ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

পরিবার ছাড়া রাজপথে কাটলো যাদের ঈদ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমরা যখন পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যস্ত, তখন একদল মানুষ উৎসবের সমস্ত রঙ ও ঘরের মায়া বিসর্জন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন নিজ নিজ দায়িত্বে। স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের পাশাপাশি সাংবাদিক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুত, ওয়াসা, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবহন, সহ বিভিন্ন পেশার কর্মীদের ঈদের দিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ঈদে দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন পেশার কর্মীরা বলছেন, কাজ করতে গিয়ে মন খারাপ হয়। তবে তাঁরা এটিকে পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে নেন বলে মন খারাপের মাত্রাটা খানিকটা কম থাকে। তাদের উৎসবের পোশাক মানেই কর্মস্থলের ইউনিফর্ম। যাদের ক্লান্তিহীন ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের ঈদ হয়ে ওঠে আনন্দময় ও নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে,ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা আমাদের শুধু পশু কোরবানি নয়, ত্যাগের মানসিকতাও শেখায়। আর এই পেশাজীবীরা যেন সেই ত্যাগেরই জীবন্ত প্রতীক। সমাজ ও মানুষের জন্য তাদের এই নিঃস্বার্থ কর্মব্যস্ততা কেবল দায়িত্ব পালন নয়, বরং মানবতার এক অনন্য উদাহরণ।
বাস্তবতা হলো, ঈদের সকালে যখন চারপাশ ফাঁকা হতে শুরু করে, তখনো মোড়ে মোড়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন একজন পুলিশ বা ট্রাফিক সদস্য। পরিবার-পরিজন থেকে শত মাইল দূরে, উৎসবের দিনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের একমাত্র ব্রত। নামাজ শেষে যখন সবাই ঘরে ফেরে, তখনো রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে পাহারায় থাকেন তারা। তাদের কাছে ডিউটিই যেন উৎসব, আর জনগণের হাসিমুখই ঈদের সালামি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ-বালাই যেমন ঈদ চেনে না। তাই ঈদের সকালেও হাসপাতালের সাদা দেয়ালঘেরা ঘরগুলোতে কারো কোনো ছুটি থাকে না। নিজের সন্তান বা মা-বাবাকে ঘরে রেখে হাজারো অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ঈদের সকালে তীব্র ব্যস্ততার মাঝে কোনো মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানো কিংবা কারও মুখে একটু স্বস্তির হাসি ফোটানোই তাদের ঈদের আনন্দ। হাসপাতালের করিডোরে সাদা অ্যাপ্রোন জড়িয়েই তারা খুঁজে নেন ত্যাগের আসল মহিমা।
এদিকে টেলিভিশনের পর্দায় যে সাংবাদিকটি ঈদের সকালের আনন্দের খবর লাইভ দেখাচ্ছেন, কিংবা রেডিওতে যিনি ঈদের গান শোনাচ্ছেন, তারও কিন্তু আজ ঘরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সংবাদ কখনো থেমে থাকে না। তাই উৎসবের সবটুকু খবর মানুষের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে দিতে ঈদের সকালেও ক্যামেরা কাঁধে বা ল্যাপটপের কি-বোর্ডে আঙুল চালান সাংবাদিক, ক্যামেরাপার্সন এবং টেকনিশিয়ানরা। মানুষের বিনোদন আর তথ্যের খোরাক জোগাতেই কাটে তাদের ঈদের সকাল।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি মাহবুব কবির চপল। তিনি পবিত্র ঈদুল ফিতরে ছুটি কাটিয়েছেন, তাই এই ঈদে ছুটি পাননি। বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। নওগাঁর বাড়িতে থাকেন ৬৫ বছর বয়সী মা রেজিনা বেগম। ছেলে ছুটি পায়নি বলে তিনি চোখের পানি ফেলছেন।
মাহবুব বললেন, ঈদে বাড়ি না গেলে মা খুব কষ্ট পান। আমার নিজেরও মন খারাপ থাকে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়া, কোলাকুলি করা, ঢাকায় এসব কিছুই হয় না। তিনি জানালেন, আজ জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদের জামাতের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল। সেখানে ঈদের নামাজটা পড়েই কাজে লেগে পড়ি।
