সম্পাদকগণ জানান, সম্পাদকদের যদি একটি শক্তিশালী ও আপসহীন ঐক্য থাকে, তবে মালিকপক্ষের অন্যায্য এবং ব্যবসায়িক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও তারা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের অন্যায্য চাপও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। সম্পাদকগণ তেমন একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছেন বলে জানান। এ জন্য অচিরেই তারা সাংগঠনিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন: শফিক রেহমান (যায়যায়দিন), মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ), সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (নয়াদিগন্ত), আবদুল হাই শিকদার (যুগান্তর), আবু তাহের (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মারুফ কামাল খান সোহেল (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), হাসান হাফিজ (কালের কণ্ঠ), আযম মীর শহীদুল আহসান (সংগ্রাম), মোকাররম হোসেন (নিউ নেশন), শফিকুল আলম (ওয়াদা), সৈয়দ মেসবাহ উদ্দীন (বাংলাদেশের খবর), রেজাউল করীম লোটাস (ডেইলি সান), মোস্তফা কামাল (খবরের কাগজ), বেলায়েত হোসেন (ভোরের ডাক), ওবায়দুর রহমান শাহীন (জনতা), শহীদুল ইসলাম (মানবকণ্ঠ), মো. সায়েম ফারুকী (রূপালী বাংলাদেশ), মনির হোসেন (খোলা কাগজ), ইলিয়াস খান ( can we check/Times of Bangladesh), মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব (বাংলাবাজার পত্রিকা), শেখ নজরুল ইসলাম (খবর সংযোগ), আবুল কাশেম মজুমদার (ক্যাপিটাল নিউজ), ব্যরিস্টার মো. মারুফ ইব্রাহীম আকাশ (খবরপত্র), শামসুল হক দুররানি (নওরোজ), শাহাদাত হোসেন শাহীন (গণমুক্তি), আফসার উদ্দিন চৌধুরী (কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম), সোহেল মাহবুব (নতুন প্রভাত, রাজশাহী), মাহবুবা পারভিন (অনির্বাণ, খুলনা), খন্দকার মোস্তফা সরোয়ার অনু (দাবানল, রংপুর), মমতাজ শিরিন ভরসা (যুগের আলো, রংপুর), আশরাফুল হক (প্রবাহ, খুলনা), মুক্তাবিস উন নূর (জালালাবাদ, সিলেট), সাইফুল ইসলাম (নিউ টাইমস, ময়মনসিংহ), শান্তনু ইসলাম সুমিত (লোকসমাজ, যশোর)।




















