ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-মাদকের অভিযোগ

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি এবং তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সরকারি জায়গা দখল ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত কয়েক বছর ধরে বাঙ্গরা বাজারের বিভিন্ন সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছে অভিযুক্তরা। অভিযোগ রয়েছে, পেঁয়াজ বাজারের খালি জায়গায় ১৩টি ঘর নির্মাণ এবং মুরগি বাজারের সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
এছাড়া, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার সকালে পুনরায় সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধা প্রদান করেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, শফিকুল ইসলাম শফিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা। স্থানীয়দের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এছাড়া, সরকারি জায়গায় দোকান করে দেওয়ার নামে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও এখনও অনেকের টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় একটি মাজারের দানবাক্স ভেঙে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বারবার প্রশাসনকে অবহিত করার পরও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-মাদকের অভিযোগ

আপডেট সময় :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি এবং তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সরকারি জায়গা দখল ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত কয়েক বছর ধরে বাঙ্গরা বাজারের বিভিন্ন সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছে অভিযুক্তরা। অভিযোগ রয়েছে, পেঁয়াজ বাজারের খালি জায়গায় ১৩টি ঘর নির্মাণ এবং মুরগি বাজারের সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
এছাড়া, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার সকালে পুনরায় সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধা প্রদান করেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, শফিকুল ইসলাম শফিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা। স্থানীয়দের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এছাড়া, সরকারি জায়গায় দোকান করে দেওয়ার নামে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হলেও এখনও অনেকের টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় একটি মাজারের দানবাক্স ভেঙে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বারবার প্রশাসনকে অবহিত করার পরও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।