এছাড়া কোরবানির ঈদের সকালটা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততায় কাটে যাদের, তারা হলেন কসাই ও মাংস কাটার কাজে নিয়োজিত মৌসুমি শ্রমিকরা। তীব্র গরমের মাঝে নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই শুরু হয় তাদের বিরামহীন কায়িক শ্রম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও নিজেদের ঘরে কোরবানির মাংস নিয়ে ফেরার সুযোগ পান না অনেকেই। অন্যের কোরবানি দ্রুত ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করে দেওয়াই ঈদের সকালে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
কোরবানির ঈদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বর্জ্য অপসারণ। আর এই চ্যালেঞ্জ বুক পেতে নেন দুই সিটি কর্পোরেশনের হাজার হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। ঈদের সকাল থেকেই ব্লিচিং পাউডার, ঝাড়ু আর পানির গাড়ি নিয়ে তারা নেমে পড়েন রাজপথে। উৎসবের দিনে চারপাশের নোংরা ও দুর্গন্ধ দূর করে আমাদের সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে তারা নিজেদের ঈদের আনন্দকে উৎসর্গ করেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শহরকে ঝকঝকে রাখাই তাদের ঈদ উদযাপন।
অপরদিকে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন সার্জেন্ট বাকি বিল্লাহ। আজ রাজধানীর বিজয় সরণিতে রাজধানীতে প্রবীণ বা অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখভালের জন্য কেয়ারগিভার পেশা গুরুত্বপূর্ণ পেশায় পরিণত হয়েছে। কেয়ারগিভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসমা বেগমের সঙ্গে কথা হয় আগারগাঁওয়ের প্রবীণ হিতৈষী সংঘে। তিনি সেখানে থাকা একজন প্রবীণের দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছেন। জানালেন, কাজের শর্তই ছিল ঈদে ছুটি নেওয়া যাবে না। তাঁর স্বামী থাকেন দেশের বাইরে। আট বছর বয়সী ছেলে কুমিল্লায় স্বজনদের কাছে।
ঈদে রাজধানী বেশ ফাঁকা থাকে। কিন্তু পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাঁদের একজন সার্জেন্ট বাকি বিল্লাহ। আজ বেলা আড়াইটা থেকে বিজয় সরণিতে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি বিল্লাহর বাবা ও মা থাকেন পাবনায়। ঈদ করার জন্য স্ত্রী আর দুই ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাকি বিল্লাহ বলেন, তিন-চারটা ঈদে ডিউটি করার পর কোনো এক ঈদে ছুটি মেলে। এ ছাড়া পরিবার-পরিজন ছাড়া একা একাই ঈদ করতে হয়। এতে মন খারাপ হয়। পরিবারের সদস্যদেরও মন খারাপ হয়। কিন্তু কিছু তো করার নেই, এটাই আমাদের কাজ।
অন্যদিকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন সাংবাদিক মাহবুব কবির বাসায় একা, তাই বিশেষ কোনো খাবারের ব্যবস্থা ছিল না। ঘরে যা ছিল তা খেয়েই বাকি বিল্লাহ কাজে এসেছেন। তবে দুপুরে কর্তৃপক্ষের দেওয়া পোলাও, গরু ও মুরগির মাংস ও মিষ্টি খেয়েছেন।
এদিকে ঈদুল আজহায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কসাইসহ বিভিন্ন পেশার কর্মীদেরও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করার ফুসরত মেলে না। ছুটি পান না বিভিন্ন বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদেরও। রাজিয়া বেগম মোহাম্মদপুরের কয়েকটি বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ঈদের দিন সকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তাঁকে কাজে যেতে হয়েছে। বললেন, স্বামী কাজকর্ম করতে চান না। এক মেয়ে আর জামাতা বেড়াতে এসেছে। যে বাসায় কাজ করেন সেখান থেকে কোরবানির মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরে রান্না করে সবাইকে খাওয়াবেন।
অন্যদিকে ঈদের দিনে কর্মব্যস্ত থাকতে হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও। চালক নুরুল হক জানালেন, ভোরে বাড়ি থেকে কিছু না খেয়েই বের হয়েছিলেন, পরে হোটেলে খেয়েছেন। তাই ঈদ বলে আলাদা কিছু মনে হচ্ছে না। গরিব মানুষের আবার ঈদ কিসের? অনেকটা আক্ষেপ করেই বললেন তিনি।
ঈদের ছুটিতে ডিউটি করা পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, ঈদের দিন আড়াই থেকে তিন হাজার ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের উন্নতমানের বিশেষ খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন সমস্যা বা আনুসাঙ্গিক সব কিছু দেখভাল করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পরিবার ছাড়া রাজপথে কাটলো যাদের ঈদ

আপডেট সময় :

আমরা যখন পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ব্যস্ত, তখন একদল মানুষ উৎসবের সমস্ত রঙ ও ঘরের মায়া বিসর্জন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন নিজ নিজ দায়িত্বে। স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের পাশাপাশি সাংবাদিক, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুত, ওয়াসা, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবহন, সহ বিভিন্ন পেশার কর্মীদের ঈদের দিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ঈদে দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন পেশার কর্মীরা বলছেন, কাজ করতে গিয়ে মন খারাপ হয়। তবে তাঁরা এটিকে পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে নেন বলে মন খারাপের মাত্রাটা খানিকটা কম থাকে। তাদের উৎসবের পোশাক মানেই কর্মস্থলের ইউনিফর্ম। যাদের ক্লান্তিহীন ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের ঈদ হয়ে ওঠে আনন্দময় ও নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে,ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা আমাদের শুধু পশু কোরবানি নয়, ত্যাগের মানসিকতাও শেখায়। আর এই পেশাজীবীরা যেন সেই ত্যাগেরই জীবন্ত প্রতীক। সমাজ ও মানুষের জন্য তাদের এই নিঃস্বার্থ কর্মব্যস্ততা কেবল দায়িত্ব পালন নয়, বরং মানবতার এক অনন্য উদাহরণ।
বাস্তবতা হলো, ঈদের সকালে যখন চারপাশ ফাঁকা হতে শুরু করে, তখনো মোড়ে মোড়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন একজন পুলিশ বা ট্রাফিক সদস্য। পরিবার-পরিজন থেকে শত মাইল দূরে, উৎসবের দিনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের একমাত্র ব্রত। নামাজ শেষে যখন সবাই ঘরে ফেরে, তখনো রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে পাহারায় থাকেন তারা। তাদের কাছে ডিউটিই যেন উৎসব, আর জনগণের হাসিমুখই ঈদের সালামি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ-বালাই যেমন ঈদ চেনে না। তাই ঈদের সকালেও হাসপাতালের সাদা দেয়ালঘেরা ঘরগুলোতে কারো কোনো ছুটি থাকে না। নিজের সন্তান বা মা-বাবাকে ঘরে রেখে হাজারো অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ঈদের সকালে তীব্র ব্যস্ততার মাঝে কোনো মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানো কিংবা কারও মুখে একটু স্বস্তির হাসি ফোটানোই তাদের ঈদের আনন্দ। হাসপাতালের করিডোরে সাদা অ্যাপ্রোন জড়িয়েই তারা খুঁজে নেন ত্যাগের আসল মহিমা।
এদিকে টেলিভিশনের পর্দায় যে সাংবাদিকটি ঈদের সকালের আনন্দের খবর লাইভ দেখাচ্ছেন, কিংবা রেডিওতে যিনি ঈদের গান শোনাচ্ছেন, তারও কিন্তু আজ ঘরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সংবাদ কখনো থেমে থাকে না। তাই উৎসবের সবটুকু খবর মানুষের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে দিতে ঈদের সকালেও ক্যামেরা কাঁধে বা ল্যাপটপের কি-বোর্ডে আঙুল চালান সাংবাদিক, ক্যামেরাপার্সন এবং টেকনিশিয়ানরা। মানুষের বিনোদন আর তথ্যের খোরাক জোগাতেই কাটে তাদের ঈদের সকাল।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি মাহবুব কবির চপল। তিনি পবিত্র ঈদুল ফিতরে ছুটি কাটিয়েছেন, তাই এই ঈদে ছুটি পাননি। বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। নওগাঁর বাড়িতে থাকেন ৬৫ বছর বয়সী মা রেজিনা বেগম। ছেলে ছুটি পায়নি বলে তিনি চোখের পানি ফেলছেন।
মাহবুব বললেন, ঈদে বাড়ি না গেলে মা খুব কষ্ট পান। আমার নিজেরও মন খারাপ থাকে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়া, কোলাকুলি করা, ঢাকায় এসব কিছুই হয় না। তিনি জানালেন, আজ জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদের জামাতের অ্যাসাইনমেন্ট ছিল। সেখানে ঈদের নামাজটা পড়েই কাজে লেগে পড়ি।
এছাড়া কোরবানির ঈদের সকালটা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততায় কাটে যাদের, তারা হলেন কসাই ও মাংস কাটার কাজে নিয়োজিত মৌসুমি শ্রমিকরা। তীব্র গরমের মাঝে নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই শুরু হয় তাদের বিরামহীন কায়িক শ্রম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও নিজেদের ঘরে কোরবানির মাংস নিয়ে ফেরার সুযোগ পান না অনেকেই। অন্যের কোরবানি দ্রুত ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করে দেওয়াই ঈদের সকালে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
কোরবানির ঈদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বর্জ্য অপসারণ। আর এই চ্যালেঞ্জ বুক পেতে নেন দুই সিটি কর্পোরেশনের হাজার হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। ঈদের সকাল থেকেই ব্লিচিং পাউডার, ঝাড়ু আর পানির গাড়ি নিয়ে তারা নেমে পড়েন রাজপথে। উৎসবের দিনে চারপাশের নোংরা ও দুর্গন্ধ দূর করে আমাদের সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে তারা নিজেদের ঈদের আনন্দকে উৎসর্গ করেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শহরকে ঝকঝকে রাখাই তাদের ঈদ উদযাপন।
অপরদিকে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন সার্জেন্ট বাকি বিল্লাহ। আজ রাজধানীর বিজয় সরণিতে রাজধানীতে প্রবীণ বা অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখভালের জন্য কেয়ারগিভার পেশা গুরুত্বপূর্ণ পেশায় পরিণত হয়েছে। কেয়ারগিভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসমা বেগমের সঙ্গে কথা হয় আগারগাঁওয়ের প্রবীণ হিতৈষী সংঘে। তিনি সেখানে থাকা একজন প্রবীণের দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছেন। জানালেন, কাজের শর্তই ছিল ঈদে ছুটি নেওয়া যাবে না। তাঁর স্বামী থাকেন দেশের বাইরে। আট বছর বয়সী ছেলে কুমিল্লায় স্বজনদের কাছে।
ঈদে রাজধানী বেশ ফাঁকা থাকে। কিন্তু পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাঁদের একজন সার্জেন্ট বাকি বিল্লাহ। আজ বেলা আড়াইটা থেকে বিজয় সরণিতে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি বিল্লাহর বাবা ও মা থাকেন পাবনায়। ঈদ করার জন্য স্ত্রী আর দুই ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাকি বিল্লাহ বলেন, তিন-চারটা ঈদে ডিউটি করার পর কোনো এক ঈদে ছুটি মেলে। এ ছাড়া পরিবার-পরিজন ছাড়া একা একাই ঈদ করতে হয়। এতে মন খারাপ হয়। পরিবারের সদস্যদেরও মন খারাপ হয়। কিন্তু কিছু তো করার নেই, এটাই আমাদের কাজ।
অন্যদিকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন সাংবাদিক মাহবুব কবির বাসায় একা, তাই বিশেষ কোনো খাবারের ব্যবস্থা ছিল না। ঘরে যা ছিল তা খেয়েই বাকি বিল্লাহ কাজে এসেছেন। তবে দুপুরে কর্তৃপক্ষের দেওয়া পোলাও, গরু ও মুরগির মাংস ও মিষ্টি খেয়েছেন।
এদিকে ঈদুল আজহায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কসাইসহ বিভিন্ন পেশার কর্মীদেরও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করার ফুসরত মেলে না। ছুটি পান না বিভিন্ন বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদেরও। রাজিয়া বেগম মোহাম্মদপুরের কয়েকটি বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ঈদের দিন সকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তাঁকে কাজে যেতে হয়েছে। বললেন, স্বামী কাজকর্ম করতে চান না। এক মেয়ে আর জামাতা বেড়াতে এসেছে। যে বাসায় কাজ করেন সেখান থেকে কোরবানির মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরে রান্না করে সবাইকে খাওয়াবেন।
অন্যদিকে ঈদের দিনে কর্মব্যস্ত থাকতে হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও। চালক নুরুল হক জানালেন, ভোরে বাড়ি থেকে কিছু না খেয়েই বের হয়েছিলেন, পরে হোটেলে খেয়েছেন। তাই ঈদ বলে আলাদা কিছু মনে হচ্ছে না। গরিব মানুষের আবার ঈদ কিসের? অনেকটা আক্ষেপ করেই বললেন তিনি।
ঈদের ছুটিতে ডিউটি করা পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, ঈদের দিন আড়াই থেকে তিন হাজার ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের উন্নতমানের বিশেষ খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন সমস্যা বা আনুসাঙ্গিক সব কিছু দেখভাল করা হচ্ছে।